ভাস্কর মান্না:
অযোধ্যা মামলার রায়দানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে পুরাতত্ত্ব। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (ASI) মতে, বাবরি মসজিদের নীচে যে কাঠামো পাওয়া গিয়েছে তা অ-ইসলামী। তবে তা হিন্দুদেরই তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কিছু ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে যেগুলি হিন্দু ধর্মের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। যেমন হাতি, কুমির, কলসি বা কচ্ছপের মতো প্রাণীর বিভিন্ন ধরনের টেরাকোটার মূর্তি পাওয়া যায়। যা সাধারণত মন্দিরের উপস্থিতি প্রমাণ করে।

বাবরি মসজিদের নীচে খনন করা হয়েছিল দু’দফায়। প্রথম খনন কাজ হয়েছিল ১৯৭৬-৭৭ সালে। তারপর ২০০৩ সালে ইলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে ফের খনন করা হয়। প্রথম দফায় এই খনন কাজে যুক্ত ছিলেন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া ডিরেক্টর (উত্তর) কে কে মহম্মদ। তিনিই প্রথম বাবরি মসজিদের তলায় মন্দিরের নিদর্শনের কথা বলেন। তাঁর এই দাবিকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তারপরেও তিনি বলেছিলেন, “আমি সত্যিটাই বলছি। আর এটা করতে গিয়ে যদি আমার মৃত্যু হয়, তাও ভালো।” ২০০৩ সালে দ্বিতীয় দফায় ফের পাঁচ মাস ধরে খনন কাজ চলে। এদিনের সর্বোচ্চ আদালতের রায় এই তত্ত্বের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। অর্থাৎ কে কে মহম্মদ সেদিন যা বলেছিলেন, এদিনের রায় তারই পরিপূরক বলা চলে!

কেরলের এক মুসলিম পরিবারের সন্তান মহম্মদ। যিনি আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করেছেন। প্রত্নতাত্ত্বিকবিদ হিসেবে একাধিক সাফল্যের মুকুট রয়েছে তাঁর মাথায়। তিনিই প্রথম দাবি করেছিলেন, আকবরের ‘দীন-ই-ইলাহী’ বিভিন্ন ধর্মের মেলবন্ধনের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া তিনি জানিয়েছিলেন, উত্তর ভারতের প্রথম খ্রিস্টান চ্যাপেল আকবর তৈরি করেছিল। যেটি ফতেপুর সিক্রি নামে পরিচিত। বুদ্ধ স্তূপ কেশরিয়া সম্রাট অশোক করেছিলেন। প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়ে মহম্মদের এই উল্লেখযোগ্য কাজকর্মের জন্য এ বছর তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news