Breaking News
Home / TRENDING / পুজোর চারদিনে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যু ১০৩ জনের

পুজোর চারদিনে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যু ১০৩ জনের

সূর্য সরকার ও নীল রায়।

পুজোয় চিকিৎসকের অপ্রতুলতায় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে মারা গেলেন ১০৩ জন। তাই পুজোর আনন্দেও বেদনার সুর উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ (North Bengal Medical college) জুড়ে। শারদোৎসবের দিনগুলিতে পর্যাপ্ত সংখ্যায় ডাক্তার ছিল না বলেই এমনটা জানা গিয়েছে। সেই কারণেই ব্যাহত হয়েছে চিকিৎসা পরিষেবা। আর তার জেরে পুজোর চারদিনে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা ছাড়িয়ে গিয়েছে রোগীর স্বাভাবিক মৃত্যুর হার। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

 

নথি বলছে, গত বছর এই সময়ে রোগী মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭৩। সাধারণত অন্যান্য দিনে স্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা থাকে ১০-১২ জন। কিন্তু পুজোর সময় তা বেড়ে ২০-২৩ জন হয়। সেই সংখ্যা এবার চমকে দিয়েছে সকলকে। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবা না মেলায় এই পরিস্থিতি। চিকিৎসকের পাশাপাশি হাসপাতালের সুপার ও কলেজের অধ্যক্ষও ছুটিতে ছিলেন। সূত্রের খবর, বেশিরভাগ চিকিৎসকের বাড়ি কলকাতায়। তাই পুজোর দিনগুলির নতুন রোস্টারও যথাযথ পরিষেবা দিতে পারেনি রোগীদের।

অন্যদিকে, মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই মৃত্যুর হার অস্বাভাবিক কিছু নয়। চিকিৎসা পরিষেবাও স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু তা মানতে চায়নি মৃতদের পরিবার। ধূপগুড়ির বাসিন্দা সিকন্দর আলির স্ত্রী রোহিদা বেগম ১৪ দিন আগে পেটে টিউমার নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পুজোর ছুটির কারণে তাঁর অপারেশন পিছিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার সকালে তিনি মারা যান। রোগীর পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, বিনা চিকিৎসায় রোগীকে ফেলে রেখেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাতেই মৃত্যু হয়েছে রোহিদা বেগমের। হাসপাতালের সহকারী সুপার বিজয় থাপা বলেন, “রোগী মৃত্যুর হার তেমন বেশি কিছু নয়। শুধু ৮ অক্টোবর ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, “রোগী মৃত্যু সেরকম বাড়েনি। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগে কিছু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অস্বাভাবিক মৃত্যু ও পথ দুর্ঘটনার মতো পুলিশ কেসের রোগীর সংখ্যাও এবার বেশি ছিল। ৪ অক্টোবর হাসপাতালে ২টি ছিল পুলিশ কেস ২০ জন রোগীর মৃত্যুর হয়েছে। ৫ অক্টোবর ৭টি পুলিশ কেস-সহ ২১ জন মারা যায়। ৬, ৭ এবং ৮ অক্টোবর যথাক্রমে ১৯, ২০ এবং ২৩ জন রোগীর মৃত্যুর হয়। তিনদিনে একইভাবে পুলিশ কেস ছিল ৬, ৪ এবং ৮টি। সব মিলিয়ে মোট ১০৩ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে পুলিশ কেসের সংখ্যা ২৭টি। ৯ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত রোগী মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ন’জন।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে মৃত্যু-মিছিল প্রসঙ্গে কংগ্রেস (Congress) পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক তথা বহরমপুরের বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী (Manoj Chakroborty) বলেন, “এই সরকার বেতন দিতে পারে না শুধু ছুটি দেয়। তাই ডাক্তাররাও ছুটি নিয়ে চলে গিয়েছেন। আর রোগীদের মৃত্যু মিছিল শুরু হয়েছে। প্রত্যেকটি মৃত্যুই দুঃখদায়ক ও যন্ত্রণার। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কবে বুঝবেন রাজ্যের মানুষের স্বজন হারানোর বেদনা ?” এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন বিধানসভার বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা মনোজ টিগগা (Manoj Tigga)। তাঁর কথায়, “আমি বিধানসভায় একাধিকবার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সের অপ্রতুলতার কথা তুলে ধরেছি। কিন্তু রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেছেন আমি ডাক্তার কোথা থেকে আমদানি করব? ডাক্তার তো আর গাছে ফলে না। একজন মুখ্যমন্ত্রী যদি এই ধরনের বক্তব্য থাকে! তাহলে সাধারণ মানুষকে এভাবেই সরকারি হাসপাতালে প্রাণ দিতে হবে।”

Spread the love

Check Also

“রাজ্যপাল বিধানসভা চালাতে দিচ্ছে না !” এবার রাজ্যপালকে তোপ তৃণমূল মুখ্যসচেতকের

সূর্য সরকার। বিধানসভার গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করছেন রাজ্যপাল। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই অভিযোগ …

বর্বর ধর্ষকদের প্রাণ ভিক্ষা নয়, কড়া বার্তা রাষ্ট্রপতির

ওয়েব ডেস্ক: নৃশংস অপরাধীর প্রাণ ভিক্ষার আবেদনে অনুমতি দেওয়া অনুচিত। কড়া বার্তা রাষ্ট্রপতির (President of …

তেলেঙ্গানায় ধর্ষকদের এনকাউন্টারে সায় নেই মমতার

নীল রায়। তেলেঙ্গানায় তরুণী পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ-খুনে (Telengana Gang Rape & Murder) অভিযুক্তদের  এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *