Breaking News
Home / TRENDING / ১০৬ গ্রামের এক পুজা, অযোধ্যা পাহাড় চূড়ার অলীক দুর্গোৎসব  

১০৬ গ্রামের এক পুজা, অযোধ্যা পাহাড় চূড়ার অলীক দুর্গোৎসব  

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ

পুরুলিয়াঃ থিমের বাজারে পুজো মানে যখন বাজেটের প্রতিযোগিতা, তখন পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের ১০৬টি গরিব গ্রামের মিলিত একমাত্র দুর্গাপুজোর আয়োজন যেন অলীক! অলীক কারণ জাঁকজমকের বিপরীতে ওদের পুজো। অলীক কারণ এই বাজারে ওদের মূলধন আন্তরিকতা! অলীক কারণ এক পাড়ায় আজকাল ১০৬টা পুজো হয়, সেখানে…! তাই দেশবিদেশ থেকে কত মানুষ আসে আশ্চর্য পুজো দেখতে!

অতএব পূজো ও পর্যটনের সমাহারে ইতিমধ্যে মেতে উঠেছে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়। এখনকার ১০৬ টি আদিবাসী গ্রামে মাদলের তাল আর ঢাকের বাদ্দি জানান দিচ্ছে শারদোৎসব সমাগত। শুরু হয়ে গেছে মাটির ঘর পারিপাটি করে সাজানোর পালা। চলছে অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি।

এমনিতে অযোধ্যা পাহাড় পর্যটকদের কাছে সারা বছরই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে পুজোয় এই পাহাড় সেজে ওঠে অন্য এক সাজে। পাহাড়ের কোলে ফোটা কাশ ফুল বার্তা দেয় দেবীর আগমনের। এখানকার ১০৬ টি আদিবাসী গ্রামের মানুষজন মেতে ওঠেন উৎসবে। মহালয়ার আগের থেকেই শুরু হয়ে যায় মাটির ঘরগুলি নিকনোর কাজ। দেবীর মূর্তিতে মাটি পড়ার সাথে সাথে চলতে থাকে মাটির ঘরের সাজসজ্জা। পূজা কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা অখিল সিং সর্দার জানান,পুরোহিত থাকলেও লায়া-র (আদিবাসীদের পুরোহিত) উপর বিশ্বাস ও আস্থা থাকায় তাঁকেও পুজোর দিনগুলিতে মন্ডপে পূজারির ভূমিকায় দেখা যায়।

এদিকে লাল, হলুদ ও সাদা মাটি লেপে মহিলারা ঝকঝকে করে তোলেন নিজেদের কুটিরগুলি। একই সঙ্গে চলতে থাকে আদিবাসী নাচের অনুশীলন। সন্ধ্যে অথবা দুপুরে ঘরকন্না সেরে এই নাচ অভ্যাস করেন এখানকার মহিলারা। পুজোর চারদিন অয্যোধ্যা পাহাড় চূড়ায় হবে নাচ। প্রায় তেত্রিশ বছর আগের কথা। এখানেই পাহাড়ের ১০৬ টি আদিবাসী গ্রামের মানুষ এক হয়ে শুরু করেন দুর্গা পূজা। নিষ্ঠা ভরে আজও সেই পূজো হয়ে আসছে। একদিকে নদী পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য। অন্যদিকে আদিবাসীদের পূজোর অনবদ্য আকর্ষণ। দুইয়ে মিলে ষষ্ঠী থেকেই অযোধ্যা পাহাড়-মুখী হন দেশ বিদেশের ভ্রমণপিপাষুরা। তাঁদের আপ্যায়নের জন্য তৈরি বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠা ‘কুশল পল্লী’ ও অনান্য অতিথি আবাসগুলিও। মহাপূজার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এখনকার বাসিন্দারাও।

যদিও জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ বা সামান্য চাষবাসে ভালোভাবে দিন চলে না মানুষগুলোর। সীমাহীন কায়িক পরিশ্রম করে দিনপাত করতে হয় এখনকার অধিবাসীদের। তবু অল্প সম্বল নিয়েই পুজোয় নতুন পোশাক কেনেন ওরা। কিশোরী থেকে তরুণী অপেক্ষা করেন পূজোর চারটে দিনের জন্য। ওই চারটে দিন সবকিছু ভুলে বড়লোক শহরের মতোই এখানেও শুধুই উৎসব। নাচ আর মাদলের তালে বুঁদ হয়ে থাকা জীবন।

অতএব এ অলীক সবুজ পাহাড়ের দেশ। গোটা বছরের খিদের লড়াই থেকে সাময়িক মুক্তি। পূজোর ছুটিতে সবার আমন্ত্রন অযোধ্যা পাহাড়ের সোঁদা গন্ধময় আন্তরিক দুর্গোৎসবে।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *