নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
দুর্গাপুর: কয়লার জোগান কম। আর তার জেরে চরম সঙ্কটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলি। কয়লার টান পড়ায় পুজোর আগে চরম সঙ্কটে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি)। অন্ধকারে ডুবতে পারে রাজ্য।
ডিভিসি সুত্রে খবর, তাদের মোট তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৭১৪০ মেগওয়াট। যার মধ্যে রাজ্য সরকারের সঙ্গে চুক্তিমাফিক বিদ্যুৎ দিতে হয় ২৩৭০ মেগওয়াট। এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থাকে দিতে হয় প্রায় ৩ হাজার মেগওয়াট। গত ৮-৯ মাস ধরে কয়লার জোগান কম আসছে বলে অভিযোগ। যা সম্প্রতি চরমে পৌঁছেছে। ডিভিসিকে কয়লা দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কোল ইন্ডিয়া। সম্প্রতি রেক মাধ্যমে কয়লা পাঠানোয় সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোল ইন্ডিয়া। সড়ক পরিবহন মাধ্যমে কয়লা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যা বিশাল পরিমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে বিপদে ফেলছে। কারণ কয়লার জোগানে টান পড়েছে। তারপর বর্ষার কারণে কয়লা উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায় সঙ্কট আরও চরম হয়েছে। ডিভিসি সুত্রে খবর, প্রতিমাসে সবকটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র মিলিয়ে ডিভিসির কয়লার প্রয়োজন হয় ২৩.৩ লক্ষ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে এপ্রিল মাসে কোল ইন্ডিয়ার কাছ থেকে কয়লা পাওয়া গেছে ২২.৮২ লক্ষ মেট্রিক টন, মে মাসে ২০.৩৪ লক্ষ মেট্রিক টন, জুন মাসে ১৯.৬১ লক্ষ মেট্রিক টন, জুলাই মাসে ১৮.৪৭ লক্ষ মেট্রিক টন। এবং চলতি আগষ্ট মাসে জোগান আরও কমেছে বলে দাবি ডিভিসির। কয়লার জোগান কম হওয়ায় সব থেকে বেশি সঙ্কটে পড়েছে এরাজ্যের মেজিয়া, রঘুনাথপুর ও অন্ডাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে।
জানা গিয়েছে, মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ক্ষমতা ২৩৪০ মেগওয়াট। বর্তমানে ৮টি ইউনিটের মধ্যে ৫টি ইউনিট কয়লার অভাবে বন্ধ। এবং ৭০০- ৮০০ মেগওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। একইরকম রঘুনাথপুর কেন্দ্রটিতে ৬০০ মেগওয়াট ক্ষমতা থাকলেও কয়লার অভাবে আড়াইশ মেগওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আবার অন্ডালে ৫০০ মেগওয়াটের মধ্যে ৩৫০ মেগওয়াট উৎপাদন হচ্ছে। একইরকম অবস্থা দুর্গাপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের। সব মিলিয়ে চরম সঙ্কটে ডিভিসির বিদ্যুৎ উৎপাদন। এর মধ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে ২০০ মেগওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার চুক্তি হয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কিভাবে তা দেওয়া সম্ভব হবে ভেবে পাচ্ছেন না ডিভিসি কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ, চাহিদা থাকলেও বিদ্যুৎ জোগান দিতে অপারগ হয়ে পড়েছে ডিভিসি। ফলত দুর্গাপুর, আসানসোলে বিভিন্ন বেসরকারি কলকারখানায় উৎপাদন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যদিও ডিভিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিকল্প উপায়ে কয়লার জোগান মেটানোর পরামর্শ দিলেও, তা সময় সাপেক্ষ। তাই রেক মাধ্যমে কয়লা জোগান চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। যদিও রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লা উত্তোলক সংস্থা ইসিএলের কার্যনির্বাহী আধিকারিক নিলাদ্রী রায় সাফাই দেন, ‘বর্ষার কারনে ১০ শতাংশের মতো কয়লা উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে। তবে ডিভিসির কয়লার রেক স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।’
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news