দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
অমিত শাহ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। আজ, ২৭ ও কাল ২৮ তারিখ রাজ্যে থাকবেন। তারাপীঠ, পুরুলিয়া, কলতাতা, বঙ্কিমচন্দ্র, শ্যামাপ্রসাদ, বুদ্ধিজীবী, লোকসভা, সিবিআই, ইডি, সারদা-নারদা তদন্ত এমনই আরও কিছু বিষয় তাঁর সঙ্গে ঘুরবে পশ্চিমবঙ্গের দুটি জেলায় ও কলকাতা শহরে। বঙ্কিমচন্দ্র স্মারক বক্তৃতায় তাঁর বক্তব্য কী সাহিত্য কেন্দ্রিক হবে! সম্ভবত না। বন্দেমাতরমের বঙ্কিম, আনন্দমঠের বঙ্কিম নিখাদ সাহিত্যের বিষয় নয়। জিডি বিড়লা সভাঘরে তাঁর বক্তৃতায় সংবাদ মাধ্যম ও রাজনীতি সচেতন মানুষ সাহিত্য নয়, খুঁজবেন এই রাজ্যে বিজেপির গেমপ্ল্যান। এই অনুসন্ধানে কোনও অস্বাভাবিকতাও নেই। দু’দিনে যে যে বিষয় অমিত ছুঁয়ে যাবেন তার মধ্যে দলের সংগঠন বা বলা ভাল সাংগঠনিক নেতৃত্বের বিষয়টি কোথাও নেই। অন্তত প্রকাশ্যে নেই। যদিও তাঁর কলকাতায় আসার সাতদিন আগেই একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদপত্রে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়া গ্রুপের মূলত বাণিজ্যের সংবাদপত্র ইকনমিক টাইমস বিষয়টি উত্থাপন করেছে। রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি চন্দ্র কুমার বসুর একটি টুইট ও সেই টুইটে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি, ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায়ের উত্তর, এই খবরটির জন্ম দিয়েছে। চন্দ্র বসু রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর ক্ষোভ গোপন করেননি। তথাগত তাঁকে উপদেশ দিয়েছেন, এসব কথা বাইরে না বলতে।
এসব গেল টুইটার ও ইকনমিক টইমসের খবর।
রাজ্য বিজেপির বাস্তব এখন আরও কিছু বিষয় সামনে আনছে।
১) রাজ্য বিজেপিতে তেমন কোনও নেতা নেই,
সমগ্র দলে যাঁর আবেদন সমান।
২) যিনি রাজ্য সভাপতি তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান হলেও কোনও মতেই সুচারু রাজনীতিক নন।
৩) রাজনীতিতে, বিশেষ করে নেতৃত্বে লেগ ওয়ার্ক জরুরী হলেও সবটা নয়। রাজনৈতিক মস্তিষ্ক খুব দরকারি বস্তু।
৪) সভাপতি হওয়ার পর দিলীপ ঘোষকে রাজ্যের মানুষ চিনেছেন। দিলীপের আশেপাশে আরও যাঁরা নেতা আছেন তাঁদের সাধারণ মানুষ চেনেনই না। কয়েকজন ছাড়া কোনও পরিচিত মুখ নেই দলে।
৫) দিলীপ ঘোযের গ্রহণযোগ্যতা সমাজের সর্বস্তরে নেই। অন্যান্য সহঃ সভাপতি স্তরের নেতাদের তেমন পরিচিতি না থাকার ফলে, তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা কেমন হতে পারে তার কোনও আন্দাজ নেই।
৬) সম্প্রতি দিলীপের শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা দল সম্পর্কেও সাধারণ মানুষের ধারণা প্রভাবিত করতে পারে। রাজনীতিতে ধারণা বা পারসেপসান চিরকালই গুরুত্বপূর্ণ।
৭) রাজ্য বিজেপিতে যাঁরা আছেন তাঁদের মধ্যে মুকুল রায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি। একটি দলকে শুন্য থেকে শুরু করে রাজ্যে ক্ষমতায় বসানোর যে বৃহৎ প্রক্রিয়া, সেই প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ উনি ছিলেন। শুধু ছিলেন না প্রবলভাবে ছিলেন। কিন্তু তিনি বিজেপিতে নবাগত ও সঙ্ঘের শিক্ষা তাঁর নেই। তাই তাঁকে বিবিধ দায়িত্ব দিলেও উপযুক্ত পদ দেওয়া যায় কিনা তা অমিত শাহই বলতে পারবেন।
৮) যদিও রাজ্য বিজেপিতে মুকুলই একমাত্র নেতা যাঁর নতুন করে পরিচয় করাবার কিছু নেই। গোটা রাজ্য তিনি হাতের তালুর মত চেনেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতাও প্রশংসিত হয়।
৯)মমতার চোখে চোখ রেখে তিনি কথা বলতে পারেন। একইসঙ্গে তিনি তৃণমূল ও মমতা সম্পর্কে কিছু বললে তা স্বাভাবিক ভাবেই অন্য মাত্রা পায়।
১০) শমীক ভট্টাচার্যের মতো শিক্ষিত, সুবক্তা, বাঙালির টেম্পরামেন্ট বোঝা নেতাও আছেন। শহুরে বাঙালির কাছে তাঁর গ্রহনযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। তবু সম্ভবত কোনও গুঢ় কারনে তাঁর নাম সভাপতির আলোচনায় আসে না।
এ হেন পরিস্থিতির মধ্যে আরও একটি বিষয় মাথা তুলছে। কেউ কেউ বলছেন সভাপতি চাপিয়ে না দিয়ে সভাপতি নির্বাচন কেন নয়? সাংগঠনিক নির্বাচন নয় কেন? তবে রাজ্য বিজেপি এই মুহূর্তে যে অবস্থায় আছে তাতে সাংগঠনিক নির্বাচন কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়েও অনেকে সন্দিহান। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এই সময় কাকে দিয়ে দল চালানো সব দিক থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত হবে, সেটা কেন্দ্রীয় কমিটির বুঝে নেওয়াই ভাল। এমন অভিমতও দলের মধ্যে রয়েছে।
বিবিধ বিষয়ের সঙ্গে রাজ্য নেতৃত্বের বিষয়টি অমিতের গোপন এজেন্ডায় আছে কিনা তা অবশ্য সময় বলবে।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news