দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় :
অষ্টম তথা শেষ দফার ভোট চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন করোনার ভয়াল রূপ এবং একই সঙ্গে করোনা-রাজনীতি প্রভাব ফেলেছে শেষ দুটি দফার ভোটে।
প্রকৃতির খরতাপ আর রাজনৈতিক উত্তাপ মিলিয়ে এখন ভোটে গরম পশ্চিমবঙ্গ।
এমনই একটা মুহুর্তে সুহৃদসম অগ্রজ রাজনৈতিক সহকর্মী কে চিরতরে হারিয়ে মন ভারী করে সল্টলেকের বাড়ির তিন তলায় বসে আছেন মুকুল রায়।
“আমার ভোটে বড় ভূমিকা পালন করে চলে গেল গৌরী দা” আক্ষেপের সুরে বললেন চাণক্য।
![]()
বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসছে। তিনটি মোবাইল ফোন বেজে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে। সহকারী অর্ক ‘দাদা’ কে বাড়িয়ে দিচ্ছে একের পর এক ফোন। কারও সঙ্গে দুটি একটি, কারও সঙ্গে একটু বেশি কথা বলে অর্কর হাতে ফোন ফিরিয়ে দিচ্ছেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস খেলছেন, আজ ম্যাচের শেষ দিন। নিশ্চিন্ত, নিশ্চিত, তৃপ্ত, সমাহিত একটি চেহারা সোফায় শরীর এলিয়ে বসে আছে।
“স্লগ ওভারে কি খেলতে হবে?
প্রশ্ন শুনে ঝটিতি উত্তর, “না, দরকার হবে না। এমনিতেই হয়ে যাবে।”
রাজনাতির খবর যাঁরা রাখেন, তাঁরা জানেন, ভোটের আগেই শুভেন্দু-রাজীব কে সামনে এগিয়ে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, এখন আর খেলব না, দরকার হলে স্লগ ওভারে খেলব। স্লগ ওভারে খেলা বলতে, বিজেপি ম্যাজিক ফিগারে না পৌছলে তৃণমূল থেকে জয়ী প্রার্থী ভাঙিয়ে আনার খেলাই বুঝেছিল মানুষ।
ভোটের শেষ দিন মুকুল জানিয়ে দিলেন, তার দরকার হবে না। এমনিই জিতবে বিজেপি।
মুকুল মহল বলছে, “গোটা নির্বাচনে দাদা একটি পেইন লেস অপারেশন করেছেন, বেদনাহীন অস্ত্রোপচার!”
তাঁদের মতে, “দাদার অপারেশনে কেটেছে কিন্তু রক্ত পড়েনি। সেই অপারেশনের প্রভাব কত দূর আর কত গভীর তা বোঝা যাবে মে মাসের ২ তারিখ।”
মুকুল চাণক্য রায় অবশ্য এসব কিছুই বলছেন না। তিনি তাঁর দীর্ঘ দিনের সহযোগী স্বপন কে জিজ্ঞাসা করছেন, “দুপুরে কি খাই বলত?”
স্বপন ‘দাদার’ পছন্দ জানেন, মন বোঝেন। তিনি সাজেস্ট করলেন খিচুড়ি খেতে।
মোদিজির প্রিয় খিচুড়ি খেয়ে বেরিয়ে পড়লেন মুকুল। শেষ দফার ভোট দেখতে।
মোদি শাহ দিলীপের মত আজ তাঁরও পরীক্ষার শেষ দিন!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news