নীল রায়:
নিজের ডাকা ব্রিগেড সমাবেশে এক প্রকার ফাঁকা মাঠে বক্তৃতা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার মমতার ডাকে ব্রিগেডের সভায় এসেছিলেন দেশের বিজেপি বিরোধী প্রায় বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল। দিদিমনি আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সবাইকে নিজের মতামত জানানোর সুযোগ দেবেন। দিলেনও তাই। বেলা ১১টার আগে থেকেই ভিন রাজ্যের নেতারা বক্তৃতা শুরু করেন। হার্দিক, জিগ্নেশ, জয়ন্তরা শুরু থেকেই স্লগ ওভারের মতো ঝোড়ো ব্যাটিং করলেও পরে বেশ সময় নিয়ে বক্তৃতা করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া, যশবন্ত সিনহা, শত্রুঘ্ন সিনহারা। তাতেই বেলা গড়িয়ে যায় প্রায় সোয়া তিনটেয়। তারপর বক্তৃতা শুরু করেন বাংলার দিদি। ততক্ষণে ব্রিগেড ছাড়তে শুরু করেছেন দুরদুরান্ত থেকে আগত কর্মীরা।
দিদির বক্তৃতা না শুনেই চলে যাচ্ছেন?
এমন প্রশ্নের উত্তরে ঘরমুখী তৃনমুল কর্মীরা বলেন, “বাড়ি অনেক দুর। তাই এখন না গেলে বাড়ি ফিরতে পারব না।” মূলত: উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পুর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পুর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার কর্মীরাই এই তালিকায় বেশি। সমাবেশের বয়স যখন দুপুর ১২টা তখনই বিষয়টি অনুমান করেন নেত্রী মমতা। তৎক্ষনাৎ মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী কর্মীদের উদ্দেশে বলেন “৪টের আগে কেউ যাবেন না।” নেত্রীর মনোভাব বুঝে সমাবেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা তথা মন্ত্রী কর্মীদের নির্দেশ দেন, বিকেল ৪টের আগে যেন কোনও গাড়ি জেলার উদ্দেশ্যে রওনা না হয়। কিন্তু রেলপথ তো কোনও দলের নয়! লক্ষ লক্ষ কর্মী কেউ বা হাওড়া কেউ বা শিয়ালদহ স্টেশনমুখী হলেন গন্তব্যে পৌঁছতে। যদিও বেলা ১১টা থেকেই কর্মীরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছিলেন। সেই কারনে এক সময় যানজটের চাপ কমাতে এস এন ব্যানার্জি রোড বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বেলা সোয়া তিনটেতে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা শুরুর অনেক আগেই সেই পথ খুলে দেওয়া হয়। তাতে ঘরমুখী মানুষের সংখ্যাও বেড়ে যায়। ফলস্বরুপ দিদির নিজের ডাকা ব্রিগেড সমাবেশের অন্তিম লগ্নে কার্যত ফাঁকা মাঠে বক্তৃতা করতে বাধ্য হন তিনি। মঞ্চের একেবারে সামনে মানুষ থাকলেও পিছনের ভিড় তখন অতি পাতলা। লোক নেই বললেই চলে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news