নীল রায়।
দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এনআরসি ও নাগরিক সংশোধনী বিল ইস্যুতে সরাসরি বিজেপিকে আক্রমনের পথে হাঁটলেন প্রশান্ত কিশোর।শুক্রবার সকালে টুইটারে প্রশান্ত কিশোর লেখেন, “সংসদে ওদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। বিচার বিভাগকে ছাড়িয়ে এখন ভারতের আত্মাকে বাঁচানোর কাজটি অবিজেপি-র ১৬ জন মুখ্যমন্ত্রীর উপরেই রয়েছে। কারণ, এই রাজ্যগুলিকেও এই আইন কার্যকর করতে হবে। পঞ্জাব, কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল লাগু করবে না বলে জানিয়েছেন। এখন বাকিদেরও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার সময়।”
রাজ্যসভায় সিএবি বিল পাশের ঠিক একদিন পরে বৃহস্পতিবার টুইট করে প্রশান্ত লিখেছিলেন, “আমাদের বলা হল, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল শুধু নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য, কারও কাছ থেকে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়। কিন্তু সত্যি হল, ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের বিচার করতে নাগরিকপঞ্জি এবং নাগরিক সংশোধনী বিল কেন্দ্রের হাতে জোড়া অস্ত্র।” প্রসঙ্গত, নাগরিক সংশোধনী বিলে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে প্রশান্তর দল জেডি-(ইউ)। নিতিশ কুমার এর জেডি-(ইউ) নরেন্দ্র মোদী সরকারের শরিকও বটে।
সোমবার সংসদ লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হলে এন ডি এ-র অন্যতম শরিক জেডি (ইউ) (JD (U) ) তাতে সমর্থন জানায়। এরপরও সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে একটি টুইট করেছিলেন ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। টুইটে তিনি লেখেন, “জেডিইউয়ের সংবিধানের প্রথম পাতাতেই তিন বার ধর্মনিরপেক্ষতার কথা রয়েছে। সেটা ভুলে গিয়ে ওই গান্ধীবাদী গাইডলাইনের পরেও দলের নেতারা এই কাজ করলেন।”
বর্তমানে প্রশান্ত কিশোর তৃণমূল কংগ্রেস ও ডিএমকে দলের দায়িত্ব নিয়েছে। দুই দলকে আগামী নির্বাচন বিধানসভা নির্বাচনে সাফল্য এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে চুক্তিবদ্ধ তিনি। ঘটনাচক্রে, তৃণমূল ও ডিএমকে দু’দলই বিজেপি (BJP) বিরোধী। এদিন আবার ১৬ জন অ-বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীকে জোট বেঁধে সিএবির বিরোধিতা করতে বলেছেন তিনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এনআরসি ও সিএবির বিরোধিতা করে কী আসলে জেডি (ইউ) ছাড়তে চাইছেন এই ভোট কৌশলী ? নাকি তৃণমূল ও ডিএমকে দু’পক্ষকেই খুশি রাখতে পেশাদার ভোটগুরু এমন কৌশল নিয়েছে ? নাকি নতুন কোনও রাজনৈতিক দল গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন আইপ্যাকের কর্ণধার !
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news