চ্যানেল হিন্দুস্থান নিউজ ডেস্ক:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সুবুদ্ধি ‘ হয়েছে বলে মঙ্গলবার কটাক্ষ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন সকালে নিউটাউন ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমনে আসেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ।
উল্লেখ্য, ডেঙ্গু নিয়ে পুরসভা আর স্বাস্থ্য দফতরের পরিষেবায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে সোমবার রিভিউ মিটিংয়ের পর যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মজা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এখন উনি খুব ভালো ভালো কথা বলছেন। আমি জানি না পরিস্থিতিটা কি। মোদীজি না ডাকতেই দেখা করতে যাচ্ছেন। এখানে আবার গঙ্গা আরতি করতে বলছেন, আসলে বয়স হলে মানুষের সৎ বুদ্ধি হয় উনি হয়তো সেদিকেই যাচ্ছেন।”
এরপর রীতিমতো সুর চড়িয়ে সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “সরকারি অফিসারদেরকে কি কাজ করতে দিয়েছেন?তাদেরকে দিয়ে সরকার লক্ষী ভান্ডার বিতরণ করাচ্ছেন, লোক নেই দপ্তরে সব করতে হচ্ছে যে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দিয়েছেন তাতে কাজ হয়নি। হাসপাতালে নিচ্ছে না, তার দোষ অফিসারদের নয়। আপনি সবকিছুতে রাজনীতি করবেন তার দায়িত্ব অফিসারদের ঘাড়ে চাপাবেন?”
ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক জেলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দলীয় গোষ্ঠী কোন্দলের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে, আর এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই বসিরহাটে এক পুলিশ কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হাওয়ার ঘটনাতে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমি আগেই বলছিলাম পুলিশের এখন বড় কাজ হচ্ছে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্ধ মেটানো। টাকা পয়সা তুলে দেওয়া, সংগঠনের কাজ করা, ভোট জেতানোর পর এখন তৃণমূলের মধ্যে যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে সেটা পুলিশকে দিয়ে মেটাতে হচ্ছে এবং পুলিশকে গুলি খেতে হচ্ছে। সমস্ত সমাজ বিরোধীদের নিয়ে তৃণমূল পার্টিটা আছে গন্ডগোল মারপিট হবেই। পুলিশের ক্ষমতা নেই সমাজবিরোধীদের গায়ে হাত দেওয়া। পুলিশ পার্টিটাকে চালিয়ে ভোট জিতিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে জানিনা আর কতজনকে শহীদ হতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষনা মতো দুয়ারে সরকার প্রকল্প আবার শুরু হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে মানুষ যেন ফিরে না যায়। এপ্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষে বলেন,” ফিরে যাচ্ছেন না টাকা না থাকলে মানুষ ফিরে যাবে। মানুষের আগ্রহ কমে গেছে, যাকে টাকা দিচ্ছেন তাদেরকে বলছেন পার্টির মিছিলে যেতে হবে, দিদির প্রোগ্রামে আসতে হবে। এখন বুঝতে পেরেছে লোকে ৫০০ টাকা দিয়ে আমাদের পার্টির ক্যাডার বানিয়ে দিয়েছে সব জায়গায় যেতে হবে সেই জন্য লোকের আগ্রহ নেই। আর দোষ পড়ছে অফিসারদের ঘাড়ে।”
তৃণমূল বিধায়কের জন্মদিনে হাজির ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় থানার ওসি। বিধায়কের কাটা কেকও খান তিনি। সেই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই জেলায় শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “এখন নেতাদের সঙ্গে পুলিশ অফিসারদের খুব ভালো দহরম মহরম।দিদি বলেছেন ভাগ করে খাও,ভাগ করে খাচ্ছে। সেই জন্য জন্মদিনে তো যাবেই এক জায়গা থেকে মাল কড়ি আসছে।”
গঙ্গার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী ববি হাকিমকে ধমক দিয়েছেন। এই নিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ- সভাপতির বক্তব্য, ” কাজ হচ্ছে না এটা সবাই জানে, আর তাই মমতা ব্যানার্জি ববি হাকিমকে ধমকাচ্ছেন ববি হাকিম গিয়ে হয় পুলিশকে ধমকাচ্ছেন। উনারা কি করবেন মানুষ যেটা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন উনারা বলছেন মানতে বাধ্য হচ্ছেন যে কোন কাজই হয় না ৯০% কাজ হয়ে গেছে পাঁচ বছর আগে বলেছিলেন এখন দেখা যাচ্ছে কিছুই হয়নি চোখে চোখ রেখে কথা বলছে জঙ্গলমহলের মহিলারা। মমতা ব্যানার্জির চোখে চোখ রেখে কথা বলেছেন আমরা কিছুই পাইনি। যেটা আমরা বলতাম সেটা আজ সাধারণ মানুষ বলছে আর উনারা স্বীকার করতে আরম্ভ করেছেন এটা কিন্তু বলে লাভ কি আছে?”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news