Breaking News
Home / TRENDING / ২১-এ সাফ! দিল্লির পুনরাবৃত্তি এড়াতে দলে কু-কথা নিষিদ্ধ করুন অমিত

২১-এ সাফ! দিল্লির পুনরাবৃত্তি এড়াতে দলে কু-কথা নিষিদ্ধ করুন অমিত

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় :

টাইমস নাও-এর সাংবাদিক ও সঞ্চালক নবিকার সামনে অমিত শাহকে অস্বস্তিতে পড়তে হল। স্মার্ট অমিত যতই নিজের অস্বস্তিবোধ আড়াল করার চেষ্টা করুন না কেন কু-কথার প্রশ্নে তাঁর অস্বস্তি ধরা পড়েছে চ্যানেলের ক্যামেরায়।
অমিত শাহ বলেছেন ‘ভারত পাকিস্তান ম্যাচ’ বা ‘গোলি মারো’, এসব দলের বক্তব্য নয়। তাঁর মতে দলের কি বক্তব্য, কি অবস্থান, তা সাধারণ মানুষ জানেন। প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ মানুষ জানবেন আর দলের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী, দলের তরফে প্রশাসনের শীর্ষে বসা ব্যক্তি জানবেন না, এ কেমন কথা! শেষ পর্যন্ত অমিত শাহ মানতে বাধ্য হয়েছেন দিল্লি ভোটে বিজেপির ফলাফলে কু-কথার প্রভাব পড়েছে। দিল্লির ‘দিল’-এর দখল আরও পাঁচ বছরের জন্য কেজরিবালের দখলে গেল। এই অবসরে বিজেপি কি চাইছে আর বিজেপির নেতারা যা বলছেন, তার মধ্যে অমিতের কথা মত কেন ফারাক থেকে যাচ্ছে তা একটু বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে।

দিল্লিতে যা হবার হল, এরপর আছে বিহার তারপর পশ্চিমবঙ্গ। নীতিশকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপির বিহার জয় হয়ত সম্ভব হবে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ?
দিল্লিতে কেজরিবাল বিগত সময়ে যেটুকু করেছেন তাতে মোটের ওপর মানুষ খুশি। দুষণ রোধের চেষ্টা, তার জন্য গাড়ির অড নাম্বারের মত অভিনব চেষ্টা, মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা, সরকারি স্কুলের উন্নতি, হাসপাতালের উন্নতি। উন্নততর ও কার্যকরী নাগরিক পরিষেবা দেবার সচেতন চেষ্টা নিরন্তর চালিয়ে গেছেন কেজরিবাল। ভাল না হোক দিল্লির মানুষের কাছে একপ্রকার ‘মন্দের ভাল’ হয়ে উঠেছেন কেজরি। একই সঙ্গে তাঁর ‘ঘরের ছেলে’ ইমেজ। কেজরিবালও নিজেকে দিল্লির বয়স্কদের ‘বেটা’, কমবয়সীদের ‘ভাই’, হিসেবেই নিজেকে প্রোমোট করেছেন এবং সাফল্যও পেয়েছেন।
নিতান্ত কৌশলগত কারনেই ‘কাজ’-এর নিরিখে নির্বাচন লড়াইতে না নেমে ‘ভাব’-এর নিরিখে কেজরিবালের সঙ্গে টক্কর দেওয়া সুবিধাজনক হবে বলেই মনে করেছিলেন অমিত।
ভাব বলতে এখানে কি বোঝাচ্ছে?

বোঝাচ্ছে দেশাত্মবোধ, বোঝাচ্ছে সিএএ সংক্রান্ত হিন্দু সেন্টিমেন্ট, বোঝাচ্ছে ‘টুকরে টুকরে’ স্লোগান তোলা বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক। এই কারনেই অমিত শাহ নিজেও বলেছিলেন ‘এমন ভাবে ইভিএমের বোতাম টিপবেন যেন শাহিনবাগে কারেন্ট লাগে।’ দিল্লি নির্বাচনের সুর সেদিনই ‘ভাব’-এর তারে বেঁধে দিয়েছিলেন অমিত। ‘কাজ’-এর তারে তাঁর কাজ নেই তা বুঝতে সময় লাগেনি শাহের।
হলে কি হবে গোল বাঁধল অন্য জায়গায়। মোদি-শাহ যদি বলেন ‘ওগো মরমিয়া’, তাঁদের নিচের স্তরের নেতারা ভুল শুনছেন, তাঁরা বলছেন ‘ওগো বড় মিঞা।’ দেশাত্মবোধের ভাব, হিন্দু ভাবাবেগের ভাব কে এঁরা এমন চড়া সুরে বাঁধলেন যে গানটাই নষ্ট হল। সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত অজস্র বার বলেছেন ও বলছেন যে মুসলিমরা তাঁদের শত্রু নয়। বরং তাঁরাও আদিতে হিন্দু। ভাগবৎ এমন কথাও বলেছেন, দুই ধর্মে তফাৎ শুধু পুজা পদ্ধতিতে। আর কিছু নয়। তবু সেই অমিলেও মিল আছে। ভাগবত বলেন, একজনের ভজন তো আর একজনের কাওয়ালি, একজনের মন্দিরের প্রসাদ তো আর একজনের মাজারের চাদর।
তবু দিল্লি ভোটের প্রচারে উঠে এল ভারত পাকিস্তান, উঠে এল ‘গোলি মারো।’


সেইসব বিজেপি নেতারা হয়ত বলবেন সব মুসলিমকে নয় তাঁরা আক্রমণ করেছেন উগ্র মুসলিমদের অথবা সাধারণ মুসলিমদের নিয়ে যে সকল শক্তি রাজনীতি করছে, আক্রমণ করেছেন তাদের। হতে পারে তাঁরা হয়ত ঠিক। কিন্তু তাঁরা যদি বলে থাকেন ‘মাগো তোমার গৌরবরণ নীল হল কিসে?’ কিসে শুনতে মানুষ শুনল বিষে। ফলে যা হবার তাই হল। আর উল্টোদিকে কেজরিবাল বিজেপির ছুঁড়ে দেওয়া শাহিনবাগ বল নিয়ে খেললেনই না। বরং সুচারু ভাবে বলটি ফিরিয়ে দিলেন বিজেপির কোর্টে।

শাহিনবাগ অস্ত্রে যে কাজ হচ্ছে না, কেজরি ফাঁদে পা দিচ্ছেন না, এটা কি নির্বাচনী প্রচারের কোনও একটি পর্বে এসে বোঝা যায়নি? অমিত শাহের জন্য এই প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে।
অমিত স্বীকার করেছেন কু-কথা নির্বাচনে ক্ষতি করেছে। তাঁর জন্য এই প্রসঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন রয়েছে। নেতাদের কথায় ক্ষতি হচ্ছে, তা তো বোঝা গেল, কিন্তু নেতাদের বোঝায় কোথাও ভুল হচ্ছে না তো?
যাঁরা মুখ খুললেই বিতর্ক বাঁধছে। যাঁরা কথা বললেই মারো, তাড়াও, জ্বালাও কিংবা আরও ঘৃণাবাচক বক্তব্য বেরিয়ে আসছে তাঁরা সামনের সারিতে কেন? তাঁরা দায়িত্বে কেন? শাহের কাছে এসব প্রশ্নের উত্তর আছে কি?
পশ্চিমবঙ্গের ভোট আগামী বছর। তৃণমূলের কতিপয় নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাজ্য বিজেপির কোনও কোনও বড় নেতা যে ভাষায়, যে ভাবে, যে ভঙ্গিমায় কথা বলেন তাতে বিজেপির থেকে একটু অন্যরকম রাজনীতি, ভদ্র রাজনীতি, শিক্ষার ছাপ আছে এমন রাজনীতি যাঁরা আশা করেছিলেন তাঁরা হতাশ। অনেকদিন আগে অমিত শাহ বলেছিলেন, তিনি তৃণমূলকে ‘উখাড়কে’ ফেলে দেবেন। একুশে যদি তাঁর কথাই সত্য প্রমাণিত হয়, তৃণমুলকে উপড়ে ফেলে দিয়ে কেমন গাছ বসাবেন অমিত? অমিতের জন্য এই প্রশ্নটিও রয়েছে।
বিজেপি কি ভাবছে, কি করছে আর কি বলছে। একুশের আগে এই তিনিটি বিষয়ে সমন্বয় সাধিত হলে বিজেপিরই মঙ্গল।

Spread the love

Check Also

জঙ্গলে দাবানলের ঘটনাকে গুজব বলল উত্তরাখণ্ডের পুলিশ

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো: দাবানলের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে জঙ্গল। পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে গাছপালা থেকে …

জম্মু-কাশ্মীরে পুলওয়ামার ধাঁচে হামলার ছক বানচাল করল সেনাবাহিনী

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu & Kashmir) পুলওয়ামার মতো জঙ্গি নাশকতার ঘটনা রুখে দিল সেনাবাহিনী …

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করল ফ্রান্স

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো: করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন (Hydroxychloroquine) ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করল ফ্রান্স। ম্যালেরিয়ার ওষুধ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!