অনিকেত চট্টোপাধ্যায় (চলচ্চিত্র পরিচালক):

আরবান মাওয়িস্ট’দের ওপর নজরদারি নতুন ঘটনা না। এই কাজ কংগ্রেস সরকারের আমলে শুরু হয়েছিল। আর্বান মাওয়িস্ট ও আর্বান মাওয়িস্ট সংগঠনগুলির উপর নজরদারির জন্য চিদাম্বরম একটি তালিকা তৈরি করান সেই সময়। কাজটা যে কংগ্রেস শুরু করেছিল তার প্রমাণ, ভারভারা রাও সহ অন্যদের ধরপাকড়, নজরদারি নিয়ে গোটা দেশে প্রতিবাদ শুরু হলেও, বহু দল প্রতিবাদ করলেও কংগ্রেস কিন্তু করছে না।
তবে মোদী সরকারের নজরদারি আর কংগ্রেস সরকারের নজরদারির মধ্যে পার্থক্য আছে। সে সময় চিদাম্বরম তালিকা তৈরি করেছিলেন কিছু শিল্পপতিদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য। আসলে ছত্তিশগড় থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ—ওই অঞ্চলটায় রয়েছে খনিজের ভাণ্ডার। ডলোমাইট ইত্যাদি। ওখানকার আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা ছিল উদ্দেশ্য। তবে মোদীর এজেন্ডা আলাদা।
প্রচুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি সরকার। মন্দির গড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নয়, বিকাশের প্রতিশ্রুতি। বিপক্ষে থেকে প্রশ্ন তুলেছিল—টাকার দাম এত কমে যাবে কেন? পেট্রল ডিজেলের দাম এত বাড়ছে কেন? দেশ জুড়ে কৃষকরা আত্মহত্যা করছে কেন? এইসব তারা ক্ষমতায় এলে ঠিক করে দেবে, এই মর্মে প্রচার চালিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল মোদী সরকার। কিন্তু সবটাই ব্যাক ফায়ার হয়ে গেছে। কোনওরকম বিকাশ হয়নি। ডিমানিটাইজেশনে সব টাকা ব্যাংকে ফেরত এসেছে। আর এটিএমের লাইনে দাঁড়িয়ে ১০০জনের বেশি মানুষ মরেছে। বিদেশের কালো টাকাও ফেরত আসেনি। জিএসটিতেও লাভের লাভ কিছু হয়নি। এদিকে সামনে লোকসভা ভোট। তাহলে উপায়? উপায় একটাই—জাতীয়তাবাদি জাদু!
প্রথমত, দেশের শত্রু পাকিস্তান আর মুসলমান। তাই বর্ডারে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। আর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার শত্রু মাওবাদিরা। তাঁদের সমর্থনকারীরা। যে মানবাধীকার কর্মীরা আদিবাসীদের জন্য, সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য কাজ করছে তাঁদেরকে দেশের শত্রু বানাও। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে দুটো মাস্টার প্ল্যান। আগামী নির্বাচনের প্ল্যান। একটা ধুয়ো তোলা—‘দেশ খতরে মে হ্যায়’। যেহেতু তারা বিকাশের সমস্ত ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে, তাই দেশের মানুষের চোখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। ইতিহাস জানে, জার্মানিতে এই কাণ্ড হয়েছিল। প্রথমে কমিউনিস্টদের মারা, তারপর ইহুদি নিধন। না হল প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের দায়ে গৌতম নওলাখার মতো বিশিষ্ট সাংবাদিককে কেউ গ্রেপ্তার করে! হাস্যকর কাণ্ড!
প্রসঙ্গক্রমে জানাই, যে সব সংগঠনের উপর নজরদারির কথা বলা হয়েছে। যেমন, এপিডিআর, লালগড় মঞ্চ ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ধরনের সংগঠনের সঙ্গে আমরা অনেকেই জড়িত। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার কোন কাজটা কেন করছে বুঝতে পারি।
বলতেই হয়, সাংঘাতিক সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এদেশের মানুষ। আমাদের আসলে পাল্টা প্রশ্ন করা উচিত এখন—কৃষক আত্মহত্যা বাড়ছে কেন? ইকনমি মার খাচ্ছে, টাকার দাম সাংঘাতিক কমছে কেন? তেলের দাম বাড়ছে কেন? জিএসটিতে কী লাভ হল? ডিমানিটাইজেশন কোন কাজের কাজটা হল? বিদেশ থেকে কালো টাকা আনবেন বলেছিলেন, সে সব কোথায়?
(লেখকের বক্তব্য নিজস্ব)
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news