Breaking News
Home / TRENDING / বুদ্ধিজীবী সমীপেষু: উদ্দেশ্য বলেছেন, এবার বিধেয়টি বলে বাক্য সম্পূর্ণ করুন

বুদ্ধিজীবী সমীপেষু: উদ্দেশ্য বলেছেন, এবার বিধেয়টি বলে বাক্য সম্পূর্ণ করুন

 বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়:

কে কাকে ভোট দেবে বা দেবে না, তা একেবারেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিষয়। এই বিষয়ে ভারতবর্ষের একজন নাগরিক নানা অভিজ্ঞতা সঞ্জাত ভাবনাচিন্তার পর একটা সিদ্ধান্তে আসেন। কিন্তু সম্প্রতি বেশ কিছু বুদ্ধিজীবী একজোট হয়ে নির্দেশিকা দিয়েছেন ‘বিজেপিকে ভোট দেবেন না’। যথারীতি লোকসভা ভোটের মুখে এমন প্রসঙ্গ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে বিপুল জলঘোলা শুরু হয়েছে। যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। না হলেই অবাক হতাম। তবে এ বিষয়ে আমার মতামত খুব স্পষ্ট। আসলে এ-দেশের মানুষের প্রতি ভরসা রাখি আমি। তাছাড়া অন্যের ঘাড়ে নিজের ইচ্ছে আবদারকে চাপিয়ে দেওয়ায় ভয়ঙ্কর আপত্তি আছে আমার।

প্রসঙ্গত, মনে রাখা উচিত যে ভারতবর্ষের জনসাধারণ বিগত ৭০ বছর ধরে প্রতিটি নির্বাচনে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে আসছেন। বলা বাহুল্য, তাঁরা সে বিষয়ে অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। এইখানে মনে করিয়ে দেবো, জরুরি অবস্থার পরে ইন্দিরা গাঁধী হেরে গিয়েছিলেন কৃষক-শ্রমিক-ট্রাক চালক-অটো ড্রাইভারদের ভোটে। আবার ফিরেও এসেছিলেন এইসব খেটে খাওয়া ‘আমজনতা’র ভোটেই। ফলে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, ভারতের প্রতিটি মানুষ নিজের নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করে নিতে সক্ষম। ওপরতলার কারো নির্দেশের অপেক্ষা তাঁরা করেন না ভোট দেওয়ার আগে। এইসব ‘সাজেশন পেপার’ তাঁদের আগেও দরকার হয়নি, পরেও হবে না। তবে হ্যাঁ, কেউ ব্যক্তিগত ভাবে কোনও দলকে পছন্দ বা ঘোরতর অপছন্দ করতেই পারেন। সেও তো তাঁর স্বাধীনতা তথা একটি গণতান্ত্রিক দেশের মুক্ত নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সে বিষয়ে আমার কিছু বলবারও নেই। কিন্তু নিজের পছন্দ বা অপছন্দকে সুকৌশলে অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়াটা অভিপ্রেত কি? আমার তো মনে হয় না। এটা বোধ হয় ঠিক হচ্ছে না। হয়তো একই কারণে ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে গোপনে। যেহেতু তা বাঞ্ছনীয়। তাছাড়া এই গরিব মানুষগুলো খেতে না পেলে কি কোনও বুদ্ধিজীবীর ঘরে তাঁর জন্যে একবেলার একথালা ভাতও বাড়া হবে? নিশ্চয়ই হবে না। এও ঘোরতর বাস্তব। অতএব, সাধারণ মানুষ কাকে ভোট দেবে সেই সিদ্ধান্তটাও তাঁদেরকেই নিতে দিন না আপনারা। কেন এই বিষয়ে আগ বাড়িয়ে মতামত জাহির করছেন!

এইসঙ্গে বলব, যখন বিশেষ একটি দলকে ভোট দিতে না বলার কথা হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়, তখন সেটা সাধারণ মানুষের মনে একধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করে। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কাকে ভোট দেব? তা কি আপনারা বুদ্ধিজীবীরা বলছেন? বলছেন না। এ যেন অনেকটা এমন, যে ক্লাসের এক স্যার এসে বলছেন, ওমুকের মানে বই খবরদার পড়ো না। তাহলে কার মানে বই পড়বে ছাত্রেরা? তা কিন্তু সেই স্যারেরও জানা নেই!

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *