চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
“ভার্চুয়াল জনসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) অসত্য ভাষন দিয়েছেন।” এমনটাই অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র (Somen Mitra)। মঙ্গলবার অমিত শাহের ভার্চুয়াল জনসভা শেষ হওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। সোমেন মিত্র বলেছেন, “বাংলার মানুষের জন্য দেশের স্বরাষ্ট্রন্ত্রীর বক্তব্যে রাজ্যের জন্য কিছু ঘোষণা হবে ভেবেছিলাম, কিন্তু এত অসত্য ভাষণ আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শুনিনি।” তিনি আরও বলেন, “যখন সারা দেশ করোনা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হঠাৎ দীর্ঘ অন্তর্ধান পর্ব থেকে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে ২০২১ সালে এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার, তাঁর স্বপ্নের কথা শুনিয়ে গেলেন।”
কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সভাপতি বলেছেন, “যে দলের মিছিল মিটিংয়ে বাঙালি নেতা – কর্মীর সংখ্যা নেহাত নগণ্য তাঁরা বাংলার জয়ের অলীক স্বপ্ন দেখছে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলার সম্পর্কে তাঁর যে কোন ধারণাই নেই, সেটা প্রমাণ হল, ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব এবং স্বামী বিবেকানন্দের সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান শুনে। তিনি বললেন, ঠাকুর আর স্বামীজী নাকি হিন্দু ধর্ম পুনরুদ্ধার করেছেন! এই উভয় মহাপুরুষের শিক্ষার ভিত্তি যে সর্বধর্মের সমন্বয় সেই ন্যূনতম জ্ঞানটুকটুও যাঁদের নেই, বাংলার মানুষ তাঁদের ভরসা করবেন কি করে ?” তাঁর কথায়, “মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলার মানুষ যে আপনাদের মতো গিমিক সর্বস্ব মানুষকে কখনও পছন্দ করেন না সেটাই আপনি জানেন না। যেটুকু দল ভাঙিয়ে লাফালাফি করছেন সেটা আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর ‘রিটার্ন গিফটের’ জন্য। যেমন নারদ মামলায় টিএমসি সাংসদদের সিবিআই তদন্তের জন্য অনুমতি এখনও স্পিকার দেন নি, সারদা মামলায় প্রভাবশালীদের গ্রেফতারি আটকে রেখেছেন , প্রধানমন্ত্রী এবং আপনার সাথে দেখা করার পরেই রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে তদন্ত লাল ফিতেতে বাঁধা পড়েছে।”
বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি অমিত শাহকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “অমিত শাহ বললেন, বাংলার সরকার তাঁরা ভাঙবেন না কারণ বিজেপি নাকি কোনভাবেই পিছনের দরজা দিয়ে সরকার গড়ে না! জিতেই সরকার বানায়। কর্ণাটক , মেঘালয়, মনিপুর, গোয়া ,অরুণাচল প্রদেশ এবং অধুনা করোনা আবহে মধ্যেপ্রদেশ– কোন রাজ্যে আপনাদের সংখ্যা গরিষ্ঠতা ছিল ? এই অসত্য কথা শুধু প্রচার আর মিডিয়ার জোরে বাংলার মানুষকে খাইয়ে দেবেন, বাংলার মানুষ কে কি এতই বোকা ভাবেন ?” তাঁর মতে, “জনধন খাতার প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করলেন কিন্তু এটা বললেন না, কংগ্রেস সরকারের প্রকল্প ‘ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন’-র নাম পাল্টে আপনারা জনধন করেছিলেন।”
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেছেন, “ব্যাঙ্কের খাতায় সরাসরি টাকা পাঠানোর কাজ কংগ্রেস সরকার শুরু করেছিল। রাহুল গান্ধী বলেছিলেন প্রতিটি জনধন খাতায় অবিলম্বে ১০০০০ টাকা দিতে এবং আগামী ৬ মাস ৭৫০০ টাকা পাঠানোর জন্য। সেই ঘোষণা কোথায় ?” তিনি বলেন, “সব গরিবের ঘর তৈরির কথা বললেন কিন্তু আপনি ভুলে গেলেন আপনার এবং প্রধানমন্ত্রীর, আমেদাবাদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের সময় সেই গরিবের ঘরের করুন দৃশ্য ঢাকতে ইটের প্রাচীর দিতে হয়েছিল!”
চিনের আগ্রাসন নীতির কথা উল্লেখ করে সোমেন মিত্র বলেছেন, “আপনারা ভাষণ দেবেন পাকিস্তান আসবে না তাও কি হয় ? অমিত শাহজি আমাদের সামরিক বাহিনী পাকিস্তানকে দু টুকরো করেছিল যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। পৃথিবীর সব চাইতে বড় সামরিক আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল পাকিস্তানকে, সিমলা চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছিলেন জুলফিকারআলী ভুট্টো। আমরা সবটারই কৃতিত্ব দিই দেশের সামরিক বাহিনীকে; নিজেদের ঢাক পেটাই না। আপনাদের সরকারের আমলে কত জওয়ান শহীদ হয়েছেন সেই সংখ্যাটা দিলেন না তো ?” তাঁর কথায়, “আপনার সাহস থাকলে বলতেন চিন ভারতের কতটা সীমান্তে দখল করেছে ? চিনা আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে দেশের মানুষসরকারের অবস্থান জানতে চায় । চীনা আগ্রাসনে ডোকলামের পরে অধুনা লাদাখ সীমান্তে চিনের দাদাগিরি চলছে সেই সম্বন্ধেও কোন কথা বললেন না।”
এই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা বলেন, “পরিযায়ী শ্রমিকরা রাস্তায় দুর্ঘটনা এবং অনাহারে মারা গেছেন। ঘরে ফিরে আসার পরে তাঁদের হাতে কোন কাজ নেই।” তাঁর আরও সংযোজন, “জনতা কারফিউ, মোমবাতি জ্বালানো , থালা বাজানো আপনাদের কাছে সাফল্য হতে পারে কিন্তু বাংলার মানুষ কেন্দ্রের কাছে সাহায্য চান, সেটা আপনারা দিচ্ছেন না।” তিনি আরও বলেছেন, “যখন সমীক্ষা বলছে দেশের ঘোষিত করোনা রোগীর সংখ্যার চাইতে সঠিক সংখ্যা কোথাও কোথাও ১০০ থেকে ২০০ শতাংশের বেশি , তখন আপনার এই নির্বাচনী ভাষণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করবেন। যখন আমফান ঝড়ে বিধ্বস্ত মানুষগুলো ভাঙা ছাদের তলা থেকে প্রধানমন্ত্রীর শুধু হেলিকপ্টার দেখলেন, তখন আপনার এই ভাষণ গরিবের কানে পৌঁছবে না। তাঁরা সম্মানের জীবন চান সেটা দিন, বক্তৃতা পরে শুনব।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news