প্রসেনজিৎ ধর:
শ্রীরামপুরে বাঁড়ুজ্যে বদল!
লোকসভা ভোটের বাজারে শ্রীরামপুর সংসদীয় এলাকায় একটু গভীরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এমনটাই। শোনা যাচ্ছে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রে এবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করলে নাকি চাপ আছে তৃণমূলের! চাপ! কী রকম চাপ!
চাপ হল নিজের দলের মধ্যে, সাংগঠনিক বিভিন্ন স্তরে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন কল্যাণ। উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর, জাঙ্গিপাড়া ও ডোমজুড় বিধানসভা তো বটেই বাকি তিনটি বিধানসভাতেও দলীয় কর্মীদের কাছে কল্যাণের গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে পৌঁছেছে বলে খবর।

উত্তরপাড়া পুরসভার পৌরপ্রধান দিলীপ যাদবের অগ্রজ এবং লোকবলে ও অর্থবলে বলীয়ান তৃণমূল নেতা আচ্ছালাল পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় কল্যাণের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। আচ্ছালাল যে কথা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বলতে পারেন বেশিরভাগ সাধারণ নেতার মনে সে কথা থাকলেও তাঁরা তা মুখে বলতে পারেন না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কল্যাণ জিতলেও ভোটের ব্যবধান কমেছিল। এবার পরিস্থিতি বদলেছে। বিজেপি এখন শক্তি সঞ্চয় করেছে। মুকুল রায় বিজেপিতে। তাঁর অনুগামীরা শ্রীরামপুর কেন্দ্রে তো বটেই পুরো জেলাতেই সক্রিয়। কেউ প্রকাশ্যে কেউ বা গোপনে। এমতাবস্থায় কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করলে ফল ভাল হবে না বলেই মনে করছে জেলা তৃণমূলের একটা বড় অংশ। জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্ত এই বিষয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলনেত্রী নেবেন।’ তাহলে কল্যাণের বদলে কে? কল্যাণে যাঁরা দলের অকল্যাণ দেখছেন তাঁরা শ্রীরামপুরে চাইছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অভিষেক ডায়মন্ডহারবার থেকে এবার প্রার্থী হবেন না— কিছুদিন আগে এমন একটা খবর রটে যাওয়ার পর, অভিষেককে নিয়ে তাঁদের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
কল্যাণ নিজে অবশ্য কেন্দ্রে যথেষ্ট সময় ব্যয় করেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। তবু কেন কল্যাণে না! পাড়া থেকে ব্লক, ব্লক থেকে শহর, শহর থেকে জেলা। দলের বিভিন্ন স্তরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কথা বললে উঠে আসছে কল্যাণ সম্পর্কে একটিই প্রধান অভিযোগ, তাঁর দুর্ব্যবহার। দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে ‘কেনা গোলামের মত ব্যবহার’ করার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। পৌরসভার কাউন্সিলর-চেয়ারম্যানদের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার নাকি ন্যূনতম ভদ্রতার ধার ধারে না! তিনি তো দূরস্থান তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদেরও নাকি সমঝে চলতে হয় পুরসভার চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানদের!
এমতাবস্থায় আবার কল্যাণ নাকি সত্যিই অভিষেক?’ জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে বড়-মেজ-ছোট সব নেতার একটাই উত্তর, সে কথা দিদি জানেন! নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার যুব নেতার বক্তব্য, ‘দিদি বলেন দলে কর্মীরা সম্পদ। এখানে উল্টোটা। এখানে কর্মীরা যারপরনাই অপমানিত হন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।” প্রশ্ন হচ্ছে এসব কথা কী দলনেত্রী জানেন!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news
In2009 margin double 2014 election