নীল রায়:
আর বিলম্ব নয়! উত্তর প্রদেশের পর বাংলাতেও একলা চলার পথে কংগ্রেস। সূত্রের খবর বাংলায় লোকসভা নির্বাচনে “একলা চলো” নীতি নিয়ে লোকসভা ভোটে লড়াই করতে চায় এআইসিসি! জানা গিয়েছে, সম্প্রতি কংগ্রেস হাইকমান্ড নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের প্রার্থী ঠিক করতে ৪২টি আসনেই তিন জন করে নাম পাঠানোর। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বাম-তৃণমূল, উভয়ের সঙ্গেই দূরত্ব রেখে লড়তে চায় কংগ্রেস। শুক্রবার ২৫ জানুয়ারি গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বে বিধান ভবনে বৈঠক বসছে। যে বৈঠকে থাকবেন এআইসিসির তিন সাধারণ সম্পাদকও। প্রদেশ কংগ্রেসের বর্তমান কমিটির সব সদস্যকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে এই বৈঠকে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক আগে থেকেই
জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনেই প্রতিদ্বন্দীতা করবেন। এবং তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরাও ছোট বড় সমাবেশ থেকে বলছেন— সব আসনে লড়াই করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসানোর কথা। তাই কংগ্রেস নেতৃত্ব তৃণমূলের সঙ্গে জোটের আশা ছেড়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশ যদিও সিপিএমের সঙ্গে জোটের পক্ষে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিকতম নির্দেশে এআইসিসি জানিয়ে দিয়েছে আর কারো সাথে জোটে যেতে রাজি নয় তারা। সিপিএমের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়ে যে আর আখেরে কংগ্রেসের কোনও লাভ নেই তা ভালোই বুঝে গিয়েছেন রাহুল গাঁধী।
এমতাবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে এককভাবে পথ চলে নিজেদের শক্তি পরখ করে নিতে চান কংগ্রেস নেতৃত্ব। সে কারণেই হয়তো ৪২টি আসনেই তিনজন করে প্রার্থীর নাম চেয়ে পাঠানো হয়েছে। যদিও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র স্বয়ং রাহুল গাঁধীর কাছে পশ্চিমবঙ্গে এককভাবে পথ চলতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। এবার সেই দাবি পূরণ হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, কংগ্রেস সিপিএমের সঙ্গে জোটের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয়ে অস্বস্তিতে। আসলে বর্তমানে সিপিএমের দখলে রয়েছে রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ লোকসভা আসন। আর এই দুটি আসনেই দাবিদার কংগ্রেস। রায়গঞ্জ আসনে আবার কংগ্রেসের প্রার্থীর নাম দীপা দাশমুন্সি। দ্বিতীয়ত তিনি আবার একটা সময়ের কেন্দ্রীয় নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন। আর প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলার তিনটি আসনে লড়বে কংগ্রেস। তাই কংগ্রেস সিপিএম জোট যে আর হবে না তা একপ্রকার নিশ্চিত বলা যায়। রাহুল গাঁধীর নির্দেশ পালনের জন্য বৈঠকের পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে প্রদেশ কংগ্রেস।
বিধান ভবনের বৈঠক প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন দলীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলে আপনাদের জানানো হবে, তার আগে কিছু বলা যাবে না। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের যা অবস্থা কেমন? পরিসংখ্যান বলছে, তাদের ভোটের হার ২ শতাংশে কমে গিয়েছে। এমত অবস্থায় এককভাবে পথ চলে রাজ্যে কংগ্রেস কতটা কী ভালো করবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news