ভাস্কর মান্না
আমরা অনেকেই সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাইনা। অনেক বাড়ির বড়রা কুল খেতে বারণ করে আমাদের। কিন্তু জানেন কি? কেন কুল খেতে বারণ করেন তারা? না জানলে জেনে নিন।
আমরা সবাই জানি সরস্বতী বিদ্যার দেবী। আর বিদ্যা আমাদের সবার দরকার। তাই বিদ্যা পেতে গেলে, বিদ্যার দেবীকে প্রসন্ন করতে হয়। পুরাণ মতে, সরস্বতী দেবীকে প্রসন্ন করার জন্য মহামুনি ব্যাসদেব বদরিকাশ্রমে তপস্যা করেছিলেন। তপস্যা শুরুর পূর্বে সেখানে একটি কুল বীজ রেখে মহর্ষি কে কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়। বলা হয়, এই কুলবীজ অঙ্কুরিত হয়ে চারা হবে, চারা থেকে বড় গাছ হবে, বড় গাছে ফুল এবং ফুল থেকে নতুন কুল হবে। যেদিন সেই কুল পেকে ব্যাসদেবের মাথায় পতিত হবে, সেই দিন তার তপস্যা পূর্ণ হবে বা সরস্বতী দেবী সেইদিন প্রসন্ন হবে।
শর্ত অনুযায়ী, মহর্ষি ব্যাসদেবও তপস্যা শুরু করলেন। ধীরে ধীরে বেশ কয়েক বছর এই কুলবীজ অঙ্কুরিত হয়ে চারা, চারা থেকে বড় গাছ। বড় গাছ থেকে ফুল এবং ফুল থেকে নতুন কুল হয়। এরপর একদিন সেই কুল পেকে ব্যাসদেবের মাথায় পতিত হয়। তখন ব্যাসদেব বুঝতে পারেন যে, সরস্বতী দেবী তার প্রতি তুষ্ট হয়েছেন।
সেইদিনটি ছিল শ্রীপঞ্চমীর দিন। সেদিন বেদমাতা সরস্বতী কে বদ্রী/কুল ফল নিবেদন করেন। অর্চণা করে তিনি ব্রহ্মসূত্র রচনা আরম্ভ করেন। শ্রীপঞ্চমীর দিন সরস্বতী দেবী তুষ্ট হয়েছিলেন। তাই সেই দিনের আগে আমরা কুল ভক্ষণ করি না। শ্রীপঞ্চমীর দিন সরস্বতী দেবীকে কুল নিবেদন করার পরেই কুল ভক্ষণ করি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news