Breaking News
Home / Uncategorized / বাংলায় শক্ত হচ্ছে কুম্ভ মেলার ভবিষ্যত । আজ হলো শাহী স্নান

বাংলায় শক্ত হচ্ছে কুম্ভ মেলার ভবিষ্যত । আজ হলো শাহী স্নান

চ্যানেল হিন্দুস্থান জেলা ডেস্ক:

বঙ্গে কুম্ভ। ইতিমধ্যেই হুগলির ত্রিবেণী সঙ্গমে আগামী ১২, ১৩, ১৪ই ফেব্রুয়ারি মাঘী সংক্রান্তি তিথিতে দ্বিতীয়বার কুম্ভ মেলা শুরু হয়েছে। এর আগে মেলা উপলক্ষে শিবপুর কুম্ভের মাঠে গত ১’লা জানুয়ারি তে সাধু-সন্তদের দ্বারা ভূমি পূজন সম্পন্ন হয়েছে। ত্রিবেণী কুম্ভের মুখ্য শাহী স্নান উপলক্ষে আজ সকাল থেকে উপচে পড়েছে ভিড়।

একদিকে ত্রিবেনি অপরদিকে কল্যাণী মাঝেরচরের ঘাটে সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত পুণ্য স্নান করলেন ভক্তরা। ত্রিবেণী কুম্ভ পরিচালনা সমিতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন ,” গঙ্গায় কুম্ভ স্নানে আগত সকল পুন্যার্থীদের নিজের পরিচয় পত্র সঙ্গে করে এসেছেন। প্রায় কয়েক লাখ মানুষ স্নান করেছেন।” গত বছর অর্থাৎ প্রথমবারের তুলনায় এ বছর কুম্ভমেলার আয়োজন আরও বৃহৎ আকারে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাংলাতেও একসময় কুম্ভ মেলা ছিল সে কথা ভুলে গেছে বিগত অনেকগুলি প্রজন্ম। ৭০৩ বছর অপেক্ষার পর সাধুসন্তদের প্রচেষ্টায় গত বছর পুনরুদ্ধার হয়ছিলো বাংলার কুম্ভ মেলা।

পাল ও সেন যুগের পরবর্তী সময়ে বাংলায় ইসলামিক শাসকদের অনুপ্রবেশ এবং অত্যাচারের ফলে বাংলার ইতিহাস থেকে মুছে যায় কুম্ভের নাম। গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতী তিন নদীর সঙ্গমস্থল ত্রিবেণী তে আনুমানিক ১৩১৯ খ্রিস্টাব্দে শেষবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছিলো কুম্ভ মেলা।

কুম্ভ প্রধানত হরিদ্দার, প্রয়াগরাজ, উজ্জয়িনী, নাশিক এই চার স্থানে ১২ বছর অন্তর পূর্ণকুম্ভ এবং ৬ বছর অন্তর অর্ধ কুম্ভ অনুষ্ঠিত হলেও ভারতবর্ষের বিশেষ বিশেষ তীর্থস্থানে সামাজিক কুম্ভের প্রচলন আছে।

বেহুলা-লক্ষিন্দর খ্যাত হুগলি জেলার ত্রিবেণী ভারতের তীর্থস্থানের মানচিত্রে এক অন্যতম স্থান। প্রাচীনকালে তিন নদীর সঙ্গমস্থল তথা সপ্ত ঋষির তপস্যা কেন্দ্র এই ত্রিবেণী মুক্তবেণী নামে পরিচিত এবং এলাহাবাদের প্রয়াগরাজ ত্রিবেণী’কে যুক্তবেণী বলা হয়। প্রাচীন ইতিহাসের বিখ্যাত মুনি-ঋষিরা এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের সাধু-সন্তরা তপস্যা করতে হুগলির ত্রিবেণী সঙ্গমস্থলে আসতেন। বাংলায় বহুকাল আগে থেকেই ত্রিবেনীর এই স্থানে কুম্ভস্নান অনুষ্ঠিত হত। বাংলায় পাল ও সেন যুগের পরবর্তী সময়ে বক্তিয়ার খিলজীর অনুপ্রবেশের পর ইসলামিক অত্যাচারের ফলে হিন্দু তীর্থস্থান গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে এবং দিল্লীর সিংহাসনে আলাউদ্দিন খিলজীর পর তুঘলক বংশের শাসনকালের শুরুতে গঙ্গা-সরস্বতী নদীর কূলবর্তী সপ্তগ্রাম বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বাড়লে সেনাপতি জাফর খাঁ গাজী বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে বাংলায় প্রবেশের কিছুদিন পর ত্রিবেণী ঘাটের বিষ্ণুমন্দির ধ্বংস করে গাজীর দরগায় পরিণত করে। কথিত আছে বহিরাগত আক্রমনের কারণেই ত্রিবেণী’তে প্রায় ৭০০ বছর আগে কুম্ভ মেলা বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলায় যমুনা নদী স্রোত হাড়িয়ে আজ বিলুপ্ত, সরস্বতী নদী নিজস্ব স্রোত হারিয়ে বিলুপ্তপ্রায়, শুধুমাত্র গঙ্গা বয়ে চলেছে সেইসঙ্গে বাংলার সাধু-সন্তদের অন্তরে ৭০৩ বছর ধরে সুপ্ত অবস্থায় বয়ে চলেছে কুম্ভ পুনরুদ্ধারের চেতনা।
অবশেষে বহুকাল পর স্বামী উত্তমানন্দ গিরি মহারাজ, স্বামী তিতিক্ষানন্দজী মহারাজ, স্বামী নির্গুনানন্দ মহারাজ, স্বামী লালবাবা মহারাজ, স্বামী প্রদিপ্তানন্দজী মহারাজ সহ বাংলার সকল প্রান্তের মঠ, মন্দির, মিশন, আখড়া, আশ্রমের সমস্ত সনাতনী সম্প্রদায়ের সাধুসন্তদের উদ্যোগে গত বছর মাঘ মাসের সংক্রান্তি ভৈমী একাদশী তিথিতে বাংলার ইতিহাসে কুম্ভস্নান পুনরুদ্ধার হয়।

