Breaking News
Home / TRENDING / চার্লি চ্যাপলিন

চার্লি চ্যাপলিন

সুমন সেনগুপ্ত : 

চার্লির জীবনবোধের পরিচয় তাঁর সমগ্র সিনেমায় ছড়িয়ে আছে। দি বাইসাইকেল থিভসের পরিচালক ডি সিকাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল,প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত সিনেমা জগতে শ্রেষ্ঠ শিল্পী কে? জবাবে তিনি বলেছিলেন, চার্লি চ্যাপলিন। অনেকে আবার চার্লি সম্পর্কে বলে থাকেন,যথেষ্ট বাস্তব চেতনার অভাব রয়েছে বলেই তিনি যুগকে তাঁর শিল্প মাধ্যমে ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে পারেন নি। একথা হয়ত ঠিক যে অনেক সময় তিনি নিজেকে ব্যক্তি সীমানার মধ্যে আটকে রেখেছেন। সেই সীমাবদ্ধতার কারণ তিনি নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন,আমি নিজে কলা-কৌশলের চাতুরী অপছন্দ করি। জাঁকালো এফেক্ট ছবির গতি কমিয়ে দেয়। আর তাকেই শিল্পের নামে চালান হয়। আমি বিস্মিত হই যখন কিছু সমালোচক বলেন আমার ক্যামেরা টেকনিক সেকেলে,আমি নাকি সময়ের সঙ্গে তাল রেখে এগোই নি। সময়?কোন সময়? শিল্পে সময়ের সঙ্গে তাল রাখাই যদি মূল কথা হত, তবে ভ্যান গগের তুলনায় রেমব্রাঁ সেকেলে হয়ে পড়তেন। চার্লি সর্বশ্রেষ্ঠ না হলেও, পৃথিবীর সেরাদের অন্যতম। আজ থেকে একশ দশ বছর আগে ইংল্যান্ডের এক নাচগানের দল আমেরিকায় এসেছে। সেই দলে নাম না জানা এক ছোকরা ছিল। সেই অখ্যাত ছোকরাটি আজকের চার্লি চ্যাপলিন। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার সেই ছোকরাটির জন্মের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। সামারসেট হাউসের খাতায় ইংলন্ডের সবার জন্মের রেকর্ড আছে নেই শুধু চার্লির! অথচ এটা ঠিক, চার্লির জন্ম লন্ডন শহরেই, ১৮৮৯ সালের ১৬ এপ্রিল। হয়ত খাতা পত্তরে অন্য নাম ছিল। পাঁচ বছর বয়সে চার্লির নাট্য জীবনের হাতেখড়ি। বাবা তাঁকে জোর করে নিয়ে গেলেন থিয়েটারে। সেই শুরু। অধিক মদ্যপানের কারণে এর কিছুদিনের মধ্যেই বাবা মারা গেলেন। প্রচণ্ড ভয় সেদিন চার্লির ওই ছোট্টবুকে চেপে বসেছিল। ছেলেবেলার সেই স্মৃতি তাঁর মনে এক চরম ট্র্যাজিক বোধ জাগিয়ে তোলে। এরপর চার্লি ব্যক্তি সীমানা পেরিয়ে গভীরতর অনুভূতির দিকে এগোতে থাকেন। তাঁর শিল্পের মূল উপাদান নিয়েছেন তাঁর ছেলেবেলাকার দুঃসহ জীবনযাত্রার ভেতর থেকে।
পরবর্তী জীবনে চার্লি তাঁর শিল্প সৃষ্টির উৎসের কথা বলতে গিয়ে, ছোটবেলার বেদনা বোধের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমি জেনেছি জীবনে নাকাল হওয়া কাকে বলে। আর এই নাকাল হওয়া এমনই এক অভিজ্ঞতা যা মানুষ কখনও ভুলতে পারে না। ”
চার্লি পরিচালিত প্রথম ছবির নাম ‘আ উওম্যান অফ প্যারিস’।এই ছবিতে তিনি নিজে অভিনয় করেননি। বেশির ভাগ মহল থেকে ছবিটি প্রশংসা পেলেও তিনি নিজে ছবিটি নিয়ে বিশেষ সন্তুষ্ট ছিলেন না। এরপর তিনি ‘দ্য গোল্ড রাস’ ছবিটি করেন। অনেকের মতে চ্যাপলিনের সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পকীর্তি। তিনি নিজেও বলেছেন, “এই সেই ছবি যা দিয়ে আমি মানুষের স্মৃতিতে থাকতে চাই।” সিনেমা শিল্পে ভাষা এল ১৯২৮ সালে। কিন্তু তিনি ‘সিটি লাইটস’ ছবিতে ভাষার ব্যবহার করলেন না। তারপরও ছবিটি এক সেরা ছবি বলে প্রশংসিত হল। এক ফুলওয়ালির জীবনকে কেন্দ্র করে ছিমছাম ছবি এটি। ১৯৩৬ সালে চার্লি বানালেন ‘মর্ডান টাইমস’। এবার তাঁর সৃষ্ট ভবঘুরেকে আনলেন কারখানায়। প্রথম শটটিই অসাধারণ। নিতান্ত নিরীহ অভাগা ভেড়ার দলকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এক ফটকের ভিতরে। তারপরেই দেখা গেল একদল মজুর ঢুকছে ওই ফটক দিয়ে। ‘দ্য গ্রেট ডিকটেটর’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পরেই তাঁর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়। তাতে তিনি হার মানলেন না। এরপরই চার্লি চ্যাপলিন পৃথিবীর সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠলেন।

বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

https://www.youtube.com/channelhindustan

https://www.facebook.com/channelhindustan

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *