দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়:
গোলাপ খাস ইতিমধ্যেই বাজারে এসে গেছে। চাটুজ্যে, বাঁড়ুজ্যে, পেয়ারাপুলি হয়ে, এসো হে বৈশাখের আবহে অচিরেই বাজার ছেয়ে যাবে অমৃতসমান স্বর্ণাভ হিমসাগরে। আমের মাটিতে জন্মানো বাঙালি ভালো ভাবেই জানে সব মুকুলে আম হয় না। প্রতিবছর কত সম্ভাবনাময় মুকুল, মিষ্টি স্বাদের আশা জাগানো মুকুল, গন্ধ মাদকতার বার্তা বয়ে আনা মুকুল পূর্ণতা না পেয়েই ঝরে যায়।
২০০৯ ও ২০১১ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও এমন বিদ্রোহের সম্ভাবনা একাধিকবার মাঠে মারা গেছে।
আট-দশ বছর পর সেইসব স্ফুলিঙ্গ কিভাবে তাদের পাখায় ক্ষণকালের ছন্দ পেয়েছিল ও নির্বাপিত হয়েছিল, এই আলোচনায় সেই পূর্ব পাঠের পুনরালোচনা বাদ থাক।

২০১৯-এর নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রাজনীতির মুকুলের সামনাসামনি একবার দাঁড়ানো যাক। সব মুকুলে আম হয় না কিন্তু এই মুকুলে মমতা পরাস্ত হয় কিনা তা দেখার জন্য নরেন্দ্র মোদি থেকে পাড়ার শঙ্কর মুদি সকলে মুখিয়ে আছেন।
মধ্যবয়েস পেরিয়ে নতুন করে রাজনীতির চ্যালেঞ্জ নেওয়া মুখের কথা নয়। মুকুল সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। উল্টোদিকে যিনি রয়েছেন তাঁকে হালকা ভাবে নেওয়ার চেয়ে মুর্খামি আর কিছু হয় না, সে কথা জেনেই নিয়েছেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর লড়াই ঘরে ও বাইরে। তাঁকে মেনে নিতে না পেরে, তাঁর সঙ্গে কোনও তুলনাই চলে না এমন কম রাজনৈতিক যোগ্যতার ও কম সাংগঠনিক মস্তিষ্কের ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়া দলের পক্ষে ক্ষতিকর হয়েছে। ব্যক্তি ঈর্ষার সুযোগ নিয়েছে তৃণমূল। জনমানসে যে বার্তা গেছে তা স্বাস্থ্যকর নয়। দল বাঁচিয়ে, ঈর্ষান্বিতের মর্যাদা বাঁচিয়ে, অনুগামীদের অভিমান বাঁচিয়ে মুকুল যেভাবে নিজেকে পদ্মে প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই প্রতিষ্ঠার মধ্যে নিত্যদিনের সংগ্রাম আছে। উল্টোদিকে সাপের ল্যাজে পা দেওয়ার নিশ্চিত ফলস্বরুপ ছোবলের পর ছোবল। একটা ছোবল রুখতে না রুখতেই আর একটা। ঘনিষ্ঠদের নামে মামলা, কারাবাস, নিজের ঘাড়ের ওপর ঝুলে থাকা গ্রেফতারির খাঁড়া।
তার ওপর সার্বিক অসম্মান। সততার প্রতীকের দলে ঘোষিত দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি হওয়ার ফলে যা কিছু অসৎ, যা কিছু অনৈতিক, সেই সবের দায় তাঁর ওপরেই বর্তেছে। ধীরে, পরম যত্নে, জনমানসের একাংশে তৈরি হওয়া এমন ধারণা মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। হার্ডকোর সংগঠনের লোক মুকুল বিজেপিতে এসে মানুষের মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করেছেন তাঁর প্রতি মানুষের ভালবাসা আছে। তবে তাঁর প্রতি বিরূপ মানুষও আছেন। মুকুল সারা রাজ্যে ঘুরে বারবার বলছেন তিনি প্রায়শ্চিত্য করছেন। সম্প্রতি তিনি জোর গলায় বলেছেন, সারধা থেকে কোনও সুবিধা তিনি নেননি। তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি প্রমাণ করতে পারেন তাহলে তিনি রাজনীতি তো ছাড়বেনই এমনকি প্রাপ্য সব শাস্তি মাথা পেতে নেবেন।
এতো গেল জনমানসে তাঁর সম্মান অসম্মানের বিষয়। যে দলটিতে তিনি কয়েকদিন আগে অবিসংবাদী নেতা ছিলেন, সেই দল থেকেও নিত্য উড়ে এসেছে অপমান। কয়েকদিন আগেও, তৃণমূলের এক প্রথম সারির নেতার থেকে মুকুলের কোনও বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া চাইলে শুনতে হয়েছে, ‘কে মুকুল? বিজেপিতে ওর কি পজিসন? আমি তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের নেতা। আমি ওর কথার প্রতিক্রিয়া দেব?’

