ডাফলিবালে ডাফলি বাজা…
ডাফলি বাজালেই হল!
সিএএ পরবর্তী দু’ভাগে বিভক্ত ভারতীয় জনসমাজে ডাফলি বাজানো আর অত সহজ নয়!
অন্তত বুধবার রাতের পর বাপ্পাদিত্য সরকারের অভিজ্ঞতা এমনটাই।
কে এই বাপ্পাদিত্য সরকার?
বাপ্পাদিত্য কবি ও সমাজকর্মী।
বুধবার রাত সাড়ে দশটায় মহারাষ্ট্রের জুহু থেকে কুরলা যাবার জন্য চড়ে বসেন একটি উবের ট্যাক্সিতে। তাঁর ধারনার বাইরে ছিল পরের কয়েক ঘন্টায় তাঁর সঙ্গে কি ঘটতে চলেছে। তিনি ভাবতেও পারেন নি যে তিনি নিজে যেমন একজন কবি ও একই সঙ্গে সোশ্যাল অ্যক্টিভিস্ট। তাঁর বিশ্বাস ও রাজনৈতিক দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সিএএ-র বিরুদ্ধে পথে নেমে গান করছেন কবিতা পড়ছেন, তাঁর সামনে যিনি বসে আছেন, সেই উবের চালকও শুধুমাত্র চালক নন। পেশায় উবের চালালেও তাঁরও নিজস্ব দেশ ভাবনা আছে এবং তিনিও তাঁর মত করে দেশের প্রতি কর্তব্যনিষ্ঠ।
উবেরে উঠেই নিজের ডাফলি সিটে রেখে মোবাইলে তাঁর বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন বাপ্পাদিত্য। সিএএ বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আলোচনা তো হয়ই এমনকি দেশে আগুন জ্বালাবার কথাও হয়।
এই প্রতিবেদনের সব তথ্যই উবের চালকের অভিযোগ ও এই ঘটনার বিবরন দিয়ে সারা ভারত প্রগতিশীল মহিলা সংসদের সম্পাদিকা কৃষ্ণা মেনন যে টুইট করেছেন তার ভিত্তিতে লেখা।
দেশে আগুন জ্বালাবার কথা শুনেই কান খাড়া হয় চালকের। তিনি গাড়ি থামান ও বাপ্পাদিত্যকে বলেন, এটিএম থেকে টাকা তুলেই ফিরে আসছেন। তিনি ফেরেন টাকা নয় দু’জন পুলিশ সঙ্গে করে। পুলিশ কবিকে জিজ্ঞাসা করে, তাঁর সঙ্গে ডাফলি কেন?
বাপ্পাদিত্য ডাফলির ভূমিকা তাঁদের জানান। বলেন, তিনি জয়পুর থেকে আসছেন এবং মুম্বইয়ের সিএএ বিরোধী সভায় (মুম্বই বাগ)তিনি অংশগ্রহণও করেছেন। তিনি একজন বামপন্থী, এই কথাও পুলিশকে জানান বাপ্পাদিত্য। চালক পুলিশকে বলেন, ওঁকে গ্রেফতার করুন। উনি (বাপ্পাদিত্য) দেশে আগুন লাগাবার কথা বলেছেন। এমনকি বাপ্পাদিত্যর কথা তিনি যে ফোনে রেকর্ড করে রেখেছেন, সে কথাও পুলিশকে বলেন চালক।
এরপর কবি ও চালক, দুজনকেই থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কোন থানা সে উল্লেখ কৃষ্ণার টুইটে নেই। পুলিশ বাপ্পাদিত্যর সঙ্গে ভদ্র ব্যবহার করে। কর্তব্যরত অফিসার তাঁকে বলেন, হাওয়া ভাল নয়। ডাফলি নিয়ে আর লাল স্কার্ফ পরে ঘুরবেন না।
এরপর রাত একটা নাগাদ বামপন্থী সমাদকর্মী গোহলি থানায় যান ও বাপ্পাদিত্যকে উদ্ধার করেন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news