নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
নদীয়া: আবারও দলীয় কোন্দলে জেরবার নদীয়ার বীরনগর পুরসভা। এক দিকে পুরপ্রধান পার্থ কুমার চ্যাটার্জি এবং উপ পুরপ্রধান গোবিন্দ পোদ্দারের অন্তর্দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে শ্রমিক বিক্ষোভ, এই দুই ঘটনার জেরে শুক্রবার থেকে বন্ধ হয়ে গেল পুরসভার সমস্ত কাজকর্ম।
অভিযোগ, পতঙ্গবাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্য নির্মল বাংলা প্রকল্পের আওতায় মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে ৮৪ জন কর্মীকে কাজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুরপ্রধান ও উপপুরপ্রধানের রেষারেষিতে দু’জনেই একের পর এক কর্মী নিয়োগ করতে থাকেন। এর ফলে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৫০৪ জনে। এই ভাবে নিয়োগের ফলে কর্মীর থেকে সুপার ভাইজার নিয়োগ হয় বেশি। ৫০৪ জনের মধ্যে ৩৫০ জনই সুপারভাইজার।
এই অতিরিক্ত কৰ্মীর ব্যায়ভার বহন করতে না পেরে ৪২০ জনকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরকর্তৃপক্ষ। তার জেরেই এই বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, শুক্রবার বিনা নোটিসে এই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নির্মল বাংলা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মী অমিত কুন্ডু বলেন, ‘শুক্রবার সকালে পুরসভায় এসে কাজ চাইতে গেলে আমাদের বলা হয় যে এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের বিনা নোটিশে ছাঁটাই করে দেওয়া হয়।’ তাঁর অভিযোগ, ‘নির্মল বাংলার নামে এতদিন শহরের সবরকম জঞ্জাল আমাদের দিয়ে পরিষ্কার করাত পুরসভা। রাস্তা ঝাঁট দেওয়া, অফিস, স্কুল থেকে শুরু করে ড্রেন পর্যন্ত আমাদের পরিষ্কার করতে হত। এখন আমাদের ছাঁটাই করলে আমরা কোথায় যাব? পুর প্রধান, উপ পুরপ্রধানকে জানাতে হবে আমাদের কেন ছাঁটাই করা হল?’
ওই প্রকল্পের সঙ্গেই যুক্ত অসীম সরকার বলেন, ‘পুরপ্রধান ছয় মাস আগে সুইপার বিভাগে তাঁর মনোনিত কয়েক জনকে কয়েকটা ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলরের মাধ্যমে নিয়োগ করেছিলেন ২০০ টাকা রোজে। পরে প্রায় প্রতিদিনই কোনও না কোনও ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলরের মাধ্যমে এইভাবে পুরপ্রধানের মনোনিত লোকেরা এই প্রকল্পে ঢুকে পরে। এরফলে স্বাভাবিকভাবে উপপুরপ্রধানের সঙ্গে যাঁরা থাকেন তাঁরাও উপপুরপ্রধানকে চাপ দেন। এর পর উপপুরপ্রধানও কর্মী নিয়োগ করতে থাকেন।
একমাস ধরে এই রেষারেষির ফলে কর্মী সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৫০৪ জনে। গত ২৭ তারিখে পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে পুরপ্রধান প্রস্তাব দেন যে তিনি আর এই প্রকল্প চালাতে পারছেন না। কারন তাঁর কাছে টাকা নেই। ৩০ তারিখে এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছিলেন পুরপ্রধান।
এ বিষয়ে পুরপ্রধান পার্থ কুমার চ্যাটার্জি বলেন, ‘উপপুরপ্রধান এই প্রকল্পকে বসিয়ে দেওয়ার জন্য লাগাতার কর্মী নিয়োগ করেছে। আমি আগে খেয়াল করিনি। এখন আমরা স্থির করেছি ৯০ জন কর্মী থাকবেন। তাই গত ২৫ জুন ১৪ জন কাউন্সিলরকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যেখানে রাজ্য সরকার ৮৪ জন কর্মীর জন্য ১৫০ টাকা করে অর্থ বরাদ্দ করেছিল, সেখানে আমরা ৫০৪ জন কর্মীকে ২০০ টাকা করে ১ লক্ষ ৮০০ টাকা দিতে পারব না। পুরএলাকার বাড়তি কাজের জন্য ৫০ টাকা করে দেওয়া হত পুরসভার তহবিল থেকে। সর্বসম্মতিক্রমে ঠিক হয় ৩০ তারিখ থেকে এই ৫০৪ জন কর্মীকে বসিয়ে দেওয়া হবে। যেহেতু তাঁদের কোনও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি সেহেতু তাঁরা কেউই স্থায়ী কর্মী নয়, তাঁদের রোজ ভিত্তিক কাজের জন্য নেওয়া হয়েছিল।’
উপপুরপ্রধান গোবিন্দ পোদ্দার বলেন, ‘পুরপ্রধান যেটা ভাল বুঝেছেন সেটা করেছেন। তবে, বিনা নোটিশে এত জন কর্মীকে ছাঁটাই করা যেমন ঠিক নয়, তেমনই এইটুকু কাজের জন্য এতগুলো লোককে নিয়ে পুরসভা চালানোও সম্ভব নয়। এতগুলো লোককে টাকা দেওয়া হচ্ছে, সেটা পুরপ্রধান জানতেন না, এটা সম্ভব নয়। আমি কাউকে নিয়োগ।’
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news