সূর্য সরকার
কাট ওয়ান — “ওয়েলকাম টু দিদিকে বলো। আপনাকে স্বাগত।” তারপরেই ওপার থেকে উড়ে এল প্রশ্নবাণ। প্রথমে নাম, বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা। এর পরে পেশা। একটা দুটো প্রশ্ন শোনার পর আপনার মনে হতেই পারে যে সঙ্গে আধার কার্ড রাখলে বেশ সুবিধা হত! পিনকোড থেকে থানা, ব্লক,পুরসভা বললে হবে না। সব বলার শেষে এল মোক্ষম প্রশ্ন– “গ্রামে থাকেন না শহরে?” গোটা গোটা বাক্যে কল সেন্টারের সুরে ধন্যবাদ পর্ব মিটিয়ে বলা হল– এবার আপনার লাইনটি ‘মমতা দিদি’র অফিসে দেওয়া হচ্ছে।”—এই হচ্ছে ‘দিদিকে বলো “র সামগ্রিক কথোপকথন পর্ব। দিদিকে অবশই পাবেন, তবে সেটার জন্য ‘মেনটেন’ করতেই হবে এই ‘ফর্মালিটিজ’।
দিদিকে ফোনে পাওয়াটা অত সহজ নয়। তবে, ক’টা ধাপ পেরিয়ে অবশই পাবেন। প্রথমে সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর দিতে পারলে সেই ফোনের লাইন ট্রান্সফার করা হবে দিদির কাছে। তাও যথেষ্ট কাঠখড় পুড়িয়ে তবেই আপনি কথা বলতে পারবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে নিদান দিয়েছেন, কোনও সমস্যা বা মতামত থাকলে এ বার যে কেউ সরাসরি ফোন করতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রীকে। যে কর্মসূচির পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে, ‘দিদিকে বলো!’ ৯১৩৭০৯১৩৭০ এখন দিদিকে পাওয়ার নম্বর। বলা ভালো ‘হাতে চাঁদ পাওয়া’র যোগসূত্র!
কাট টু — এবার মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে নম্বর ট্রান্সফার হওয়ার পর ফোনের ওপার থেকে জানতে চাওয়া হল, আপনার কী উপকার করতে পারি? দ্বিতীয় বার নিজের নাম বলতে যেতেই তিনি জানালেন, সব কিছুই স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে। এখন শুধু দিদিকে কী বলতে চান সেটা বলতে হবে। আর আপনি কি বলতে চান সেটা জানালেই ঠিক হবে, কবে কখন দিদির সঙ্গে কথা বলা যাবে। জানানো হবে সাক্ষাৎকারের সময়। তবে একটাই শর্ত প্রাথমিক ভাবে যিনি ফোন ধরেছেন তাঁকেই বলতে হবে কি দরকার আর কি কথা। কিছু না বললে সরাসরি দিদিকে পাওয়ার কোনও আশা নেই। যে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে, ঠিক সেই সময়ে ফোন করলেই পাবেন সেই কাঙ্খিত মুহূর্ত। ফোনের ওপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ফোনের ওপারে স্বয়ং দিদি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news