নিজস্ব সংবাদদাতা। বিধানসভায় রাজ্যপালের জবাবী ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, “একাংশ সাংবাদিক অ্যাপোয়েন্টমেন্ট করিয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা খান। আবার লেখেনও। আমাকে বেশি জ্ঞান দিতে আসবেন না। আমি সব জানি।” মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে সংবাদ মাধ্যমে। কারা এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত পরস্পরের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ি করছেন বরিষ্ঠ সাংবাদিকরা! সূত্রের খবর মুখ্যমন্ত্রীর এহেন বক্তৃতার পেছনে রয়েছে তারই এক ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক। যে কিনা একসময় মুখ্যমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী পর্যন্ত ছিলেন। কিন্তু লোকসভা ভোটের ফলাফলের পরেই তিনি যোগাযোগ শুরু করেন বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে। আরো জানা গিয়েছে ওই সাংবাদিক পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ পর্বে কৈলাস জানিয়ে দেন পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে যা কিছু কথা বলার তা বলতে হবে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে। কারণ বাংলার অনেক কাজই এখন মুকুল দেখছেন। জানা গিয়েছে কৈলাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কলকাতায় ফিরে এসে ওই সাংবাদিক ফোনে যোগাযোগ করেন মুকুল রায়ের সঙ্গে। দীর্ঘ ফোনালাপে রাজ্যে বিজেপির আশাতীত সাফল্যের জন্য মুকুলকে অভিনন্দন জানান ওই সাংবাদিক। সঙ্গে এই সাফল্যে তার ভূমিকা নিয়েও জয়গান করেন তিনি। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তর মারফত মুখ্যমন্ত্রী মুকুলের সঙ্গে ওই সাংবাদিকের সাক্ষাতের কথা জেনেছেন বলে খবর। এক সময় নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাসভবনে যাতায়াত করা ওই সাংবাদিকের ২৩ মে-র পর থেকে কালীঘাটে আনাগোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলেই জানাচ্ছে কালীঘাটের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। নবান্ন সূত্রে খবর মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ, এই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে নানা অনৈতিক কাজকর্ম করেছেন ওই সাংবাদিক। যার মধ্যে কিছু কাজ নাপসন্দ ছিল মমতার। কিন্তু অতি ঘনিষ্ঠতার কারণে সেই সময় তাঁর অবাঞ্ছিত কাজকর্মকে কিছুটা প্রশ্রয় দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকের শিবির বদলের ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ মমতা। তাই এবার ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নবান্ন বেশ কড়া ব্যবস্থা করতে চলেছে বলেই খবর মিলেছে। তবে একজন সাংবাদিকের অনৈতিক আচরণের কারণে গোটা সংবাদ মাধ্যমকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো মুখ্যমন্ত্রীর অনুচিত হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news