নীল রায়।
গান্ধীজিকে ফলের রস খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করাননি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কারণ, রবি ঠাকুর ১৯৪১ সালেই মারা গিয়েছিলেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রকে (Somen Mitra) পাশে নিয়ে বিধান ভবনের সাংবাদিক সম্মেলনে এভাবেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) কটাক্ষ করলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু (Biman Bose)। ২০০৯ সালে এক বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “১৯৪৭ সালে বেলেঘাটায় গান্ধীজিকে ফলের রস খাইয়া অনুসরণ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ।” এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করে সেই প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেন বিমান বসু। বিমানের এমন মন্তব্যের সময় পাশে বসে মুচকি হাসেন সোমেন মিত্র।
সোমবার প্রদেশ কংগ্রেস দফতর সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন সাংবাদিক সম্মেলনের। ২০১৬ সালের পর এমন চিত্র রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন দেখা যায়নি। এদিন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, কংগ্রেস নেতা শুভঙ্কর সরকার সিপিআই নেতা মঞ্জু কুমার মজুমদার, স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা নরেন চট্টোপাধ্যায় এবং আরএসপি-র মনোজ ভট্টাচার্য একসঙ্গে ধরা দিলেন।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়ে কংগ্রেসের হাত ধরেছিল সিপিএম। সে যাত্রায় জয় আসেনি, ফলে নির্বাচনী সমঝোতা থেকে সরে এসেছিল দু’পক্ষই। কিন্তু, এদিন বিমান বসু জানালেন “সময়ের দাবি” মেনে তাঁরা পরস্পরের কাছাকাছি। মহাত্মা গান্ধীর ১৫০ তম জন্ম বার্ষিকী পালন এদিনই শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। সেই কর্মসূচিতে এদিন বাম নেতৃত্বকে বিধান ভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। নজিরবিহীনভাবে মহাত্মা গান্ধীর জন্ম জয়ন্তী পালনে হাজির হলেন পশ্চিমবঙ্গের মার্কসবাদীরা!
সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে বিমান বসু বলেন, “গান্ধীজিকে ফলের রস খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করাননি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কারণ, রবি ঠাকুর ১৯৪১ সালেই মারা গিয়েছিলেন। আর গান্ধীজী অনশন কর্মসূচি করেছিলেন ১৯৪৬-৪৭ সালে।” বামফ্রন্টের নেতাদের এহেন বিধান ভবনে আগমন প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন , “ বিমানবাবুদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। ওঁরা এসেছেন। আমরা কৃতজ্ঞ।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news