নিজস্ব সংবাদদাতা।
বারবার পেছাচ্ছে টালা ব্রিজ (Tallha Bridge) ভাঙার কাজ। পূর্বনির্ধারিত মতো ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে তালা ব্রিজ ভাঙার কাজ শুরু করার কথা থাকলেও তা আপাতত হচ্ছে না বলেই খবর। ঠিক হয়েছিল ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হবে কলকাতার টালা ব্রিজ ভাঙার কাজ। সেই ব্রিজ ভেঙে তার পুরো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এপ্রিল মাস থেকেই শুরু হয়ে যাবে নতুন সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া। কিন্তু রাজ্য সরকারের এই দিনক্ষন মেনে চলা নিয়ে এখন নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কারন সেতুর ওপর দিয়ে যে সব ছোট চার চাকা গাড়ি ও বাইক-স্কুটি চলছে তা সেতু ভাঙার সময় থেকে নতুন সেতু চালু না হওয়া পর্যন্ত কোন রাস্তা দিয়ে চলবে সেই বিকল্প রাস্তাই নাকি পাওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই সেতু ভাঙার দিন পরিবর্তন।
টালা সেতু দিয়ে যে সব ভারী যানবাহন যেত সেই সব গাড়ি যাওয়ার বিকল্প রাস্তা ইতিমধ্যেই চালু করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও একটা বেশ বড় অংশের ছোট চার চাকার ও দু চাকার যান এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করে চলেছে। সেতু ভাঙতে গেলে এই ছোট চার চাকা ও দু চাকার যান যাওয়ার আলাদা রাস্তা বার করতেই হবে কল্কাতা পুলিশকে। কারণ ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে যে রাস্তা ঠিক হয়েছে সেই রাস্তা দিয়ে এই ছোট চার চাকা ও দুই চাকার যান পাঠালে কার্যত পুরো দমদম ও কাশীপুর এলাকার গতি স্তব্ধ হয়ে যাবে। তার রেশ পড়বে উত্তর কলকাতার ওপরেও। তাই ছোট যানের জন্য বিকল্প রাস্তা খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত সেতু ভাঙার পথে এগোতে চাইছে না কলকাতা পুলিশ।
এক্ষেত্রে আবার সমস্যা বাড়িয়েছে রেলের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র সহযোগীতা না পাওয়া যাওয়াতে। প্রথমে যখন টালা ব্রিজ ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার তখনই রেলকে বলা হয়েছিল চিৎপুর রেল ইয়ার্ডে একটা লেবেল ক্রশিং বানিয়ে দিতে। লেবেল ক্রশিংয়ের সঙ্গে বিটি রোডের সংযোগকারী রাস্তা রাজ্য সরকার করে দেবে। কিন্তু রেল এখনও পর্যন্ত সেই লেবেল ক্রশিং তৈরি করা নিয়ে কোনও উচ্চবাক্য করছে না। তার জেরে রাজ্যের পক্ষেও দ্রুত ছোট গাড়ি যাওয়ার বিকল্প পথ বাতলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে টালা নিয়ে জট ক্রমেই বেড়ে চলেছে। যদিও ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, সেতু ভাঙা হবে শ্যামবাজারের দিক থেকে। সেই সঙ্গে ৮০০ মিটার লম্বা এই সেতু ভাঙতে খরচ পড়বে ৩০ কোটি টাকা, যা ইতিমধ্যে রাজ্য বরাদ্দ করেছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news