Breaking News
Home / TRENDING / ছটপুজোয় বন্ধ রবীন্দ্র সরোবরে ! সরকারি কড়া নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ

ছটপুজোয় বন্ধ রবীন্দ্র সরোবরে ! সরকারি কড়া নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।

ছটপুজোয় (Chat Puja) যাতে পরিবেশ কোনওভাবেই দূষিত না হয়, সেই কারণেই আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়েছিল প্রশাসন। শুক্রবার সকালে লেক গার্ডেন্স রেল স্টেশনে মোতায়ন করা হলো অতিরিক্ত রেল পুলিশ। কারণ রবীন্দ্র সরোবরে (Rabindra Sarovar) তিন নম্বর গেট সংলগ্ন এই লেক গার্ডেন্স রেল স্টেশন প্রতিবছর এই রেল স্টেশন থেকে অতিরিক্ত ছট পুণ্যার্থী রবীন্দ্র সরোবরেরের তিন নম্বর গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে যান। গত বছর এই তিন নম্বর গেট দিয়ে তারা ভেতরে প্রবেশ করে,শুধু তাই নয় তিন নম্বর গেট ভেঙে ফেলাও হয়।পুরোপুরি ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল ।তাই এবছর অতিরিক্ত আরপিএফ ও কলকাতা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এ বছর রবীন্দ্র সরোবরে কোনও ভাবেই ছটপুজো করা যাবে না । এদিন সকাল থেকেই অনেক পুণ্যার্থীরা দাবি তুলেছেন তাদেরকে রবীন্দ্র সরোবরে পুজো করতে দিতে হবে ।তাই লেক গার্ডেন্স থেকে যেন কোনওভাবে ছট পুণ্যার্থীরা রবীন্দ্র সরোবরে ভিতরে প্রবেশ না করতে পারে সেইজন্য লেক গার্ডেন্স রেল স্টেশনে অতিরিক্ত পুলিশ প্রশাসন মোতায়েন করা হয়েছে। যে সমস্ত সাধারণ যাত্রীরা যাওয়া আসা করছে তাদের ওপরও নজরদারি চালাচ্ছে আরপিএফ ও কলকাতা পুলিশ।

অন্যদিকে, রবীন্দ্র সরোবরে এবছর ছট পুজো করতে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ দীপক কুমার ও সুনীল কুমার ত্রিপাঠি মতো যারা ছট পুজো করেন। তারা জানিয়েছেন তারা বছর বছর ধরে এই রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করে আসছে। কিন্তু এবছর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তারা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তারা জানিয়েছেন, এই ছট পুজো এখানে না করতে পারায় তারা ভীষণ ভাবে দুঃখিত। এর পাশাপাশি তাঁরা দাবি জানিয়েছেন ছট পূজো হয়ে যাবার পর পুরো রবীন্দ্র সরোবর তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেয়। এমনকি বর্তমানে চ্যানেল গুলিতে যে সমস্ত খবর দেখানো হচ্ছে সেই সমস্ত ছবিগুলি ২০১৭, ২০১৮ সালের। ২০১৯ সালে তারা কোনওরকম বাজি ফাটানো এবং রবীন্দ্র সরোবর জলাশয় পুরোপুরিভাবে পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন। ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করছে বলেও তারা দাবি জানিয়েছেন। এই রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো না করতে পারলে তাহলে তারা কোথায় করবেন বলে প্রশ্ন তুলেছেন ? যে সমস্ত কৃত্রিম জলাশয় তাদের জন্য করে দেওয়া হয়েছে সেখানেও তাদের অনেক সমস্যা রয়েছে বলে দিন তারা তুলে ধরেছে।

তারা জানিয়েছেন যে সমস্ত কৃত্রিম জলাশয় করা হয়েছে প্রথমত সেগুলি অনেকেই তাদের বাড়ি থেকে দূরে । বাড়ি থেকে অতদূরে তারা কীভাবে যাবেন। তার অর্থ কে দেবে? তাছাড়া যে সমস্ত কৃত্রিম জলাশয় করা হয়েছে সেগুলি অত্যধিক ছোট। অনেক সংখ্যক লোক সেখানে জমায়েত হয়ে কখন পুজো দিতে পারবেন না। এছাড়া ছট পুজো দিতে হলে পুরোপুরিভাবে জলে ডুবে পুজো দিতে হয় । কিন্তু যে কৃত্রিম জলাশয় করা হয়েছে তাতে হাঁটু পর্যন্ত জল থাকে। তাহলে কিভাবে তাদের পুজো সম্পূর্ণ হবে? তা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে তারা জানিয়েছেন এই কৃত্রিম জলাশয় বলা হয়েছিল সমস্ত জায়গায় করা হবে। কিন্তু তা একদমই করা হয়নি ।নির্দিষ্ট কতগুলি জায়গায় করা হয়েছে। এবং তা অনেক দূরে দূরে। তাদের পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। তাহলে কি তারা পুজোর দেবেন না ? তারা এখনো দাবি জানাচ্ছেন তাদের জন্য যেন রবীন্দ্র সরোবর খুলে দেওয়া হয় । এই জলাশয়ে তারা প্রত্যেক বছরের মতো পুজো দেবেন ।কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সেইমতো এদিন সকাল থেকেই রবীন্দ্র সরোবর পুরো জায়গাটি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টিনের বেড়া দিয়ে পুরোপুরিভাবে জায়গাটি ঘিরে ফেলা হয়েছে ।রবীন্দ্র সরোবরে পুজো না দিতে পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করছেন তারা সবাই। তারা জানিয়েছেন তারাই একমাত্র শুধু পরিবেশ দূষণ করেন? ছট পূজা বিকেলবেলা চার ঘন্টা এবং সকালবেলা দু’ঘণ্টা। তাদের এই পুজো ৬ ঘণ্টার মধ্যে কি পরিবেশ দূষিত হয়ে যায়? আর যদি তাও হয, পুজো হবার পর তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে পুরোপুরিভাবে রবীন্দ্র সরোবর পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। এত কিছু সত্ত্বেও তাদের কেন রবীন্দ্র সরোবরের পুজো করতে দেওয়া হবে না বলে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *