দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় :
ঈষাণিকা ভোরাই :
প্রত্যাশামতোই পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিপুল জয় পেল রাজ্যের শাসক দল। কুড়িটি জেলা পরিষদ গেল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে, যার অধিকাংশই বিরোধী শূন্য। পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষেত্রেও প্রায় ৯০% আসনই তৃণমূলের। কিন্তু গোল বেঁধেছে গ্রাম পঞ্চায়েতে। এখানে একদিকে যেমন বিজেপি তাদের আসন বাড়িয়েছে বেশ কয়েক গুণ, তেমনই এই নির্বাচনে নির্দলদের জয়লাভ কিন্তু শাসকদলের মাথাব্যথার কারণ হতে চলেছে। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এরাজ্যে মাত্র পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতে জিতেছিল বিজেপি। আবার ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের নিরিখে দেখা যায়, রাজ্যের প্রায় ৫০০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির ভোট বেশি। কিন্তু মাত্র দু’বছরের মধ্যে সেটাই পৌঁছেছে প্রায় ৫৭০০ আসনে। এটা যেমন তৃণমূলের কাছে ভাবনার বিষয়, পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জেলায় বিপুল সংখ্যক নির্দলদের জয়লাভ কপালে ভাঁজ ফেলেছে তৃণমূল নেতাদের। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর বা সবচেয়ে বেশি নির্দল জিতেছে যে জেলায়; সেই দক্ষিণ 24 পরগনা নিয়ে এখন ভাবতে বসেছে শাসক দল। লক্ষণীয়, নির্দলদের জয়লাভের নিরিখে প্রথম তিনটে জেলার মধ্যে এমন দুটো জেলা রয়েছে যে দুই জেলা পরিষদে ঘাসফুল ফুটেছিলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার আগে। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই থেকে শুরু হয়েছিল তৃণমূলের জয়যাত্রা। কিন্তু এবার শুধু গ্রাম পঞ্চায়েতের নিরিখে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছবিটা স্পষ্ট হয়েছে ফল প্রকাশের পর। এক নজরে দেখে নিই কোন কোন জেলায় নির্দল কাঁটা কতটা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা-২৯৭, পশ্চিম মেদিনীপুর-১৯২,
পূর্ব মেদিনীপুর ও
উত্তর দিনাজপুর-১৫৮,
উত্তর ২৪ পরগনা-১৩৬,
হুগলি-১২৪।
এছাড়াও ১০০-র ওপর জয়ী নির্দল রয়েছে মালদা(১১৭), কোচবিহার(১১১), পুরুলিয়া(১০৬)।
এতো গেল মোটের ওপর পরিসংখ্যানের ছবি। অন্যদিকে রাজনীতির রসায়ন আরও এক চিত্র তুলে ধরছে। পঞ্চায়েতে বিজেপির এমন বিপুল ভাবে উঠে আসার মধ্যে মুকুল ফ্যাক্টর প্রত্যক্ষ করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটা বড় অংশ। তাঁরা মনে করছেন ২০০৮-এ নজর কেড়েছিল তৃণমূল এবং তারপর ২০০৯-এর লোকসভায় চমকপ্রদ ফল করেছিল। বিজেপির এবারের ফলাফলও সেই ফলাফলের সঙ্গে তুলনীয়। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে বিজেপি তো একটি জেলাপরিষদও দখল করতে পারেনি, তাহলে কেন এই তুলনা? পর্যবেক্ষকদের উত্তর, তৃণমূল যে রেকর্ড সন্ত্রাস ভোটের আগে থেকে শুরু করে গণনা পর্যন্ত চালিয়েছে ও এখনও ভোট পরবর্তী হিংসা চালাচ্ছে, সেই তুলনায় ২০০৮-এর বামফ্রন্ট ছিল নেহাত গোবেচারা! এক্ষেত্রে সন্ত্রাস মোকাবিলার যে এবার চ্যালেঞ্জ বিজেপির সামনে ছিল সেই চ্যালেঞ্জ ২০০৮-এ তৃণমূলের সামনে ছিল না। আর ২০১৩-র পঞ্চায়েত ও ২০১৬-র বিধানসভার নিরিখে বিচার করলে এ বছর বিজেপিতে যেটি নতুন তা হল একমাত্র মুকুল ফ্যাক্টর। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিজেপিকে পাঁচশর স্তর থেকে পাঁচ হাজারের স্তরে তুলে এনেছে। মুকুল নিজে অবশ্য এই ব্যখ্যা মানতে নারাজ। তাঁর কথায়, “কোনও ব্যক্তির পক্ষে এমন কিছু করা সম্ভব বলে আমার মনে হয় না। যেটুকু হয়েছে তা দলের সার্বিক চেষ্টায় হয়েছে। আর কারও ব্যক্তি ইমেজ যদি কাজে লেগেই থাকে, তাহলে তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির, আর কারও নয়।”
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news