নীল রায়
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন করে গেলেও, আগামি দিনে ধারাবাহিক প্রতিবাদ ধর্না চালিয়ে যাবে তৃণমূল কংগ্রেস। গত দুই বছর ধরে জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সার্কিট বেঞ্চের দাবিতে প্রতি মাসেই ১০-১২ দিন করে ধর্না কর্মসূচি পালন করে এসেছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগে এই প্রতিবাদ ধর্না গত ডিসেম্বর মাস থেকে আরও গতি পেয়েছে। ঘটনাচক্রে যেদিন প্রধানমন্ত্রী ময়নাগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন করবেন, সেদিনই স্টেশন রোডে আয়োজিত এ মাসের ধর্না সমাবেশের শেষদিন। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদিনই ধর্না শেষ করতে বলা হয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হলে আবারও সার্কিট বেঞ্চ নিয়ে আন্দোলনে নামবে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনটাই জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল সভাপতি। গত বছর ১৭ আগস্ট নিজের উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে গলদ রয়েছে বলে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে। ফলে সে যাত্রায় মুখ্যমন্ত্রী আর উত্তরবঙ্গ জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ নান্দীমুখের উদ্বোধন করতে পারেননি । কিন্তু বৃহস্পতিবার আচমকাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চকে পথ চলার সবুজ সংকেত দেয়। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রশ্ন তুলছে প্রধানমন্ত্রীর এহেন উদ্বোধন নিয়ে। জলপাইগুড়ি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ময়নাগুড়িতে আজ নরেন্দ্র মোদী সার্কিট বেঞ্চের সূচনা করবেন। রাজ্য সরকারের এক কর্তার কথায়, কোনও রাজ্যে সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন করতে গেলে সেই রাজ্যের কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও মুখ্যমন্ত্রীর থাকা আবশ্যক। কিন্তু এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা রাজ্যের প্রধান বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার কেউই প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন না। এমতাবস্থায় সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে মোদী সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন আইন মন্ত্রী মলয় ঘটক। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে উত্তরবঙ্গের জেলার জন্য সার্কিট বেঞ্চের অন্তরালে রাজনীতি করছেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী। উত্তরবঙ্গের সবকটি আসনে বিজেপি বেশ ভালো লড়াইয়ে রয়েছে। এই সার্কিট বেঞ্চটি চালু হলে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি মালদা উত্তর দিনাজপুর দক্ষিণ দিনাজপুর ও কোচবিহার জেলার বাসিন্দাদের বিরাট সুবিধা হবে। আর এই বিষয়টিকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েই উত্তরবঙ্গে আসনগুলিতে পদ্ম ফুল ফোটানোর ভাবনা বিজেপি শিবিরে। কিন্তু বিজেপির এহেন পরিকল্পনা সফল হতে দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপের কথা জানা পরে বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্য্য ও মুখ্য সচিব মলয় ঘোষকে দিয়ে প্রতিবাদ পত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক ভাবে যেমন রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছে। তেমনিই সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন হয়ে যাওয়ার পরও সার্কিট বেঞ্চ নিয়ে আন্দোলন করে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাবে তৃণমূল। এমনিতেই শাসক দলের অন্দরে রণনীতি তৈরি হয়েছে যে, রাজ্যের যেখানেই নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহ সভা করবেন সেখানেই পাল্টা জনসভা করে জবাব দেওয়া হবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। কিন্তু জলপাইগুড়ির ক্ষেত্রে কিছুটা পৃথক নীতি নিয়েছে দল। এক্ষেত্রে মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হলে আবারও সার্কিট বেঞ্চ তথা কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে সরব হবে তৃণমূল। শাসক দলের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা চন্দ্র বসু বলেন, সার্কিট বেঞ্চ তৈরি হলে সাধারন মানুষের সুবিধা হবে। কিন্তু এরপরেও শ্রেফ রাজনৈতিক কারনে এই ইস্যুতে তৃণমূলের আন্দোলন মোটেও ঠিক নয়।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news