ভারতী ঘোষ:

মাটির গন্ধ খুব শক্ত গন্ধ, মিষ্টিও বটে। একবার নাকে এলে মনে হয় ধরে রাখি। গরিব মানুষের মুখের বাসি গন্ধও মাটির গন্ধের মতো শক্ত আর খুব মিষ্টি, গরিবের কাছে তো বটেই আর যে মানুষের হৃদয়টা খুব বড়, তারও কাছে।
সেই মিষ্টি গন্ধ ছেড়ে একজন প্রশ্ন করলেন, “দিদি, সারদায় যখন আমাদের টাকা গেল, সর্বস্বান্ত হলাম, তখন তো কেউ আমাদের জন্য এত সময় দেননি, আজকে রাজীব কুমার বাঁচার জন্য যত সময় পাচ্ছেন?
রক্ষাকবচ উঠে গেছে কিন্তু আগাম জামিনের জন্য মুখের ধস্তাধস্তি চলছে আর সেই ধস্তাধস্তির বস্তায় আমাদের মত গরিব মানুষের অধিকার গুলো চাপা পড়ে গেছে দিদি।”
আমি বললাম “হ্যাঁ, আমি যখন ছোট ছিলাম আমার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ও তোমরা যে ঈশ্বর, ঈশ্বর করো, তা তোমাদের সেই ঈশ্বর কোথায়?
বাবা আমাকে নিয়ে গেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বাইরে, হাইকোর্টের বাড়িটাকে দেখিয়ে বললেন, এটাতেই ভগবান থাকে, এটাই “হাউস অফ গডস” (House of Gods)।
অর্থাৎ এটাই ভগবানের বাসস্থান। সত্যিই তো তাই। মানুষ যখন ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয় তখন তো ঈশ্বর মানুষের মাধ্যমেই নেমে এসে বিচার দেন, ন্যায় দেন মানুষকে, বিশ্বাস দেন যে ঈশ্বর আছেন।
তাই অপেক্ষা করো, বিচার হবে, নিশ্চয়ই ন্যায় বিচার হবে।”
আমার প্রশ্ন যে “তাহলে দিদি যে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (PIL) এর ভিত্তিতে আজকে সারদা মামলা গৃহীত হয়েছে, তদন্ত চলছে, সেই পাবলিক অর্থাৎ জনগণ কেন শুনতে পাবেন না আদালতকক্ষে কি শুনানি হচ্ছে? কেন আজকে দরজা বন্ধ করে এই মামলার শুনানি হচ্ছে? এর আগেও তো সারদা মামলার শুনানি হয়েছে, মদন মিত্রের ক্ষেত্রে, আরো অনেকের ক্ষেত্রে তখন তো দরজা বন্ধ করে শুনানি হয়নি, এখন কেন?
এর উত্তর তো আমার কাছে ছিল না, তাই আমি দিতে পারিনি। হয়তো সময় এর উত্তর দেবে।
আজকে ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীদের বিরুদ্ধে ২৮ হাজার মিথ্যা মামলা বিভিন্ন থানায় দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীরা আইন আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সেই মিথ্যা মামলা লড়ছেন জামিনের জন্য। আবেদন করছেন, কোথাও গৃহীত হচ্ছে, কোথাও হচ্ছে না। আইনের এই রাস্তা ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা ভারতীয় দণ্ডবিধিতে জানা নেই। কিন্তু ২৮ হাজার ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীদের মধ্যে একজনও রাজীব কুমারের (Rajiv Kumar)মত এত রক্ষাকবচ আর আগাম জামিনের জন্য এত সময় পাবেন কিনা। আমার জানা নেই।
তবে আশাই মানুষকে, জীবনকে বাঁচিয়ে রাখে, পথ চলতে সাহস যোগায়, তাই আমাদের আশা যে সাধারণ মানুষ এক না একদিন ন্যায়বিচার পাবেন। এবং আমাদের সংবিধানের যে মূল্যবোধের নীতির দ্বারা আমাদের দেশ পরিচালিত অর্থাৎ অল আর ইকুয়াল ইন দি আইজ্ অফ ল ( All are equal in the eyes of law) অর্থাৎ “আইনের চোখে সবাই সমান,” তার ব্যাতিক্রম রাজীব মামলায় হবে না।
২০১৯ সালে এক অসত্যকে কেন্দ্র করে কলকাতা এক দৃশ্য দেখতে পায়, যেখানে সাধারণ মানুষ, যারা সারদা চিটফান্ড এর দ্বারা বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের টাকা ফেরত পাবার অধিকারকে উপেক্ষা করে, রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে এক রাজনৈতিক অসত্যাগ্রহ পালন করেন এক বিশেষ রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ নেত্রী। সত্যাগ্রহ কে রাজনীতির আঙিনায় নিয়ে আসেন তিনি। আর যদি গাঁধীজী বেঁচে থাকতেন, সত্যাগ্রহ শব্দটা হয়তো বাংলা অভিধান থেকে তুলে দিতেন।
তবে আমি মনে করি, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। ঈশ্বর আছেন আর আছেন সেই সমস্ত গরিব মানুষ যার মধ্যে ঈশ্বর বেঁচে থাকেন। সেই মাটির গন্ধ, সেই বাসি মুখের গন্ধ মনে করিয়ে দেয় যে সেই তৃতীয় বিশ্ব আজও আছে, আমাদেরই মধ্যে। সেই সমস্ত মানুষ যাদের কিছুই নেই, যাদের বঞ্চনার রঙে সারদা মামলা হয়ে উঠছে এত রঙিন, তাদেরই সংখ্যায় রয়েছে অপূরণীয় ভোটের শক্তি আর আজকে তারা অপেক্ষা করে আছেন, কখন ন্যায়ের ঘন্টাটা বাজবে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news