দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় :
নীল বণিক :
সাংবাদিক বৈঠকের বিষয় ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের তির ছিল সুক্ষ। হলে কী হবে! অনেকটা রিয়েলিটি শো-এ আ্যঙ্করিং করার ভঙ্গিতে সাংবাদিক বৈঠক করে তথ্য প্রমাণ সহ অভিযোগের বোমা জলে ভিজিয়ে ফাটালেন গায়ক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুপ্রিয় বড়াল ওরফে বাবুল সুপ্রিয়। কী ভাবে বললেন আর তার প্রতিক্রিয়াই বা কেমন হল? সে কথায় পরে আসছি। আগে জেনে নিন কি বললেন বাবুল।
বাবুল উবাচঃ
“কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি কেজি চালের পিছনে ৩৩ টাকা দেয়। আর রাজ্য দেয় এক টাকা। সেই চাল হাতে পেতে রাজ্যের মানুষ দু টাকা খরচ করেন। আর গমের পিছনে রাজ্য সরকার কোনও পয়সা খরচ করে না। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া টাকার উপর ভর করেই মমতার জনমোহিনী প্রকল্প চলছে। তবে এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের একবারও নাম উচ্চারণ করে না রাজ্য সরকার। শহরের পাণীয় জলের অম্রুত প্রকল্পকে রাজ্য সরকার নিজের প্রকল্প বলে চালাচ্ছে।”
রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজ্যরাজনীতিতে বিজেপি এখন কার্যত প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায়। মুকুল রায় দলে যোগ দেওয়ার বিজেপির বিরোধী ভূমিকা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই রাজ্যে বিজেপিকে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের আগ্রহ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সময় বিজেপির মনে রাখা দরকার যাঁর সঙ্গে লড়তে নেমেছেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি মাঠের লড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতিতে মিডিয়ার লড়াইটাও খুব ভালভাবে জানেন।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করতে বসে একই বিষয় নিয়ে পরের পর কাগজ তুলে ধরে (অনেকটা মুকুলের স্টাইলে!) তিনি সাংবাদিকদের হাসিয়েছেন, পাশে বসে বিজয়বর্গীয় হাই তুলেছেন আর রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তাঁকে থামাবার চেষ্টা করেছেন! একটি গুরুতর বিষয়কে লঘুতর করে কেন উপস্থাপিত করলেন বাবুল? এই প্রশ্ন বিজেপির মধ্যেেই গুঞ্জরিত হচ্ছে।
রাজ্য বিজেপির এক পরিচিত মুখের নেতার বক্তব্য, ওঁর মনে রাখা উচিত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই করা আর তাঁর সঙ্গে ফুচকা খাওয়া এক বিষয় নয়।
প্রশ্ন উঠেছে তিনি চাল ও গম নিয়ে যা বললেন তা কী সাংবাদিক বৈঠকে বলার বিষয়! নাকি ব্লকে ব্লকে মিটিং করে এটা স্থানীয় নেতাদের কাজ মানুষকে জানানো, জনমত তৈরি করা!
আসানসোলের মেয়রকে আক্রমণ করতে তিনি কেন দলের রাজ্য দফতর বেছে নিলেন? বিজয়বর্গীয়র মত দলের বড় মাপের নেতাকে পাশে বসিয়ে নিজের আক্রমণ কেন আসানসোলের মেয়রের মধ্যেই সীমিত রাখলেন, উঠেছে এই প্রশ্নটিও।
এর আগেও কলকাতায় অমিত শাহের জনসভায় বক্তৃতা দিতে উঠে কয়েকবার মুম্বাইয়া কায়দায় ‘দিদি দিদি’ বলে ডেকে ওঠা ছাড়া বাবুল আর বিশেষ কিছু বলে উঠতে পারেননি। এদিনও যথেষ্ট সিরিয়াস একটি বিষয় নিয়ে বলতে গিয়ে কার্যত লোক হাসালেন বাবুল। কিন্তু কেন?
বিজেপির আর এক নেতার কথায়, “দলে এরকম দু’চারটে বাবুল থাকলে, হাজারটা মুকুল রায়ও তৃণমূলের কিচ্ছু করতে পারবে না। দেখে নেবেন।”
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news