Breaking News
Home / TRENDING / রবীন্দ্রনাথকে নিত্য অপমান করছেন অজয় চক্রবর্তী, বিস্ফোরক দাবি কবীর সুমনের

রবীন্দ্রনাথকে নিত্য অপমান করছেন অজয় চক্রবর্তী, বিস্ফোরক দাবি কবীর সুমনের

   সায়ন্তনী সেনগুপ্ত :

রবীন্দ্র ভারতীতে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ধর্ষণ কাণ্ডে আচমকাই আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গেলেন বিশিষ্ট মার্গ সঙ্গীত গায়ক পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী।
আক্রমণ টা এল এমন একজনের কাছ থেকে গানের ব্যাপারে তাঁর পর্যবেক্ষণ নিয়ে কারও আপত্তি থাকলেও তাঁকে অস্বীকার করার উপায় নেই।
তিনি বাংলা আধুনিক গানে বিপ্লব নিয়ে আসা কবীর সুমন।

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বসন্তোসব গত দু’দিন ধরে যে ঝড় তুলেছে সেই প্রসঙ্গে কবীরের মতামত জানতে চেয়ে বাইরে বেরিয়ে বিষয়টির একটি ভিন্ন দিক। এবং একই সঙ্গে সুমন-তির ধেয়ে গেল অজয় চক্রবর্তীর দিকে।

বললেন, “অজয় চক্রবর্তীর মত প্রথিতযশা শিল্পী দিনের পর দিন রবীন্দ্রসঙ্গীত বিকৃত করে গান, তখন আমরা তা নিয়ে মুখ খুলিনা। আজ হঠাৎ এত গেল গেল রব কেন ?” সুমনের ব্যখ্যায় অজয় চক্রবর্তী যেভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত গান তা তাঁকে অপমান করার সামিল। তাঁর কথায়, “তাও সেই গান আমরা শুনেছি দিনের পর দিন।” নাম না করে কলকাতার আরও এক শিল্পীকেও বিঁধলেন সুমন। বললেন, “কিছুদিন আগে এক শিল্পী ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’ গেয়েছিলেন। তার সঙ্গে মুখে শব্দ করে ‘এফেক্ট’ দেওয়া হয়েছে (বিট বক্সিং)। রবীন্দ্র সঙ্গীতে এই জিনিস যেমন বাহুল্য ততটাই শুনতে খারাপ। কোনওদিন আমরা কিছু বলিনি তাই নিয়ে। আজ নবীন প্রজন্মের কিছু ছেলে মেয়েকে অকথ্য গালিগালাজ করছেন কিছু মানুষ।”


নাগরিক কবিয়ালের কথায়, “এরা তো ছোট। আমরা কি একবার সহিষ্ণু হয়ে জানতে চেয়েছি যে কেন এমন করল এরা ? বড় হিসাবে আমাদের তো দায়িত্ব ছিল এটা।” প্রত্যেক কথায় নবীন প্রজন্মের দিকে যে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়, বলা হয় এরা শিকড়-ছাড়া তাতে তীব্র আপত্তি কবীর সুমনের। তাঁর কাছে বাংলা খেয়াল শিখতে আসে এই প্রজন্মেরই বহু ছেলেমেয়ে। শিল্পীর বক্তব্য, “বর্তমান প্রজন্ম যদি সংস্কৃতিবিমুখই হবে তাহলে বাংলা খেয়ালের মত গান কেন শিখতে আসবে তাঁরা? কিন্তু আগের প্রজন্ম উত্তরাধিকার সূত্রে কী দিচ্ছে এদের। ভুল রবীন্দ্রসঙ্গীত। যে যাঁর ইচ্ছা মত রবীন্দ্রনাথকে ব্যবহার করে চলেছি আমরা। কপিরাইট উঠে যাওয়ার পর আমরা কোনও কিছুর তোয়াক্কা করছি না।” কবীর সুমনের বক্তব্য যে তিনিও বিশ্বভারতীর অনুমোদনে গিটার নিয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়েছেন। যা ছকভাঙা ছিল। কিন্তু তিনি কখনও রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করেন নি। তাঁর মতে যদি কিছু করতেই হয় তাহলে স্বরচিত গান কবিতা নিয়ে করা উচিত, রবীন্দ্রনাথ কেন? তাঁর কথায়, “বিদেশে কোনওদিন মোৎসার্তকে পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেননি ইউরোপীয়ানরা। সেই শিক্ষা সহবত তাঁদের আছে। আমাদের নেই।”

কবীর সুমনের বক্তব্য, রবীন্দ্রনাথকে অপমান করার এই প্রবণতা আজকের নয়। বহুদিন আগে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রবীন্দ্রনাথের প্রতি ঈর্ষাবশত লিখেছিলেন ‘আনন্দবিদায়’। তাতে কবিগুরুকে পরিহাস করে লেখা হয়েছিল… ‘মম দড়ি বন্ধন গরু…’। কাজেই রবীন্দ্র অপমানের এই ধারা শুধু নতুনদের ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না।

(পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয় নি। তাঁর প্রতিক্রিয়া পেলে তা আমরা যথোচিত মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করব)

Spread the love

Check Also

তবলিঘ-ই-জামাতের সদস্যরা কোনও অভব্যতা করছেন না চিকিৎসকদের সঙ্গে : এইমস

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। তবলিঘ-ই-জামাতের (Tablig-E-Jamat) সদস্যরা কোনও রকম অভব্যতা করেননি চিকিৎসকদের সঙ্গে। বরঞ্চ সহযোগিতাই করছেন …

করোনা-লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেই কোন্নগরে শক্তিশালী বোমার আতঙ্ক

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। সাতসকালে কোন্নগরে বোমাতঙ্ক। সোমবার রাতে কোন্নগরের ধর্মডাঙ্গায় বোমার মতো কিছু পরে থাকতে …

দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটানোর সঠিক সময় এটাই :মোদী

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। সারা বিশ্বে করোনার অর্থনৈতিক প্রভাব যে মারাত্মক পড়তে চলেছে সেই বিষয়ে আগেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!