সুমন ভট্টাচার্য :
চিন চায় না করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে কোনও ধরনের গবেষণা প্রকাশ পাক।
আমাদের দেশের চিন-ভক্তরা চায় না, করোনা নিয়ে কোনও অভিযোগের আঙুল বেইজিং-এর দিকে উঠুক।
আপনি, আমি সাধারণ ভারতীয়রা কি চাই?
যে ভাইরাস গোটা পৃথিবীতে এখনও পর্যন্ত ১৭ লক্ষ লোককে সংক্রামিত করেছে, এক লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন, আপনি জানতে চান না সেই ভাইরাস কোথা থেকে এল? কি ভাবে ছড়াল? আপনি ভাববেন না কোনও একটি দেশ কেন সেই গবেষণায় বাধা দিতে চাইছে? দুটি চিনা বিশ্ববিদ্যালয় সেই নিয়ে গবেষণার কথা জানানো মাত্র কেন ওয়েবসাইট থেকে সেই তথ্য সরিযে দেওযা হল?
চিনা সরকার পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে, করোনা নিয়ে কোনও ধরনের গবেষণা হলে তা তিন ধাপে পরীক্ষা করে নেওয়ার পরেই প্রকাশের অনুমতি পাবে। এই তিন ধাপের মধ্যে সে দেশের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রক পর্যন্ত আছে। অতএব সহজেই অনুমেয, চিনের থেকে কটা গবেষণাপত্র বাইরে পৌছবে। চিনের স্বাস্থ্য দফতর জানুয়ারি পর্যন্ত সবাইকে বুঝিযে গেছিল, এই ভাইরাস মানুষের থেকে মানুষে সংক্রামিত হয় না। চিনের সেই স্বাস্থ্য দফতর গবেষণার স্বার্থে, ভ্যাকসিন তৈরির জন্যও তথ্য আসতে দিতে চায় না।
আমেরিকা কি ভুল করেছে, কেন তাড়াতাড়ি সচেতন হয় নি, কেন নিজের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে গুছিয়ে নেয়নি, সেই সব প্রশ্ন থাকবে। আমেরিকার দেরির ভুলের জন্য তাকে এখন ২০ হাজার শবদেহের ভার বইতে হচ্ছে । হয়তো আরও হবে। ট্রাম্পের কট্টর সমালোচকও মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট চিনের সঙ্গে বিবাদে জড়াতে চাননি। সেইজন্য জানুয়ারি পর্যন্ত তিনিও চিনের কথা বিশ্বাস করেছেন, শি জিন পিঙ- এর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি আস্তে আস্তে সব রিপোর্ট দেখতে থাকেন এবং বুঝতে শুরু করেন পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তী কালে করোনা ভাইরাসকে চিনা ভাইরাস বলে আক্রমণ করেছেন, মার্কিন কংগ্রেসের তরফে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে বিস্তারিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগপত্রে একেবারে তারিখ ধরে ধরে বলা হয়েছে চিন কি ভাবে আমেরিকাকে এবং গোটা বিশ্বকে ভুল পথে চালিত করেছে। যার ফলে প্রথমে করোনার ভয়াবহতা বোঝা যায়নি, এবং এই ভাইরাস এক মহাদেশ থেকে আর এক মহাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পেরেছে।
চিনের যে সমাজব্যবস্থা, রাজনীতির যে ধরন, সর্বগ্রাসী নিয়ন্ত্রণের যে ধরন, তাতে এটা সহজেই অনুমেয় চিন সম্পর্কে আমরা ততটুকু জানতে পারি, যতটুকু বেইজিং জানাতে চায়। বেইজিং না চাইলে কি হতে পারে, সেটা উহানের ওই চিকিৎসক, যিনি প্রথম করোনা যে ভয়াবহ তা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন, তাঁর পরিণতি দেখে বুঝে নিতে হবে। প্রথমে পুলিশ তাঁকে তুলে এনেছিল, তারপরে তাঁকে দিয়ে মুচলেকা লেখানো হয়েছিল যে তিনি করোনা সম্পর্কে যে আশঙ্কার কথা বলেছিলেন, তা ভুল। শেষপর্যন্ত করোনার চিকিৎসা করতেই করতেই সংক্রামিত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
চিন কে বোঝা সম্ভব, দুনিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সে বিশ্বকে গত একশো বছরের সবচেয়ে বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যা প্রায় গোটা বিশ্বকে গৃহবন্দি করে দিয়েছে।
কিন্তু চিন ভক্ত দের বোঝা সম্ভব হচ্ছে না। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায, বিভিন্ন পোর্টালে, প্রগতিশীল খবরের কাগজের উত্তর সম্পাদকীয় তে এঁরা চিনের হয়ে সওয়াল করতে নেমে পড়েছেন কেন? এদের কিসের স্বার্থ? বিশেষ করে এই বাঙালি চিন ভক্ত দের দেখলে অবাকই লাগে। নরেন্দ্র মোদি খুব খারাপ হতে পারেন, কিন্তু মনমোহন সিংহ ও যে চিনকে খুব পছন্দ করতেন, এমন তো মনে পড়ছে না! তাহলে কিসের স্বার্থে এত চিনের হয়ে গান গাওয়া?
আপনি যে কোনও দলের হতে পারেন, যে কোনও মতের হতে পারেন, উঘুরের বিষযে কিছু না জেনে আপনি যে কোনও ধর্মেরও হতে পারেন। কিন্তু ভারতীয় হলে আপনি তো ভারতের কথা ভাববেন, তা না হয়ে এত চিনের হয়ে দরদ উথলে ওঠার কারণ কি? কারা, কেন এত চিনের হয়ে সওয়াল করছেন, সেটা নিয়ে কি আমরা ভাববো?
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news