নিজস্ব সংবাদদাতা:
ভূতে ধরেছিল ‘ভবিষ্যতের ভূত’কে। ওঝার কাজ করল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু এখন প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্টের রায় ঠিকঠাক মানবে তো রাজ্য?
উল্লেখ্য, গতকালই সুপ্রিম কোর্ট অনীক দত্তের ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর প্রদর্শনের পক্ষে রায় দিয়েছে। এমনকী ছবির প্রদর্শন কেন বন্ধ হয়েছিল হলফনামা দিয়ে তার জবাব দিতে বলা হয়েছে রাজ্য সরকারকে। শীর্ষ আদালত সাফ জানায়, ‘কোও ছবি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে গেলে রাজ্য সরকার বা তার কোনও সংস্থা লিখিত বা অলিখিত নির্দেশ জারি করে প্রযোজককে ছবির প্রদর্শনে বাধা দিতে পারে না।’ আদালত কড়া সুরে আরও জানায়, যদি তা করা হয় তবে সেই ‘পদক্ষেপ সংবিধান প্রদত্ত বাকস্বাধীনতার মৌলিক অধিকারে সরাসরি হস্তক্ষেপ’ বলে ধরে নেওয়া হবে। এইসঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে ছবিটির প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে সরকারকে। প্রেক্ষাগৃহে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার বন্দোবস্তও করতে বলা হয়েছে রাজ্য প্রশাসনকে।
স্বভাবতই গতকালকের রায়ের পরে খুশি ছবির প্রযোজক থেকে পরিচালক। তাঁরা আশা করছেন ফের রাজ্যের সমস্ত হলে তাঁদের সিনেমা ফেরত আসবে। শনিবার চ্যানেল হিন্দুস্তানের পক্ষ থেকে পরিচালক অনীক দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হল তিনি বলেন, ‘প্রদর্শন বন্ধ হওয়ার তো কথা ছিল না। আমরা সেই যুক্তিগুলো কোর্টকে দিয়েছিলাম। কোর্ট তাতে মান্যতা দিয়েছে। তাছাড়া এটা আমার মৌলিক অধিকার। আগেও বলেছি একটা ছবি সেন্সর সার্টিফিকেট পেয়ে যাওয়ার পর কেউ প্রদর্শন বন্ধ করতে পারে না। তাই নিজেরা প্রতিবাদ তো করছিলামই কিন্তু শেষ কথা তো আইনই বলে। ভালো লাগছে দেখে যে দেশে এখনও ন্যায় বিচার পাওয়া যায়।’ এরপর অনীককে জিজ্ঞেস করা হয়, এতদিন পর কী মনে হয়, কেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল আপনার ছবির প্রদর্শন? উত্তরে পরিচালক খানিক গুটিয়ে যান। বলেন, ‘সবাই জানে। কিন্তু সেটা মুখে বলা চলে না। আপনিও জানেন আমিও জানি। তা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে যথেষ্ট চর্চাও হয়েছে।’ তা ঠিক কিন্তু এবার ছবির প্রদর্শন শুরু হবে তো? এই প্রশ্ন করার পরেও অনীক প্রথমে নিরাবতা পালন করেন। তারপর বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট তো নির্দেশ দিয়েছে, দেখা যাক কী হয়। যতক্ষণ না প্রদর্শন শুরু হচ্ছে ততক্ষণ নিশ্চিত করে বলি কী করে!’
তার মানে এখনও ‘ভবিষ্যতের ভূত’ নিয়ে ভীত পরিচালক।
উল্লেখ্য, নির্ধারিত দিনে মুক্তি পাওয়ার পর ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর প্রদর্শন বন্ধ করে দেয় শহর কলকাতা সহ রাজ্যের অধিকাংশ হলগুলি। যদিও কে বা কারা ছবি দেখাতে বারণ করেছিল তা আজও পরিস্কার নয়। শোনা যায়, ছবিতে সমকালীন রাজনীতি এসেছে মজার সিকোয়েন্সে। যাদের বক্তব্য নিয়ে মজা করেছেন চিত্রনাট্যকর তাঁদের মধ্যে নাকি রয়েছেন শাসক দলের বেশ কিছু নেতা মন্ত্রী। আর সেখানেই রাজ্য সরকারের অস্বস্তি। তবে এসব নিছকই ধারণা। ধারণা তো এও বলছে যে, অনীক যেহেতু বিগত চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমা শিল্পীদের বদলে নন্দন চত্ত্বরে মুখ্যমন্ত্রীর এত ছবি কেন—প্রশ্ন তুলেছিলেন তাই তাঁর সিনেমা আটকে শাস্তি দেওয়া হল। যদিও আসল ঘটনা ভূতেও জানে না। ভবিষ্যতে হয়তো জানা যাবে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news