চ্যানেল হিন্দুস্থান ঢাকা ব্যুরো :
বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের বিভাগীয় শহর রাজশাহী, রাজশাহী জেলার অন্তর্গত সীমান্ত এলাকায় আসন্ন কোরবানীর ঈদে করোনা ভাইরাসের (Coronavirus) ঝুঁকি হ্রাস ও দেশীয় প্রাণী সম্পদের উন্নয়নে ভারত থেকে গরু চোরাচালান ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (BGB) সঙ্গে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে এখন রাজশাহী জেলার চরের গ্রামবাসীরা। এমন পরিস্থিতিতে রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন রাজশাহী সীমান্তের চরখিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দারা। চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দারাও কাজ করছেন। সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে ইতিমধ্যে গ্রামের ১৬ জন ব্যক্তিকে নিয়ে দুটি দল গঠন করা হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ৮ জন সীমান্ত পাহারা দেন। তারা ৪ জন করে ভাগ হয়ে সীমান্তে নজর রাখেন। একইভাবে অপর ৮ জন রাত ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত সীমান্ত পাহারা দেন। বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করেই তারা এই কাজ করছেন। রাতে যখন গ্রামের লোকজন সীমান্ত পাহারা থাকেন তখন তাদের কাছে থাকে টর্চ লাইট আর লাঠি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার সীমান্ত ঘেঁষা একটি গ্রামের নাম চরখিদিরপুর। এ গ্রামের তিন দিকে ভারত। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া নেই। তাই এ পথেই চোরাচালানের ঝুঁকি বেশি। সে কারণেই গ্রামবাসী সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। কখনও কোন এলাকায় সন্দেহজনক কিছু মনে হলে তারা দ্রুত খবর দেয় বিজিবিকে। তারা গিয়ে পরিস্থিতি দেখেন। গ্রামবাসী বলছেন, বিজিবির সঙ্গে এভাবে সীমান্ত পাহারা দেয়ায় এ পথে চোরাইভাবে আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরুও আসছে না। আর বিজিবি বলছে, গ্রামবাসীর স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দুর্গম এই চরে তাদের কাজও অনেকাংশে সহজ হয়েছে। এভাবে প্রত্যেক এলাকায় গ্রামবাসীর অংশগ্রহণ থাকলে চোরাচালান বন্ধ করা অনেক সহজ হতো। তাহলে সীমান্ত হত্যাও বন্ধ হতো।
চরখিদিরপুরের বাসিন্দা পবা উপজেলার অন্তর্গত হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য কোহিনুর বেগম জানান, তাদের গ্রাম এখনও করোনামুক্ত। কিন্তু ভারত থেকে যদি গরু আসে তাহলে করোনার সংক্রমনের আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিজিবি তাদের বুঝিয়েছে যে নিজেদের গ্রাম নিজেদেরকেই নিরাপদ রাখতে হবে। তাই দুটি দল গঠন কর তাদের গ্রামের পুরুষরা গত ৯ জুলাই থেকে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন।
রাতে সীমান্ত পাহারায় থাকেন গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “চরে চাষবাস করি। গরু-ছাগল পালন করি। সামনে কোরবানি ঈদ। ভারত থেকে যদি গরু আসে তাহলে বাংলাদেশের গরুর দাম কমে যাবে। আমার যে গরুর দাম ৮০ হাজার, সেটা তখন ৫০ হাজারে বিক্রি করতে হবে। আমিই লোকসানে পড়ব। তাই ভারতীয় গরু আসা বন্ধ থাকা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই আমি সীমান্ত পাহারা দেই।স্হানীয় গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে তা এখন বন্ধ হয়েছে।”
বিজিবির রাজশাহীস্হ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “সীমান্ত এলাকায় আমাদের চারটি বিওপি রয়েছে। সবখানেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একটি করে কমিটি গঠন করেছেন। আমাদের প্রয়োজন হলেই সেই কমিটির সদস্যরা এভাবে সীমান্ত পাহারায় আসেন।” তিনি আরও বলেন, “কোনকিছুর বিনিময়ে নয়, গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এগিয়ে আসেন। বিজিবি দেখা যাচ্ছে সীমান্তের একপাশে গিয়েছে, গ্রামবাসী অন্য পাশে নজর রেখেছেন। এভাবেই আমরা কাজ করছি।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news