খুব দ্রুত সেই পরিস্থিতি পাল্টে ফেলেছেন মুকুল রায়। বিজেপি বা তৃণমূলে যাঁরা দেখতে জানেন তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন মুকুল যে স্টাইলে দলটাকে চালাতে চেয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদিও সেটাই চান। মুকুল দলে আসার পর জয় শ্রীরাম ধ্বনির পাশাপাশি, এই রাজ্যের জন্য জয় মা কালী বলতে শুরু করেছিলেন, হয়ত বলাতেও চাইছিলেন। বাংলা ও বাঙালির নাড়ি বোঝা মুকুল জানতেন পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে মা কালী নামের আবেদন বেশি। তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ, দক্ষিণেশ্বর, দক্ষিণেশ্বর সংলগ্ন পীরের দরগার সহাবস্থানের গল্প বলতেন বক্তৃতায়। পরে হয়তো রণে ভঙ্গ দিয়েছিলেন। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বা থাকলেও কম, এমন নেতৃত্বের সমবেত শোরগোল বেশি থাকলে একাকী কণ্ঠস্বরের চুপ করে যাওয়াই ভাল, হয়তো এমনই ভেবে ছিলেন তিনি। কিছুদিন আগে মোদি এসে সেই একই কাজ করলেন, বক্তৃতা শুরু করলেন মা কালী আর শ্রীরামকৃষ্ণের নাম স্মরণ করে।
কিছুদিন আগে যাঁর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেওয়া যেত না সেই দল এখন ছুটছে মুকুলের কথায় এসপি বদল করেছে কমিশন, এই অভিযোগে। কিছুদিন আগেও যাঁরা মুকুলকে আন্ডার এস্টিমেট করেছিলেন তাঁরাই কি এখন তাঁকে ওভার এস্টিমেট করছেন? মুকুল জানাচ্ছেন, ‘আমি এমন কেউ নই যে কমিশন আমার কথা শুনবে। তবে আমি এখনও বলব যাঁদের নামে অভিযোগ করেছি, তাঁরা শাসকদলের পেটোয়া।’

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশ জুড়ে মোদির পরীক্ষা, এই রাজ্যে পরীক্ষা মুকুলেরও। হাজারো সমস্যা এখনও আছে, মুকুল জানেন। বাইরে যেমন আছে ঘরেও আছে, তিনি জানেন। নির্বাচন শুরুর আগের দিন তিনি বলছেন, “স্বামীজি বলতেন মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ। আমি মনে করি মানুষ আমার চেয়ে ভাল জানেন কি করতে হবে। মানুষ মেরুদণ্ডহীন নন, তাঁদের আত্মসম্মান আছে। কিসে ভাল কিসে মন্দ তা কোনও সংবাদমাধ্যম থেকে তাঁদের শিখতে হবে না। তাঁরা তৃণমূলের ঔদ্ধত্যের জবাব দেবেন।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news
পরীক্ষা টা শুধুই মুকুল রায়ের কেন? যারা মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে কাজ করে চলেছে তাদের বিরুদ্ধে পার্টি কি পদক্ষেপ নিয়েছে ? হাত বেঁধে পরীক্ষা চাওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত?? যাক ভোটদান নির্বিঘ্নে শেষ হোক।তার পরে মন্তব্য করা যাবে।
Mukul Roy , Jujment right, Win of BJP ( M. Roy), Dada din rat ek kore thinking kore,. fal Valo hoby, sabai Dadar upar varsa rskho,. BJP win 23 May.. All the best. dada..