নীল রায়:
আচমকাই আব্দুল মান্নানের নামে মুর্দাবাদ ধ্বনি উঠল রাজ্য কংগ্রেস কার্যালয় বিধান ভবনে!
বুধবার লোকসভা ভোটের আগে সংগঠনিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ আচমকাই বিধান ভবনের নিচতলা থেকে শোরগোল শুরু হয়। “আব্দুল মান্নান হঠাও হুগলি জেলা কংগ্রেস বাঁচাও’ এবং “আব্দুল মান্নান মুর্দাবাদ”। আবারও স্লোগান ওঠে, “সিপিএমের দালাল আব্দুল মান্নান দুর হঠো” এবং “তৃণমূলের দালাল আব্দুল মান্নান দূর হঠো।” এমনই স্লোগান নিয়ে একদল কংগ্রেস সমর্থক স্লোগান দিতে থাকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের নামে। কর্মী-সমর্থকদের চিৎকার পৌঁছে যায় দো-তলায় বৈঠকের ঘরে। স্লাইডিং জানলার কাঁচ সরিয়ে উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকদের চুপ করতে বলেন দীপা দাশমুন্সি ও শঙ্কর মালাকার। তাতেও কাজ হয়নি। একসময় দোতলার আরও একটি জানলা থেকে মুখ বাড়িয়ে কর্মী-সমর্থকদের চুপ করার নির্দেশ দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। তাতেও কাজ না হওয়ায় রাজ্যসভার প্রবীণ সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য নিচে নেমে এসে কথা বলেন হুগলি জেলার ওই কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে। প্রদীপ ভট্টাচার্য্যকে তাঁরা জানান, “হুগলি জেলা কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে একেবারেই সদ্ভাব নেই আব্দুল মান্নানের। রাজনৈতিক সাহায্য তো দূরঅস্ত কারও সঙ্গে ভালভাবে কথা বলেন না চাঁপদানির বিধায়ক।” কোনও রকমে তাঁদের নিরস্ত্র করেন প্রদীপ ভট্টাচার্য। কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তীর্যক মন্তব্য শুনতে হয় এই প্রবীণ সাংসদ সদস্যকেও। পরে সংবাদ মাধ্যমে হুগলি জেলা কংগ্রেস নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, “হুগলি জেলায় আমাদের পক্ষে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। তাই আমরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির কাছে অভিযোগ করতে এসেছি। সোমেন মিত্র হুগলি জেলায় যাঁকে দায়িত্ব দেবেন, তাঁর নেতৃত্বে আমরা রাজনীতি করব।” প্রসঙ্গত, যতক্ষণ বিক্ষোভ চলেছে ততক্ষণ আব্দুল মান্নান বৈঠকে যোগ দেননি। এহেন বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা বলেন, “কারা বিক্ষোভ করেছেন তা জানি না। তাঁরা কোনদিনও কংগ্রেস করেছে কিনা তাও আমার জানা নেই।” বিক্ষোভ থেমে গেলেও আব্দুল মান্নানের বিরোধী পোস্টার লাগানো হয় প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের নিচতলায়। ঘটনার জেরে একসময় বিধান ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news