Breaking News
Home / TRENDING / বেনাপোল দিয়ে আমদানি শুরু হলেও ৩ মাস বন্ধ রয়েছে রফতানি- ২০০০ কোটির বাণিজ্য ঘাটতি

বেনাপোল দিয়ে আমদানি শুরু হলেও ৩ মাস বন্ধ রয়েছে রফতানি- ২০০০ কোটির বাণিজ্য ঘাটতি

চ্যানেল হিন্দুস্থান ব্যুরো ঢাকা :

বাংলাদেশের (Bangladesh) সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল (Benapole) দিয়ে ভারতের সঙ্গে আড়াই মাস ধরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকার পর গত ৭ জুন এই পথে ভারতীয় পণ্যের আমদানি বাণিজ্য শুরু হলেও করোনা ভাইরাসের (Coronavirus) নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে প্রায় তিন মাস যাবত ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রেখেছে। রফতানি বন্ধ থাকায় ইতিমধ্যে প্রায় ২০০০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে দফায় দফায় বৈঠক করা হলেও সচল হয়নি রফতানি বাণিজ্য। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা চলছে, শিগগিরই রফতানি বাণিজ্য চালু হবে। স্বাভাবিক সময়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড়শো থেকে ২০০টি ট্রাক পণ্য ভারতে রফতানি হয়।

সূত্রের খবর, বাংলাদেশি রফতানি পণ্যের বড় বাজার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম ভারত। বাংলাদেশের স্থলপথে যে রফতানি বাণিজ্য হয় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দরুণ তার ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। প্রতি বছর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৯ হাজার মেট্রিক টন পণ্য ভারতে রফতানি হয়। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় গত ২২ মার্চ থেকে স্থলপথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে দুই প্রান্তে বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় পণ্য নিয়ে আটকা পড়ে প্রায় কয়েক হাজার ট্রাক। ভারতে লকডাউন শিথিলে দফায় দফায় বৈঠকের পর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গত ৭ জুন ভারতীয় পণ্যের আমদানি বাণিজ্য শুরু হলেও বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি বাণিজ্য এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। রফতানি বাণিজ্য চালুর বিষয়ে ব্যবসায়ী মহল স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারত এই মুহূর্তে রফতানি পণ্য নিতে আগ্রহী না। ভারতের সঙ্গে তিন মাস যাবৎ রফতানি বাণিজ্য বন্ধ বেনাপোল বন্দরে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকার। দফায় দফায় বৈঠক করা হলেও সচল হয়নি বাণিজ্য। এতে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীর বলছেন, দেশীয় পণ্য রফতানির বড় বাজার প্রতিবেশী দেশ ভারত। রফতানি বন্ধ থাকায় তাদের লোকসানের পাল্লা দিন দিন ভারি হচ্ছে। যেহেতু এই পথে আমদানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে, তাই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ফলপ্রশু আলোচনা হলে রফতানি বাণিজ্যও শুরু হবে। রফতানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে যেমন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় তেমনি সরকারের বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হয়ে থাকে।

রফতানি পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক চালকেরা বলছেন, করোনার কারণে রফতানি বন্ধ থাকায় ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় এখানে কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রাক আটকে আছে। রফতানি বাণিজ্য সচল হবে এমন প্রত্যাশায় তারা বন্দরে তিন মাস ধরে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু ভারতীয়রা পণ্য নিচ্ছে না। এতে তাদের খাওয়া-দাওয়া ও থাকাসহ নানান ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ এ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, “স্থানীয়ভাবে রফতানি বাণিজ্য সচলের বিষয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে। তবে কবে কখন রফতানি পণ্য নিয়ে ট্রাক ভারতীয় বন্দরে প্রবেশ করবে তার কোনো নির্দিস্ট তারিখ নেই।” বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, “তিন মাস এপথে রফতানি বাণিজ্য বন্ধে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে। স্থানীয় ভাবে বৈঠকে চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সফলতা আসছে না। যেহেতু আমদানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে, তাই উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনা না করলে রফতানি বাণিজ্য চালু করা সম্ভব হবে না” ইন্দো-বাংলা চেম্বার অফ কমার্স সাব কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, এবছর ১০ হাজার কোটি টাকার রফতানি বাণিজ্য হওয়ার কথা। কিন্তু করোনায় তা থমকে দাঁড়িয়েছে। রফতানি বাণিজ্য সচলের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে। করোনার মধ্যে বাণিজ্য সচল নিয়ে তারা একটি এসওপি পাঠিয়েছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, যে প্রক্রিয়ায় আমদানি শুরু হয়েছে, একই প্রক্রিয়ায় যেনো রফতানি শুরু হয় সে বিষয়ে ভারতের বন্দর কর্তৃপক্ষকে আমরা বলেছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে রফতানি কার্যক্রম চালু করতে কোনও অসুবিধা দেখছি না। রফতানি বাণিজ্য সচলের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই আমদানির মত রফতানি বাণিজ্যও চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড়শ থেকে ২০০টি ট্রাক বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হয়। রফতানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওভেন গামেন্টস, নীটেড গামেন্টস, নীটেড ফেব্রিকস, চিংড়ি মাছ, অন্যান্য মাছ, কাঁচা পাট, পাটজাত দ্রব্য (পাটের ব্যাগ,পাটের সূতা), বসুন্ধরা টিস্যু, সুপারি, ধানের কুড়া, কর্টন র‌্যাগস (বর্জ কাপড়) ফ্লোট গাস, ব্যাটারি,জিংক পেট,সিরামিক টাইলস,সাবান,হাড়ের গুড়া, কাঁচা চামড়া, সম্পূর্ণ প্রস্তুুত চামড়া, ওষুধ, ক্যামিকেল পণ্য, সবজি, ফল, চা, পেট্রোলিয়াম বাই প্রোডাক্ট, হস্ত শিল্পজাত পণ্য, সিমেন্ট ইত্যাদি রফতানিজাত পণ্য সামগ্রী।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *