নিজস্ব সংবাদদাতা, রামপুরহাট:
মশা মারতে স্প্রে করার দাওয়াই দিয়েছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই সঙ্গে সর্বত্র মশারি টাঙ্গানোর নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু মশারির ফাঁক গলে বীরভূম জেলা পরিষদে অতিরিক্ত দিনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১৩ জন ভূতুড়ে প্রার্থী। অধিকাংশ প্রার্থী সিম্বল ছাড়াই বিরোধীদের দলের নামে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই ভূতুড়ে প্রার্থীরা আবার শাসক দলের প্রার্থীদের নিকট আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় শাসক দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা।
রামপুরহাট মহকুমা শাসকের অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার অতিরিক্ত দিনে ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের ২৬ নম্বর আসনে জেলা পরিষদের নির্দল প্রার্থী হয়েছেন দুরখি গ্রামের সুদীপ সরকার। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সুদীপ সরকার তারাপীঠের একটি হোটেলে কাজ করেন। তাঁর বাড়ির সকলে তৃণমূল করে। নির্বাচন কমিশনের চোখে ধুলো দিতে তাঁর মনোনয়ন জমা করিয়েছে তৃণমূল”। রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের ২৯ নম্বর আসনে জেলা পরিষদের নির্দল প্রার্থী হয়েছেন কুসুম্বা গ্রামের মিঠুন দাস। রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের ৩৪ নম্বর আসনে জেলা পরিষদে ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী হয়েছেন ফুলুডাঙ্গা গ্রামের মিনারুণ শা। তাঁর দাদা মান্নার শা এবার একই আসনে জেলা পরিষদের তৃণমূল প্রার্থী। মান্নার বলেন, “আমার সঙ্গে ভাইয়ের সম্পর্ক নেই। কেন প্রার্থী হয়েছে বলতে পারব না”। যদিও ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা কার্যকারী সভাপতি কামাল হাসান বলেন, “ওই পদে আমাদের প্রার্থী ঠিক ছিল ফজলে নূর আব্বাসি। সে মনোনয়ন জমা দিতে গেলে তাঁকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমাদের নামে যিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছে তিনি দলের লোক নন। নির্বাচন কমিশনকে বিভ্রান্ত করতে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে”। নলহাটি ১ নম্বর ব্লকের ৩৯ নম্বর আসনে জেলা পরিষদ সিপিএম প্রার্থী হয়েছেন বাউটিয়া গ্রামের বচ্চন রবি দাস। পেশায় পাথর ব্যবসায়ী বচ্চন রবি দাসকে ফোনে ধরা হলে তিনি শুনতে পাননি বলে ফোন কেটে দেন। তবে সিপিএমের নলহাটি এরিয়া সদস্য সনৎ প্রামাণিক বলেন, “আমাদের প্রস্তাবিত প্রার্থী ছিল চন্দ্রকান্ত মাল। কিন্তু তিনি শাসক দলের বাধায় মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি। বচ্চন রবি দাস আমাদের সদস্য নয়। ওকে শাসক দলই কমিশনকে দেখানোর জন প্রার্থী করেছে। তবে ওই প্রার্থী মনোনয়ন তুলে নেবে। নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের ৩১ নম্বর আসনে জেলা পরিষদে সিপিএমের ভুতুড়ে প্রার্থী করা হয়েছে জাহাঙ্গীর করিম নামে বারা গ্রামে এক ব্যক্তিকে। সিপিমের এরিয়া কমিটির সদস্য আব্দুস সামাদ বলেন, “আসলে ওই আসনে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন আবু জাহের রাণা। তারই ভাগ্নে জাহাঙ্গির। আমাদের প্রস্তাবিত প্রার্থী ছিলেন খায়রুল হাসান। তাঁকে মনোনয়ন জমা দিতে দেয়নি শাসক দলের দুষ্কৃতীরা। ওটা তৃণমূলের ভুতুড়ে প্রার্থী”। নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের ৩২ নম্বর আসনে জেলা পরিষদের বিজেপি প্রার্থী করা হয়েছে উজিরপুর বেলুয়া গ্রামের অশোক কুমার দাস নামে জনৈক ব্যক্তিকে। মুরারই ১ নম্বর ব্লকের ৪২ নম্বর আসনে জেলা পরিষদের বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন সঞ্জীব কুমার ভকত। তাঁর দাদা কালু ভকত এবার রাজগ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হয়েছেন। কালু ভকত বলেন, “আমার ভাই কেন বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন বলতে পারব না। তাঁর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক নেই”। ভাইয়ের নম্বর চাইলে তিনি জানিয়ে দেন ভাইয়ের নম্বর নেই। মুরারই ২ নম্বর ব্লকের ৩৫ নম্বর আসনে জেলা পরিষদের ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী হয়েছেন হাবিসপুর গ্রামের সামসুনেহার বেগম। যদিও ওই নামে তাঁদের কোন প্রার্থী নেই বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক। এভাবেই বীরভূম জেলায় ১৩ টি ভূতুড়ে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে জেলা পরিষদে। একই ভাবে পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত আসনেও ভূতুড়ে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব ভট্টাচার্য বলেন, “যাঁরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তাঁরা সকলেই মানুষ। কেউ ভূত নয়। আমরা কাউকে বাধা দিইনি বলেই তাঁরা মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছে”। আর মশারি ভেদ করে ভিতরে মশা ঢুকল কিভাবে? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “জেলা সভাপতি যেমন মশারির কথা বলেছেন, তেমনই বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য সাহায্য করারও কথা বলেছেন”। তবে শেষ দিন পর্যন্ত ওই ভূতুড়ে প্রার্থীরা থাকবেন কিনা তা বলতে পারেননি ত্রিদিববাবু।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news