দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় :
প্রঃ অফিস যেতে আসতে শাহিনবাগ পেরোতে হয়?
উঃ হয়।
প্রঃ কি করছেন এখন?
উঃ এক ঘন্টার রাস্তা তিন ঘন্টা লাগছে।
আনন্দ বিহারের এক বাসিন্দার অভিজ্ঞতা। শুধু আনন্দবিহার কেন, দিল্লির বিস্তীর্ণ অংশের সাধারণ মানুষের একই অভিজ্ঞতা গত দু’মাস ধরে। স্কুল পড়ুয়াদের অবস্থা আরও নিদারুণ। বড়দের ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সুযোগ আছে, ছোটদের সে সুযোগ নেই।
এত কিছুর পরেও ওখলা বিধানসভা কেন্দ্রে, যেখানে শাহিনবাগ অবস্থিত, সেখানে জিতেছে আপ। এই জয়ে যাঁরা সিএএ বিরোধী আন্দোলনের জয় দেখছেন তাঁরা সম্ভবত একটু বেশিই দেখছেন। শাহিনবাগকে ‘হ্যান্ডেল’ করার যে রাজনীতি বিজেপি ও আপের মধ্যে সুক্ষ ভাবে চলছিল, সেই রাজনীতির লড়াইতে জিতে গেছেন কেজরিবাল। তিনি খুব সহজ ভাবে মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, শাহিনবাগ সৃষ্ট সাধারণের অসুবিধায় তাঁর কোনও হাত নেই। বরং অমিত শাহের পুলিশ, এসবের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন, ইচ্ছে করলে দশ মিনিটে উঠিয়ে দেওয়া যেত শাহিনবাগের অবস্থান। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তা চান না। তিনি শাহিনবাগ থেকে ভোটে ফায়দা তুলতে চান। তিনি বলেওছেন, পুলিশ তো ওদের উঠতে বলছেও না। ওঁদের যদি বলা হত রাস্তা ছেড়ে ফুটপাথে যান তাহলে শাহিনবাগের মা বোনেরা কি উঠতেন না?
এই ছিল কেজরিবালের সুচারু মন্তব্য। এভাবে শাহিনবাগ নামক অফ স্টাম্পে পড়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে থাকা বলটিকে তিনি আনাড়ির মত খোঁচা না দিয়ে পরিণত স্টিয়ার করেছিলেন। আজ মঙ্গলবার বোঝা গেল বলটি বাউন্ডারির বাইরেই গেছিল।


যদিও একথাও উঠে আসছে শাহিনবাগ বিজেপির আসন বাড়াতে সাহায্য করেছে, একই সঙ্গে একথাও সত্যি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির সব প্রথম সারির নেতা ও তারকা প্রচারকরা মাঠে নেমেছিলেন আসন বাড়াতে নয় বরং ক্ষমতা দখল করতে।
এমনিতে নিখরচায় বিদ্যুতের মত নাগরিক পরিষেবামূলক কাজ করে কেজরিবাল মানুষকে খুশি করতে পেরেছেন। শীলা দীক্ষিতের পর দিল্লিতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের কাজ কেজরিবালের আমলে তেমন না হলেও ‘অল্পে খুশি’ মানুষকে খুশি রাখার কাজ কেজরিবাল নিপুণ ভাবে করেছেন। সিএএ হলে বা না হলে, শরণার্থীরা নাগরিকত্ব পেলে বা না পেলে যাদের কিছু এসে যায় না, সেই সন্তানকে দুধে ভাতে রাখতে চাওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি। সিএএ বিরোধী কিংবা পক্ষের মিছিলে যতই ভিড় হোক না কেন সাধারণ ভাবে ভোটার চরিত্র কি পেলাম আর কি পেলাম না, এর মধ্যেই আটকে থাকে। তাই তাঁরা কেজরিবালকে বেছে নিতে সময় নষ্ট করেননি। বলেছেন, ‘আরে ইয়ে বান্দা তো মুদ্দে কা বাত করতা হ্যায়।’
আরও কতগুলি প্লাস পয়েন্ট কেজরিবালকে আবার ফিরিয়ে আনল ক্ষমতায়।


তিনি নিজেকে এখনও সেই কমন ম্যান করে রেখে দিতে পেরেছেন। অন্তত হাবেভাবে, কথায়-কাশিতে, মাফলারে-সর্দিতে তিনি এখনও আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতই। লার্জার দ্যান লাইফ ইমেজ তাঁর নেই। তিনি কথা বললে মনে হয় না ঈশ্বর কথা বলছেন। তিনি কাজ করেন, ভুলও করেন, তবে চেষ্টা করেন। এই তাঁর ইমেজ। উল্টোদিকে ভিনরাজ্য থেকে আসা কোনও নেতাকে কেজরিবালের বিকল্প ভাবতেই পারল না দিল্লি।
আর কংগ্রেস? শোনা যায় শীলা দীক্ষিতকে পিছন থেকে ছুরি মারতে কংগ্রেসেরই একটা প্রভাবশালী অংশ দিল্লিতে আপের আগমনে সাহায্য করেছিল। সেই
অপমান, যন্ত্রণা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছিল বর্তমান দিল্লির রুপকার শীলার। নিজের হাতে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা দিল্লিতে শীলা দীক্ষিতের দল এখন তলানিরও তলায়। আর কংগ্রেসের নেতারা টেবিল চাপড়াচ্ছেন রাহুলকে টিউবলাইট বলা ঠিক হয়নি বলে। আর আপের জয়ে আনন্দিত হয়ে হয়ত বলেও ফেলছেন আপনা টাইম আয়েগা!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news