নিজস্ব সংবাদদাতা:
দিলীপ ঘোষ আছেন দিলীপ ঘোষেই। ৫ রাজ্যে বিজেপির খারাপ ফলের পরেও তিনি যেভাবে বুক চিতিয়ে আশ্চর্য, অদ্ভুত সব মন্তব্য করলেন আজ মিডিয়ার সামনে তাতে বহু বিজেপি সমর্থকেরই ঢাকাচাপা প্রশ্ন—‘কাকে দিয়েছি রাজার পার্ট!’
মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অনেক দিন পর কংগ্রেস বিজেপির সঙ্গে লড়াই দেওয়ার মতো জায়গায় এল। এর বেশি না।’ কথা হল যখন বিজেপির অন্যতম জোটসঙ্গী শিবসেনার সঞ্জয় রাউতের মন্তব্য, মানুষের ক্ষোভের প্রকাশ, বিজেপিকে এবার ভাবতে হবে। এমনকী কৈলাশ বিজয়বর্গীয় পর্যন্ত আত্মসমালোচনার ভঙ্গিতে বলেছেন, প্রার্থী নির্বাচনে ভুল হয়েছে। তখন দিলীপ ঘোষ যথারীতি বলের লাইন লেন্থের পরোয়া না করে আড়াআড়ি ব্যাট চালালেন। রাজ্যে আজকের ফলফলের প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাওয়া হলে দিলীপ বললেন, ‘স্টেডিয়ামে খেলছে কংগ্রেস-বিজেপি। টিএমসি ছাগলের তৃতীয় বাচ্চার মতো গ্যালারিতে বসে লাফাচ্ছে।’ এই বক্তব্যে যে রাজনৈতিক বোধজ্ঞান সমৃদ্ধ নয়, এই বক্তব্য যে সমালোচনার জন্য সমালোচনা, তা আর বলে দিতে হয় না। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত সাধারণ মানুষ কিন্তু প্রশ্ন তুলতেই পারেন, একটি সর্বোভারতীয় দলের রাজ্য সভাপতির মুখের ভাষা এমন কেন সব সময়?
দিলীপ আজ নিজেই বললেন, কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে আইসিইউতে। অতএব লোকসভায় টিএমসির সঙ্গে লড়তে হবে। কিন্তু তারপরেও এত মাস্তানি মন্তব্য! অথচ এরাজ্যে গেরুয়া শিবির সবে ডানা মেলতে শুরু করেছে, নেই থেকে সবে আছে হয়ে উঠছে! তবে এও কিছু না। এরপর দিলীপ বলেন, ‘কংগ্রেস জিতছে আর বিজেপি হারছে দেখে টিএমসি কী ভাবছে! এতে কিন্তু সিবিআইয়ের অ্যাক্টিভিটি কমবে না।’
এ’ কথার মানে কী? এ’কথা বলে দিলীপ ঘোষ কী বোঝাতে চাইলেন? সিবিআই রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে কি শিলমোহর বসিয়ে দিলেন না? একেই হয়তো বলে দায়িত্বজ্ঞানহীনতাঁর চরম দৃষ্ঠান্ত। এতে করে দিলীপ সম্ভাবত দলের মুখ পোড়ালেন। তবে এমন ভঙ্গিতেই তিনি বহুদিন ধরে খেলে আসছেন। বেপরোয়া কথা বলাই তাঁর ইউএসপি। এই মাস্তানিটা অনেক সময় কাজেও লাগে। কিন্তু কথা হল, পিচ ও বোলার বুঝে না খেললে আউট হতে হয় বোকার মতো। সে সব নিয়ে অবশ্য তিনি ভাবতে রাজি হবেন বলে মনে হয় না। তাই সংসদে বিরোধীদের একজোট হওয়া নিয়ে তাঁর মন্তব্য—‘অস্তিত্ব বাঁচাও কমিটির মিটিং।’ হায়, দিলীপের মতো পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ কি বোঝেন না, স্থান কাল নির্বিশেষে অস্তিত্ব সবাইকেই বাঁচাতে হয়, বা হতে পারে। আজকের দিনের ফলাফলের পর তো তা বেশি করে বোধগম্য হওয়া উচিত। কিন্তু তিনি যেহেতু দিলীপ ঘোষ। তাই লাগাম ছাড়া, বেপরোয়া। তাই তিনি রাহুল গাঁধী সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারেন, ‘এর আগে ২৭টা নির্বাচনে হেরেছিল। লোকসভাতে ও জিতে যাবে বলে যারা মনে করছে তাদের মস্তিষ্কের সুস্থতা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।’ আচ্ছা, দিলীপ কি সুস্থ মস্তিষ্কে রাহুলকে তাচ্ছিল করলেন, যখন দেখছেন তরুণ সভাপতির নেতৃত্বেই কংগ্রেসের কামব্যাক।
এত সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায় দিলীপের নেই। কিছু এসে যায় না বিজেপির রাজ্য সভাপতির। ভদ্রসভ্য, তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য পেশ করার পথে হাঁটার মানুষ নন দিলীপ ঘোষ। সে এতদিনে পশ্চিমবঙ্গের আমজনতা জেনে গেছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news