নীল রায়:
কংগ্রেসের নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ালেন আবদুল মান্নান। জোট বা আসন সমঝোতার দায়িত্ব থেকে আমাকে মুক্তি দিন। আমি কোনও দায়িত্ব নিতে চাই না। আমি অপারগ। এই ভাষাতেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা দলের হাইকমান্ডকে জানিয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা। সূত্রের খবর, এআইসিসি নেতা গৌরব গগৈ এবং ভিপি সিংয়ের সঙ্গে কথা হয় তাঁর। কংগ্রেস হাইকমান্ডের সঙ্গে কথা বলেই যে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, জানিয়েছেন মান্নানের ঘনিষ্ঠ মহল।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ভোটে বামেদের সঙ্গে জোট গড়তে আবদুল মান্নানের ভূমিকা ছিল অন্যতম। কিন্তু এবার দায়িত্ব পেয়েও সরে দাঁড়ানোয়, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কংগ্রেসের অন্দরে। বুধবার বিধান ভবনে হুগলি জেলা কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান। তাঁর অনুপস্থিতিতে এমন ঘটনা মেনে নিতে পারেননি এই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। পরে মান্নানের অনুপস্থিতিতেই সিদ্ধান্ত হয়, বামেদের সঙ্গে জোটের জন্য শেষ কথাবার্তা চালাবেন আবদুল মান্নান ও প্রদীপ ভট্টাচার্য। কিন্তু বিধান ভবনের ঘটনায় ব্যথীত মান্নান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই দায়িত্ব নিতে তিনি পারবেন না। এদিন সোমেন মিত্র তাঁকে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন ধরেননি মান্নান। ঘনিষ্ঠ মহলে মান্নান সাহেব অনুযোগের সুরে বলেছেন, “একজন সভাপতি তাঁর অনুগামীদের দিয়ে নিজের দলের পরিষদীয় দলনেতার বিরুদ্ধে কীভাবে বিক্ষোভ দেখাতে ইন্ধন দিতে পারেন!
এদিন তিনি বিধানসভায় এলেও সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলেছেন। বস্তুত, লক্ষ্মণ শেঠকে দলে নেওয়া নিয়ে সোমেন মান্নান দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।
সভাপতি সোমেন চেয়েছিলেন লক্ষণকে দলে নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের সংগঠনকে জোরালো করতে। কিন্তু কুখ্যাত এই নেতাকে দলে নিতে প্রথম থেকেই আপত্তি ছিল মান্নান সাহেবের। তাঁর আপত্তির জেরেই লক্ষণ এখনও কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেননি। মান্নান শিবির মনে করছে, লক্ষ্মণ শেঠের বিধান ভবনের ঢোকার রাস্তা বন্ধ করে সোমেন শিবিরের রোষাণলে পড়েছেন মান্নান সাহেব।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news