নিজস্ব সংবাদদাতা
ক্রিকেট বিশ্ব পেল নতুন চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে। রবিবার লর্ডসে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হল ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। এই প্রথম সুপার ওভারে জয় পেয়ে কোন ক্রিকেট দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির ঘটল। ১০০ ওভার ক্রিকেট খেলার পরও হার মানল না কোনও দল। ৪৪ বছরের বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথমবার আয়োজিত হল সুপার ওভার। তাতেও ফয়সালা হল না। দু’দলই সুপার ওভারে তুলল ১৫ রান করে। ৫০ ওভারের ব্যাটিংয়ে বেশি বাউন্ডারি মারায় চ্যাম্পিয়ন হল ইংল্যান্ড। ১৯৮৭ ও ১৯৯২ সালে দুবার ফাইনালে উঠলেও, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের কাছে দুবারই হারতে হয়েছিল ব্রিটিশদের। কিন্তু ইয়ান বোথাম, গ্রাহাম গুচ নীল ফেয়ারব্রাদারদের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন রবিবার বিকেলে পূরণ করলেন মর্গানরা।
এদিন প্রথমে ব্যাট করে হেনরি নিকোলসের ৫৫ ও টম ল্যাথামের ৪৭ রানে ভর করে ৫০ ওভারে ২৪১ তোলে নিউজিল্যান্ড। ইংল্যান্ডের পক্ষে ওকস ও প্লাঙ্কেট ৩টি করে উইকেট নেন। প্রথম থেকেই নির্দিষ্ট লাইন লেন্থে বল শুরু করেন ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্টরা। প্রথম ধাক্কা দেন হেনরি। জেসন রয়কে ১৭ রানের মাথায় প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি। তারপরেই জো রুট ৭, ও অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান ৯ করে আউট হয়ে যান। বেয়ারস্ট কিছুটা চেষ্টা করলেও ৩৬ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ৮৬ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ায় চাপে পড়ে গিয়েছিল মর্গ্যান-জো রুটরা।
তারপরে হাল ধরেন বাটলার ও বেন স্টোকস। দু’জনে মিলে দলকে জয়ের পথে অনেকটাই নিয়ে যান। দু’জনেই নিজেদের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। বেশি আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছিল বাটলারকে। কিন্তু ৫৯ রানে বাটলার আউট হয়ে যাওয়ায় ফের ম্যাচ ঘুরে যায় কিউয়িদের পক্ষে। একদিকে স্টোকস থাকলেও অন্য দিকে উইকেট পড়ছিল ধারাবাহিক ভাবে।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৫ রান। প্রথম দুই বলে রান হয়নি। তৃতীয় বলে ছক্কা মারতে যান স্টোকস। বাউন্ডারির মধ্যে বোল্ট ক্যাচ ধরলেও তাঁর পা লেগে যায় বাউন্ডারিতে। ফলে ছক্কা হাঁকানন স্টোকস। পরের বলে আরও চমক। দু’রান নিতে গিয়েছিলেন স্টোকস। তাঁকে রানআউট করার জন্য রকেট থ্রো করেন গাপটিল। কিন্তু সেই বল স্টোকসের ব্যাটে লেগে চার রান ওভার থ্রো হয়ে যায়। ফলে সেই বলেও ৬ রান হয়। কিন্তু শেষ বলে দু’রান নিতে পারেননি তিনি। ফলে খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। স্টোকস ৮৪ করে নট আউট থাকেন।
সুপার ওভারেও নাটক। প্রথমে ব্যাট করে ১৫ তোলেন বাটলার ও স্টোকস। নিউজিল্যান্ড ব্যাট করতে নামলে দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মারেন নিশাম। ফলে খেলা ঘুরে যায় নিউজিল্যান্ডের দিকে। শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। কিন্তু সেই বলে রান আউট হয়ে যান মার্টিন গাপটিল। ফলে সুপার ওভারও টাই হয়। কিন্তু ম্যাচ চলাকালীন বেশি বাউন্ডারি মারার হিসেবে ম্যাচ জিতে যায় হোম টিম। নিউজিল্যান্ড মারে ১৬ টি বাউন্ডারি, ইংল্যান্ড মারে ২৪টি বাউন্ডারি!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news