নীল রায়।
মিললি আল আমিন কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন কলকাতা প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে রাজনীতির উত্তাপ বাড়িয়ে তাঁর পদত্যাগের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন তিনি। বুধবার গোলপার্কের বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মিললি আল আমিন কলেজের অধ্যক্ষা বৈশাখি বলেন, “যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আমি এত শ্রদ্ধা করতাম, তাঁর ইন্ধনেই এমনটা হচ্ছে। আমি হতবাক। পার্থদা ২৩ জুলাই শোভনদার সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন। সেদিনই আমি পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করি। উনি আমাকে আশ্বস্ত করেন। বলেন, আমি থাকতে কোনও অপমান হবে না, কেন তুমি পদত্যাগ করতে চাইছ? অথচ তাঁর নির্দেশেই এসব হচ্ছে! আমি হিন্দু হয়েও এতদিন এই কলেজে রয়েছি, কোনওদিন সাম্প্রদয়িকতার অভিযোগ ওঠেনি। এখন হঠাৎ কেন উঠবে? কালই আমি ভিসির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “সিপিএম জমানায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, আমি তৃণমূল করি। রাজ্যে পরিবর্তনের পর বলা হত, আমি সিপিএম।এখন বলা হচ্ছে আমি আরএসএস-বিজেপি ঘেঁষা। বারবার এইভাবে আমি লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছি।”
তাঁকেই যে আক্রমণের নিশানা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলেন বৈশাখী। দুঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই সাংবাদিক সম্মেলনে বান্ধবীর পাশেই ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। এদিন বৈশাখী বলেন, “আমি সব দোষ মেনে নিতে পারি কিন্তু আমাকে সাম্প্রদায়িক তকমা দেওয়া হলে সেটা মেনে নিতে পারব না। আমি প্রেসিডেন্সিতে লেখাপড়া করা মেয়ে। আমি যাদবপুর থেকে পিএইচডি করেছি।” তিনি আরও বলেন, “কলেজে তাঁকে হেনস্থা করার জন্য চক্রান্ত চলছে। এখন দিদিকে বলো কর্মসূচি চলছে। তার মধ্যেই আমি এই সব কথা দিদিকে জানাতে চাই।”বৈশাখি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আরজি জানালেন,”দয়া করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনীতি এবং সাম্প্রদায়িকতার রং লাগতে দেবেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ‘দিদিকে বলো’ নামে একটি কর্মসূচি শুরু করেছেন। আজ আমি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সেই দিদিকেই বলতে চাই, যেভাবে আমি অন্যায়ের শিকার হয়েছি তার বিহিত করুন।”
পদত্যাগ ও বান্ধবীর অভিযোগ প্রসঙ্গে শোভন চট্টোপাধ্যায় বক্তব্য “পুরো সিদ্ধান্তটাই বৈশাখির নিজের। আমার চাপিয়ে দওয়া নয়। আমি বন্ধু হিসেবে এই সিদ্ধান্তের পাশে থাকব। তবে, এটা কোনও ছোটখাট ব্যপার নয়। এর পিছনে গভীর রাজনীতি রয়েছে। সরকার এবং শিক্ষা দপ্তরের পুরো ব্যপারটি খতিয়ে দেখা উচিত, এবং তদন্তের ব্যবস্থা করা উচিত।”
প্রসঙ্গত,মিললি আল আমিন কলেজের এক অধ্যাপিকা সাবিনা ইয়াসমিন ওমর গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুক লাইভ করে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন বলে জানান বৈশাখী। যা অত্যন্ত আপত্তিকর। তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় মদত দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও উচ্চ শিক্ষা দফতরের বেশ কিছু কর্তা। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবগত বলে মনে করছেন এই তন্বী অধ্যাপিকা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news