পার্থসারথি পাণ্ডা
‘ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায়?
বরকতের রক্ত।’
(‘একুশের কবিতা’- আল মাহমুদ)
উনিশশো বাহান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি, বরকতদের রক্তঝরার দিন, মায়ের ভাষায় বাঁচার দাবিতে আত্মদানের দিন। তখনও পড়শি দেশটি ‘বাংলাদেশ’ হয়নি। পাকিস্তানপন্থীদের হাতে পড়ে নাম হয়েছিল, ‘পূর্ব-পাকিস্তান’। ব্রিটিশের পর পশ্চিম-পাকিস্তানের আইনে, পুলিশের গুলিতে-বেয়নেটে এ-দেশের মানুষ যখন এক নতুন উপনিবেশবাদের পদধ্বনি শুনছিলেন, তখনই এই বাংলাভাষী মানুষগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হল ‘রাষ্ট্রভাষা উর্দু’। যে ভাষায় মায়ের মুখ থেকে শুনে শুনে শিশুর মুখে বোল ফোটে, আঁকা-বাঁকা পেন্সিলের রেখায় হাতেখড়ি হয়, পড়শিতে-পড়শিতে মনের কথা কয়, সে-ভাষা ভুলে শাসকের খেয়ালে অন্য ভাষাকে তাঁরা কেমন করে মেনে নেবেন! মিটিং-জমায়েতে ‘বাংলা’র দাবি জানাতে জানাতে সাতচল্লিশ থেকে একান্ন-এই চারটে বছর কেটে গেল। তারপর এলো বাহান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি।

সেদিন দুপুরে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’-শ্লোগান দিতে দিতে পথে নেমেছিলেন ঢাকার স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের সঙ্গে ভাষার টানে মায়ের টানে পা মিলিয়েছিলেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। সেদিন মিছিলের জনজোয়ার দেখে পুলিশের প্রতিরোধ এলো, লাঠিচার্জ হল, গুলি চলল। রক্তে ভিজল বাংলার মাটি, আহত হলেন অসংখ্য মানুষ। প্রাণ হারালেন তিনজন, আবুল বরকত, রফিক উদ্দীন আহমদ আর আব্দুল জব্বার। বরকত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, রফিক ছাপাখানার শ্রমিক আর আব্দুল জব্বার গ্রাম থেকে এসেছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে তাঁর এক আত্মীয়ের চিকিৎসা করাতে। সমস্ত পিছুটান পিছনে ফেলে মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের পথে পৃথিবীর বুকে তাঁরাই প্রথম ভাষা-শহীদ। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সারা পৃথিবীতে এই দিনটি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। আসুন, সেই অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা আজ একুশের প্রভাতফেরীতে বলি—
‘প্রভাতফেরী প্রভাতফেরী
আমায় নেবে সঙ্গে?
বাংলা আমার বচন, আমি
জন্মেছি এই বঙ্গে।’
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news