প্রসেনজিৎ ধর:
টলিপাড়ার দায়িত্ব কে? শঙ্কু না দিলীপ? টালিগঞ্জ স্টুডিও পাড়ার ভবিষ্যৎ নেতা তথা চালক যে এই দু’জনের একজন হতে চলেছেন, তা এতদিনে পরিস্কার। কিন্তু সাম্প্রতিককালে একই দলের দুই নেতা রাজ্যের চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ অভিভাবক হওয়ার দৌড়ে ঝাপিয়ে পড়ায় কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। প্রসঙ্গত, ২০২১ এখনও দূর হলেও রাজ্যে শক্তি সক্ষমতায় বিজেপি বর্তমানে শাসক দলের সমান সমান, এমনকী কোথাও কোথাও প্রধান বিরোধী দলের সক্ষমতা তৃণমূলের চেয়েও বেশি হয়ে উঠছে। হাওয়া বুঝে হুড়মুড় শব্দে দল বদল চলছে। তৃণমূল অতীত, বিজেপিই ভবিষ্যৎ বুঝে পাড়ার ছোট নেতা থেকে বিধায়ক, সাংসদরা পর্যন্ত রাতারাতি নীতি, আদর্শ বদলে ফেলছেন (অবশ্য সে জিনিস যদি তাঁদের থেকে থাকে)। আসল কথা হল, সেই ধারা বজায় রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রের শ্রমিক সংগঠনগুলিও বিজেপির ছাতার তলায় নাম লেখাতে তৎপর। সেই তালিকায় রয়েছে টলিপাড়াও। সেই সূত্রে লোকসভা ভোটে ভালো ফলের পর থেকেই রাজ্যে বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের পাখির চোখ টালিগঞ্জ। অপরপক্ষে রয়েছেন একসময় তৃণমূলের দাপুটে ছাত্রনেতা, বর্তমানে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানো শঙ্কুদেব পন্ডা। বেশ কিছু অভিনেতা, অভিনেত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শঙ্কু ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বাংলার চলচ্চিত্র শিল্পের শ্রমিক সংগঠনের দখল নিতে। শঙ্কুর সঙ্গে আছেন মিলন ভৌমিকের মতো কেউ কেউ। এভাবে একই দলের সিনিয়র ও জুনিয়রের মুখোমুখি হয়ে পড়ায় বেঁধেছে গোলমাল।
এদিকে টালিগঞ্জের কলাকুশলীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ফ্লোরে কাজের সময় বেঁধে দেওয়া সত্ত্বেও তাঁদের দিয়ে ওভার টাইম করানো হয়। অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক তো দূর, রোজকার কাজের পাওনাও বকেয়া থাকে। তাঁদের আরও অভিযোগ, কলাকুশলীদের সঙ্গে হওয়া জুলুম নিয়ে বলার মতো কেউ নেই। এমত পরিস্থিতিতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ফ্যাশান ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল ও সংঘমিত্রা চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে টলিপাড়ার শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে একটি সংঘঠনের পরিকল্পনা করেন। যদিও দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়ায় তৃণমূলের শ্রমিক সংঘঠন রয়েছে। তবে সেই সংঘঠন সেভাবে কলাকুশলীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না বলেই অভিযোগ। এরপরেই ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স এন্ড কালচারাল কনফেডারেশন নামে একটি অরাজনৈতিক সংঘঠন গড়া হয়। যাদের অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ। এর কয়েকদিন আগেই বঙ্গীয় চলচিত্র পরিষদ নামে একটি সংঘঠন তৈরি হয়, যার মূল দায়িত্বে রয়েছেন শঙ্কুদেব পণ্ডা। রাজ্যে বিজেপির নেতা মিলন ভৌমিকও আছেন এই সংগঠনটির সঙ্গে। সদস্য হিসেবে নাম রয়েছে লোকসভা ভোটে হাওড়া থেকে দাঁড়ানো প্রখ্যাত সাংবাদিক ও বিজেপি নেতা রন্তিদেব সেনগুপ্তের। যদিও রন্তিদেবের বক্তব্য, আমার অজান্তে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর সাফ কথা, যেই দুটো সংঘঠন হয়েছে টলিপাড়ায় তার কোনওটিতেই আমি নেই। সব মিলিয়ে গেরুয়া শিবিরের দুই সংগঠনের, দুই নেতৃত্বের ধাঁধায় বিষয় বেজায় জটিল হয়ে উঠেছে।
এমত অবস্থায় গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতে ইচ্ছুক বহু অভিনেতা, অভিনেত্রী, কলাকুশলীদের মুখে সোনা যাচ্ছে—কোন সংগঠনে যুক্ত হব বুঝতে পারছি না! এদিকে শঙ্কু শিবিরের নেতা বঙ্গীয় চলচ্চিত্র পরিষদের অন্যতম সদস্য মিলন ভৌমিক বলছেন, সংঘ আমাদের ছাড়পত্র দিয়েছে তাই আমরা এই সংঘঠন খুলেছি, তাঁর প্রশ্ন, পার্টি একটা তাহলে শ্রমিক সংঘঠন দুটো হবে কেন? তিনি বলেন, আমরা চাই যারা নতুন করে সংগঠন গড়েছেন তাদেরও সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে। তবে তাঁদের আমাদের সংগঠনে যোগ দিতে হবে। এ’বিষয়ে দিলীপের সংগঠনের অন্যতম সদস্য অগ্নিমিত্রা পলের সঙ্গে যোগাযোগ করে হলে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র টলিপাড়ায় নয়, রাজ্যের বিভিন্ন পেশার শিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে চাই। যেমন, বাঁকুড়া জেলার টেরাকোটা শিল্পীদের নিয়ে কাজ করব।’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘এক্ষেত্রে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয় নেই। ওঁরা ওঁদের মতো করে কাজ করবে, আমরা আমাদের কাজ করব।’ অর্থাৎ বিভাজন স্পষ্ট।
এখন দেখার সংঘ তথা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোন সংঘঠনের কাঁধে টলিপাড়ার দায়িত্ব তুলে দেয়।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news