চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো:
বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ মহামারীর জেরে আগামী ১২ মাসের মধ্যে শুধুমাত্র দক্ষিণ এশিয়ায় ৯ লক্ষ শিশুর প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে ভারতে। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি কোভিড-১৯ মহামারী দক্ষিণ এশিয়ার কয়েক লক্ষ শিশুর জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। জন হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথের দ্বারা করা একটি গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে, চলতি পরিস্থিতিতে আগামী ১২ মাসের মধ্যে পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী ৮, ৮১,০০০ শিশু মারা যেতে পারে। এই মৃত্যুর বেশিরভাগ অংশ ভারত ও পাকিস্তানে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘লাইভস আপেন্ডেড: কোভিড-১৯ কীভাবে ভয়ানক হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার ৬ কোটি শিশুর ভবিষ্যত’, এই শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দেশগুলির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ততটা উন্নত নয়, তার ওপর কোভিড-১৯ কারণে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সংকট চলছে। ফলে শিশুদের মধ্যে হাম এবং নিউমোনিয়ার মতো অসুখ বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাবনা প্রবল রয়েছে। এছাড়া এই অঞ্চলে দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে বহু শিশু। চলতি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে আরও ১২ কোটি শিশু দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে। ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তারা অনেকটাই পিছিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশ জুড়ে প্রায় ২৪ কোটি শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছে। এর মধ্যে ১৫ কোটি রয়েছে শুধু ভারতেই।
এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার ইউনিসেফের আঞ্চলিক ডিরেক্টর জ্যান গফ বলেন, লকডাউন ও মহামারীর অন্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুদের জীবনে বহু ক্ষতি করবে। তাই জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কোভিড-১৯ নতুন প্রজন্মকে আশা ও ভবিষ্যতকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে পারে। এখনই মারণ ভাইরাসের মোকাবিলায় দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা হ্রাস পেয়েছে। দরিদ্র সম্প্রদায়ের অনেক শিশু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও খাদ্য পাচ্ছে না। যা অনেক ক্ষতি করছে।

এছাড়া গবেষণায় বলা হচ্ছে, করোনা পরিস্থিতিতে প্রসূতি এবং নবজাতকের যত্ন নেওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে ৩৬,০০০ প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। আগামীদিনে ভারত ও পাকিস্তানে জনঘনত্ব এবং দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে অনেক মাতৃমৃত্যু ঘটবে। বাংলাদেশ, নেপাল ও আফগানিস্তানেও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news