নীল রায়।
একের পর এক মেট্রো দুর্ঘটনার জেরে নাকাল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। ফের মেট্রোতে আত্মহত্যার চেষ্টা। এবার রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনে। শনিবার সকাল বেলা ১২টা নাগাদ নিউ গড়িয়াগামী লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। সাড়ে বারোটা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর পরিচয় সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। এই ঘটনার ফলে বন্ধ হয়ে যায় মেট্রো চলাচল। আপ এবং ডাউন দু’লাইনেই বন্ধ রয়েছে মেট্রো চলাচল। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নোয়াপাড়া থেকে ময়দান এবং নিউ গড়িয়া থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রো চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আত্মহত্যার ঘটনায় রাশ টানতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে তিনটি স্টেশনের সুপারকে অপসারিত করেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার পার্ক স্ট্রিট, কবি সুভাষ এবং নেতাজি স্টেশনের সুপারকে সরানো হয়েছে। অভিযোগ, যে দুর্ঘটনাগুলির সময় তাদের ভূমিকা সন্তোষজনক নয় বলেই জেনেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। কিছুদিন আগে মেট্রোয় হাত আটকে মৃত্যু হয় সজল কাঞ্জিলালের। মেট্রোর দরজায় তাঁর হাত আটকে যায়। ওই অবস্থাতেই চলতে শুরু করে ট্রেন। প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত ব্যক্তিদের চিৎকারে যতক্ষণে মেট্রো থামে, ততক্ষণে দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। আচমকা ব্রেক কষায় থার্ড লাইনে গিয়ে পড়েন সজল কাঞ্জিলাল। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এরপরই টনক নড়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষের। নির্দেশিকা জারি হয়, এবার থেকে জোর করে উঠতে গেলেই দিতে হবে ফাইন। কার্যত গাফিলতির দায় ঝেড়ে ফেলতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয় মেট্রো। অভিযোগ ওঠে এমনই।
মেট্রোর অভিযোগ যে একেবারেই ভিত্তিহীন নয়, তার প্রমাণ মেলে দিন কয়েক পর। এবার ঘটনাস্থল নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশন। সেখানে ছাড়ার পর আরপিএফ কর্মীদের নজরে পড়ে, কামরার বন্ধ দরজার একটি যাত্রীর হাত আটকে রয়েছে। যাঁর হাত আটকে ছিল, তিনি অবশ্য কামরার ভিতরে ছিলেন। তড়িঘড়ি মেট্রো থামানো হয়। এরপর ওই যাত্রী নিজেই তাঁর হাতটি বের করে নেন। এই ঘটনার দায়ও যাত্রীদের ঘাড়েই চাপিয়ে দেয় মেট্রো কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কয়েকদিন আগে যা ঘটেছে, তারপর আর দায় এড়াতে পারল না কর্তৃপক্ষ।
কয়েক দিন আগে মেট্রোর দরজায় আটকে যায় যাত্রীর শরীর। আক্রান্তের নাম আত্রেয়ী ভট্টাচার্য। সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্রী তিনি। তাঁর অভিযোগ, গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ পার্ক স্ট্রিট স্টেশন থেকে যখন মেট্রোয় উঠতে মান, ঠিক তখন এসি রেকের দরজাটি বন্ধ হয়ে যায়। মেট্রোর দরজায় আটকে পড়েন তিনি। তখনই মেট্রো চলতে শুরু করে। শেষপর্যন্ত অন্য এক যাত্রী হাত ধরে টেনে তাঁকে কামরায় ঢুকিয়ে নেন। যদিও পার্ক স্ট্রিটে স্টেশন এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি বলে দাবি করে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এরপরই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বদল করা হল তিন স্টেশনের সুপারকে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news