পার্থসারথি পাণ্ডা : 
‘তারানাথ তান্ত্রিক’ গল্প বা ‘আরণ্যক’ উপন্যাসের নানান পরিচ্ছেদে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় অলৌকিক ও আশ্চর্য অনুভূতির হাড় হিম করা বর্ণনা দিয়েছেন। সেই বর্ণনা এসেছে তাঁর নিজেরই দেখা অলৌকিক ঘটনা থেকে। তবে শেষবারের ঘটনাটি কিন্তু খুব মারাত্মক। সেটি ঘটেছিল ঘাটশিলায়।
ঘাটশিলাকে তট করে বয়ে গেছে সুবর্ণরেখা নদী। এই নদী বিভূতিভূষণের বড় প্রিয় ছিল। আর সবচেয়ে প্রিয় ছিল এর বুকে জেগে ওঠা কাছিমের পিঠের মতো উঁচু হয়ে থাকা বড় একটি পাথর। ঘাটশিলায় থাকার সময় সেই শিলার ওপর বসে সুর্যাস্ত দেখতেন, দেখতেন ঝিঁ ঝিঁ-র ডাকে সন্ধ্যার তিরিতিরি নেমে আসা। সাহিত্যিক বন্ধুদের কলকাতা থেকে নেমন্তন্ন করে ডেকে এনে প্রকৃতির সেই অপূর্ব রূপ দেখিয়ে তিনি খুব আনন্দ পেতেন। সেই শিলা পেরিয়ে গেলেই একটা পাহাড়ের মতো বড় ঢিবি। একদিন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, বিভূতিভূষণের কী খেয়াল হল, সেই শিলা পেরিয়ে ঢিবি বেয়ে উঠতে শুরু করলেন। খানিকটা উঠতেই একটু হাঁফ ধরল। জিরোবার জন্য দাঁড়িয়েছেন, এমন সময় খানিক দূরে সাদা মতো কিছু একটা তাঁর চোখে পড়ল। জিনিসটা কী দেখার জন্য পায়ে পায়ে একটু এগোলেন, সামনে গিয়ে দেখলেন একটা সাদা চাদরে মোড়া কিছু একটা পড়ে আছে। চাদরটা সরাব কি সরাব না ভেবে, এক ঝটকায় তুলে ফেললেন, আর তুলতেই এক অদ্ভুত দৃশ্য— তাঁরই মৃতদেহ শুয়ে আছে! নিজের মৃতদেহ নিজেরই সামনে দেখে বুকের ভেতর কেঁপে উঠল, পা ভারি হয়ে গেল, সারা গায়ে জমে উঠল বিন্দু বিন্দু ঘাম, শুধু বুকের স্পন্দন যেন থেমে যেতে বাকি রইল। তারপর হুঁশ ফিরতে ছুটতে ছুটতে নেমে এলেন নীচে। তারপর বাড়ি…
এই ঘটনার ক’দিন পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আর সেই অসুস্থতা আর সারেনি। মারা গিয়েছিলেন তিনি। বিভূতিভূষণের এই অলৌকিক দর্শনের কথা একটি লেখায় জানিয়েছিলেন তাঁরই পুত্র তারাদাস বন্দোপাধ্যায়। আমার ঋণসূত্র তাঁর লেখাটি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news