সোমরা বাকিপুর আশ্রমের স্বামী উত্তমানন্দ গিরি মহারাজ জানিয়েছেন,” বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের মঠ মন্দির মিশন আশ্রমের সাধু-সন্ত সন্ন্যাসী মিলিত হয়ে বাংলার সাধু-সন্ত সমাজের পক্ষে তিনজন সন্যাসীর কুম্ভের যজ্ঞ পরিচালনার মাধ্যমে গত বছর কুম্ভের ঘট তথা অমৃত কলস স্থাপন করা হয়েছে।”

বঙ্গ কুম্ভ মেলা পরিষদের সভাপতি মহারাজ রঞ্জিতানন্দ বলেন, “৭০৩ বছর পর কুম্ভ পুনরুদ্ধার হলেও মাঝে চৈতন্য মহাপ্রভুর পরম্পরায় দাস রঘুনাথ কুম্ভ প্রচলনের চেষ্টা করলেও কিছু সময় পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ” ত্রিবেণী সপ্তর্ষি ঘাট খুবই ঐতিহ্যপূর্ণ স্থান, গঙ্গাসাগরে যেমন কপিলমুনি তপস্যা করেন তেমনই মৈত্রী, অত্রি, পুলস্ত, পুলহ, ব্যাস, বশিষ্ঠ, বিশ্বমিত্র সপ্তঋষি এখানে তপশ্যা করেছেন এবং বাবা লোকনাথের গুরুভাই বেনিমাধভ সহ নানা বিশিষ্ট মনিষীরা এই ঘাটে সাধনা করতে আসতেন। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে সমুদ্র মন্থনের সময় ত্রিবেণী তিন নদীর সঙ্গমস্থলে জলোচ্ছ্বাস হয়।

হরিদ্দার এলাহাবাদ কুম্ভের মত বাড়ির কাছে কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হবার ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি একটি বড় পাওনা। নাগা সাধু সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন ঘরানার সাধু-সন্ত সন্ন্যাসীরা সঙ্গমস্থলে পদার্পণ করবেন। মেনস্ট্রিম মিডিয়া ঐতিহ্যবাহী এই কুম্ভের সম্প্রচার না করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ত্রিবেণী কুম্ভ পুনরুদ্ধারের ঘটনা। এদিন এই মেলায় আসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। শাহী স্নানও করেন।

পরে তিনি বলেন,” আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি, মুসলিম শাসকদের অত্যাচারে এই কুম্ভ বন্ধ হয়ে যায়। তা আবার চালু করা গেল। এই লক্ষ লক্ষ হিন্দুদের ভিড় প্রমাণ করছে বাংলাতে সনাতনি হিন্দুদের জাগরণ শুরু হয়েছে, এই বাংলা ও সোনার বাংলা হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। ”

একজন সন্ন্যাসী বাবা কে বলতে শোনা যায় – “যদি হিন্দুত্ব বেঁচে থাকে তবে সেখানে জোড়া ফুলও ফুটবে, পদ্মফুলও ফুটবে। কিন্তু যদি হিন্দুত্ব বেঁচে না থাকে তবে কোনো ফুলই ফোটানো সম্ভব হবে না”। শুরু হলো চৈতন্য স্নানঘাট পুনরুদ্ধার ও জাগরনের কাজ। কল্যানীর মাঝের চর এ। এই ঘাটেই স্নান করেছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। গতবছর ত্রিবেনীতে যে সব মহারাজদের নেতৃত্বে কুম্ভস্নান সম্পন্ন হয়েছিল এবার সেই সব মহারাজদের নেতৃত্বেই কল্যানীতে সনাতনী সমাজের মহাজাগরন।

গঙ্গাতীরে গড়ে উঠছে ১০৮ যজ্ঞকুন্ড।
কল্যানী শহর ও আশেপাশের এলাকায় জুলুস এ নেতৃত্ব দেবেন ১০৮ জন নাগা সন্ন্যাসী। সামনে থাকবে ১০৮ কিশোরী। ১৫ ফ্রেব্রুয়ারী পর্যন্ত গঙ্গাপাড়ে সাধুদর্শন।
যেখানে সাধু সমাগম সেখানেই কুম্ভ।
মার্গদর্শক হিসাবে আছেন
স্বামী প্রদীপ্তানন্দ, স্বামী নির্গুনানন্দ,
স্বামী রঞ্জিতানন্দ, বন্ধুগৌরব মহারাজ স্বামী সর্বানন্দ অবদূত, শঙ্কর মহারাজ, জগদার্তিহা দাস প্রভু, এবং আরো ১০৮ জন প্রাজ্ঞ সন্ন্যাসী।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *