চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
শাসকদল তৃণমূল (TMC) জোড়াসাঁকো বিধানসভায় প্রার্থী বদল করার পর থেকেই আশার আলো দেখতে শুরু করেছে বিজেপি (BJP)। ১০ বছরের বিধায়ক স্মিতা বক্সীর বদলে এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন হিন্দী সংবাদের সম্পাদক বিবেক গুপ্তা (Vivek Gupta)। সম্প্রতি একটি বহুল প্রচলিত সংবাদমাধ্যমে বিবেকের একটি মন্তব্যকে ঘিরে জোর তর্জা শুরু হয়েছে জোড়াসাঁকোর রাজনীতিতে। একান্ত সাক্ষাৎকারে ওই সংবাদমাধ্যমে বিবেক বলেছেন, “২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলে আমিই স্মিতা বক্সীকে টিকিট পাইয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু গত ১০ বছর উনি কোনও কাজ করেননি। উল্টে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে হেরে বসে আছে। দল সম্ভব্য জয়ীকে প্রার্থী করতে চায়। তাই আমাকে প্রার্থী করেছে।”
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে জোড়াসাঁকোয় প্রথমে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছিলেন শান্তিলাল জৈন। কিন্তু বিরোধী বামফ্রন্ট পাল্টা প্রচার শুরু করে এই শান্তিলাল জৈন ১৯৯২ সালে বাবড়ি মসজিদ ধংসের সময় করসেবক হিসেবে গিয়েছিলেন অযোধ্যায়। সেই প্রচার রুখতে তৎক্ষণাৎ প্রার্থী বদলের সিদ্ধান্ত নেন মমতা। শান্তিলালের বদলে জোড়াসাঁকোয় তৃণমূল প্রার্থী হন স্মিতা বক্সী (Smita Bakshi)। ২০১১ সালে জিতেন তিনি। ২০১৬ সালে পোস্তায় নির্মিয়মাণ সেতু ভেঙে পড়লে বিরোধিরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হন। কিন্তু বিরুপ প্রচারের পরেও জয় পান স্মিতা। কিন্তু ২০২১ সালের ভোটে তাঁকে আর প্রার্থী করেননি মমতা।
তাতে অবশ্য স্মিতা প্রকাশ্যে কখনও ক্ষোভ দেখাননি। কিন্তু বিবেকের কথায় মমতা তাঁকে টিকিট দিয়েছিলেন সেকথাও মানেননি এই বিদায়ী বিধায়ক। একরাশ অভিমান নিয়ে তিনি বলেছেন, “১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল করি দিদিকে দেখে। কাউন্সিলর হোক বা বিধায়ক, দিদিই টিকিট দিয়েছেন। অন্য কারো দয়ায় আমাকে টিকিট পেতে হয়নি।” প্রসঙ্গত, স্মিতা বক্সীর স্বামী সঞ্জয় বক্সী নিজেই জোড়াবাগানের প্রাক্তন বিধায়ক ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী হিসেবে পরিচিত তাঁর। তাছাড়া পুত্র সৌম্য বক্সী বর্তমানে রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। তাই এমন একটি রাজনৈতিক পরিবার জোড়াসাঁকোর তৃণমূল প্রার্থীর মন্তব্যকে যে ভালোভাবে নেবে না, সেটাই প্রত্যাশিত।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news