নীল রায়:
ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংকে আটকাতে হিমসিম খাচ্ছে তৃণমূল। ব্যারাকপুর লোকসভার অধীন জগদ্দল বিধানসভা ব্যারাকপুর-১ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ভাটপাড়া পৌরসভা ১৮-৩৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ইতিমধ্যে ভাটপাড়া পৌরসভা দখলে নিয়েছে বিজেপি। চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে মামুদপুর ও পানপুর কেউটিয়া পঞ্চায়েত সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই তৃণমূলের থেকে নিয়ে তাতে গেরুয়া ঝান্ডা উড়িয়েছেন অর্জুন। শনিবার সকালে কাউগাছি-১ পঞ্চায়েতের অফিসে আসেন ব্যারাকপুরের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। এদিনই ওই পঞ্চায়েতের ২৪ জন সদস্য যোগ দেন বিজেপিতে।
ঋষিবঙ্কিম-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সুকুমার মিএও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন অর্জুন সিংয়র হাত ধরেই। কাউগাছি-২ নম্বর পঞ্চায়েত এখনও তৃণমূলের দখলে রয়েছে। সেই পঞ্চায়েত যাতে হাতবদল হয়ে রোখা যায়, সেই রণনীতি ঠিক করতে কাঁচরাপাড়ার এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে বৈঠকে বসেন নেতারা। জেলা তৃণমূল সভাপতি খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ছাড়া এই বৈঠকে ছিলেন পরিষদীয় মন্ত্রী তাপস রায়, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্র, নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক, জগদ্দলের পরশ দত্ত, মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ প্রমুখ। এরই মধ্যে কাঁচরাপাড়ার যে বাড়িতে এই বৈঠক বসেছিল তার বাইরে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা জমায়েত শুরু করেন। আচমকাই জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে দ্রুতই খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে।
দীর্ঘক্ষন বৈঠক চলার পরও কীভাবে কাউগাছি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত অর্জুনের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করা যায়? তার কোনও নীল নকশা ঠিক করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেসের এই থিঙ্ক ট্যাঙ্ক! মাস আড়াই আগে যে অর্জুন সিং তৃণমূলের বাহুবল ছিলেন ব্যারাকপুরে। সেই অর্জুন জার্সি বদল করতেই, তাঁকে সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে গোটা তৃণমূল শিবির! এদিন যখন তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা বৈঠক করছেন, তখনই তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন ব্যারাকপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি স্বপ্না মন্ডল ও পঞ্চায়েত সদস্য প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news