নিজস্ব সংবাদদাতা:
ধর্মঘট অসফল করে মোদীর হাত শক্ত করছেন মমতা বলল কংগ্রেস-সিপিএম। দু’দিনের ধর্মঘটে যাবতীয় ইস্যু পিছনে ঠেলে এখন মমতা-মোদী ঘনিষ্ঠতা প্রমাণে মরিয়া কংগ্রেস-সিপিএম। মঙ্গলবার সকাল থেকে ধর্মঘট সফল করতে নেমে গ্রেফতার হন সুজন চক্রবর্তী, আনাদি সাহু, সুভাষ মুখোপাধ্যায়রা। তাঁদের কথায়, এই ধর্মঘট মোদী সরকারের ভ্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে। প্রতিবারের মতো ঘোষিত ভাবেই ধর্মঘটের বিরোধিতা করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। আর এই মওকায় সিপিএম ও কংগ্রেস নেমে পড়েছে মমতা-মোদী ঘনিষ্ঠতা প্রমাণে। কারণ দু’পক্ষই জানে ধর্মঘট সফল হওয়ার চেয়ে তার ব্যর্থতার দায় তৃণমূল নেত্রীর ওপর চাপিয়ে বিজেপি যোগ প্রমাণ করতে পারলেই রাজনৈতিক লাভ।

বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান আবার এক কদম এগিয়ে বলছেন, “শুধু ধর্মঘট ব্যর্থ করেই নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় স্তরে ফেডারেল ফ্রন্টের ধুয়ো তুলে মোদীকে আরও একবার সরকার গঠনের সুযোগ দিতে চান।” একই পথের পথিক সিপিএম। বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন “আমরা আম জনতার হয়ে কেন্দ্রের জনবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ধর্মঘট ডেকেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন দিয়ে সরকার শুধু ধর্মঘট ভাঙার নোংরা চেষ্টাই করেননি, মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করে দিয়েছেন মোদীর সঙ্গী তিনি।”
সিপিএম-কংগ্রেসের এ হেন পাতা ফাঁদে পা দিতে নারাজ তৃণমূল। ধর্মঘট প্রসঙ্গে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আসলে সাধারণ মানুষ এই বনধকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। তাই নানা কথা বলে বনধ ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। ২০-২৫ জনকে নিয়ে গিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে ধর্মঘটকারীরা।” সরকারপক্ষের কটাক্ষ খণ্ডণ করতে সাত তাড়াতাড়ি বিবৃতি প্রকাশ করেছে সিটু। তাদের পক্ষ থেকে সভাপতি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বলেন, “২০১১ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে এবারের এই ধর্মঘট দাগ কাটতে পেরেছে। ভোর থেকে সর্বত্র রাস্তায় কমরেডরা ছিলেন। উদ্ভাবনী ভাবনার প্রকাশ দেখা গেছে।”

এই বিবৃতিতে ২০১১ সালের কথা উল্লেখ করে সিপিএম নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে মুখে বিজেপি বা নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে লড়াই তথা ধর্মঘটের কথা বললেও আখেরে টার্গেট “জাতশত্রু” মমতাই। ধর্মঘটের আরও একদিন বাকি। এমনদিনে মোদীকে “শিখণ্ডী” করেই আবারও সম্মুখসমরে কংগ্রেস-সিপিএম বনাম তৃণমূল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news